বার্তা সংস্থা আবনা : ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় মহারাষ্ট্র প্রদেশের ধুলে শহরে রেস্টুরেন্ট বিল পরিশোধ করাকে কেন্দ্র করে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের গুলিতে চারজন নিহত ও ১৭৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১১৩ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে।
পুলিশের বিশেষ মহাপরিদর্শক দেবেন ভারতি জানান, দাঙ্গার সময় বহুসংখ্যক দোকান-পাট ও মোটরসাইকেল ভাংচুর হয়েছে এবং রাস্তায় প্রচুর পরিমাণ ভাঙা কাঁচের টুকরো পড়ে রয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে।
তিনি আরো জানান, রেস্টুরেন্টে খাওয়ার পর এক ব্যক্তি বিল না দিয়ে চলে যেতে চাইলে মালিকপক্ষের সঙ্গে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ব্যক্তি তার সম্প্রদায়ের অন্তত ৫০ জন লোক ডেকে আনে। পরিস্থিতি দেখে রেস্টুরেন্ট মালিকপক্ষও তার সম্প্রদায়ের লোকজন জড়ো করে। এরপর সংঘর্ষ বাধে তবে দু'পক্ষের কারা কোন সম্প্রদায়ের তা জানাতে অস্বীকার করেন পুলিশের বিশেষ মহাপরিদর্শক দেবেন ভারতি। তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ প্রথমে টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ছোঁড়ে কিন্তু ব্যর্থ হয়ে তাজা গুলি ছোঁড়ে।
দাঙ্গার পর শহরে কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করেন দেবেন ভারতি।
মুম্বাই শহর থেকে ধুলের দূরত্ব হচ্ছে ৩৩০ কিলোমিটার এবং এ শহরে ২০০৮ সালে সংঘটিত দাঙ্গায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়। শহরে চার লাখ মানুষের বসবাস রয়েছে।
ভারতে মোট জনসংখ্যার শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ হিন্দু এবং ১৩ ভাগ মুসলমান। কাগজে কলমে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও দেশটিতে প্রায়ই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার ঘটনা ঘটে। বছর বিশেক আগে ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ভাঙাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের দাঙ্গা হয় এবং সে দাঙ্গায় নিহত হয় দু'হাজারে বেশি মানুষ। এর দশ বছর পর গুজরাটে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় আরো দু'হাজার মানুষ নিহত হয়।#রেডিও তেহরান