বার্তা সংস্থা আবনা : বাহরাইনের রাজধানী মানামায় আগুনে পুড়ে মারা গেছেন ১৩ শ্রমিক। এর মধ্যে ১০ জনই বাংলাদেশী। অগ্নিকাণ্ডে নিহত অন্য তিনজন পাকিস্তানের অধিবাসী। এছাড়া অগ্নিদগ্ধ ও আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন শ্রমিক। স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে একটি ভবনে আগুন লেগে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
নিহত বাংলাদেশীরা হলেন চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর চরখিজিপুর এলাকার শাকির আহমেদের ছেলে নাজির আহমেদ, পটিয়া উপজেলার পাথুয়া গ্রামের মাহবুব আলমের ছেলে রশিদ আহমেদ, মারিয়া এলাকার আবদুল আজিজের ছেলে জামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ওয়ালী গ্রামের নাছের মিয়ার ছেলে জসিম, কাইতলার শহীদ মিয়ার দুই ছেলে সাইফুল ইসলাম ওরফে সুজন ও স্বপন, বুড়িগ্রামের আবুল বাশারের ছেলে আনোয়ার, চাঁদপুরের কচুয়ার নওয়াপাড়ার আলমের দুই ছেলে শাহাদাত ও টিটো মিয়া এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির কাশীপুর এলাকার আবদুর রহিমের ছেলে ওসমান গনি।
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মহিদুল ইসলাম (শ্রম) জানান, তাদের সবার লাশ বাদশা হামাদ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। এসব লাশ বাংলাদেশে নেয়া সম্ভব কিনা তা দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনিও সেখানে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, এর বাইরে তিন বাংলাদেশী শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। তারা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা সবকিছু দেখভাল করছেন। বাহরাইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত হওয়ার খবর বাংলাদেশে স্বজনদের কাছে পৌঁছলে আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর, চাঁদপুরের কচুয়া ও সোনাইমুড়ীর কাশিপুরের বাতাস। প্রিয় সন্তান, ভাই, স্বামী, বাবাকে হারিয়ে এসব পরিবার এখন শোকে স্তব্ধ। আর এসব এলাকার সর্বত্র নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
বাহরাইনের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানায়, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে মানামার মুখারকা এলাকার তিন তলার আবাসিক ভবনটিতে (শ্রমিক ক্যাম্প) আগুন লাগে। এর পরপরই কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় সেখানকার আকাশ। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। ভবনটি থেকে অনেক শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। শট সার্কিট থেকে ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বাহরাইনে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রথম সচিব মহিদুল ইসলাম (শ্রম) জানান, ঘটনার পর আমরা সেখানে যাই। অনেক রাত পর্যন্ত আমরা সেখানে ছিলাম। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন আমাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পরই ভবনটি ধসে পড়ে। মহিদুল ইসলাম আরও জানান, আমরা প্রাথমিকভাবে জেনেছি, ১৩ শ্রমিক মারা গেছেন। তাদের ১০ জনই বাংলাদেশী।
বাহরাইনভিত্তিক দৈনিক গালফ নিউজ, বিবিসি এবং রয়টার্সের পক্ষ থেকেও অনুরূপ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। গালফ ডেইলি নিউজ জানিয়েছে, ভবনের ২৮টি কক্ষে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও ভারতের শ্রমিকরা গাদাগাদি করে থাকতেন। তবে ভবনটিতে বেশির ভাগ ছিলেন বাংলাদেশের শ্রমিক। প্রতিটি কক্ষে ৭ থেকে ১০ জন করে শ্রমিক থাকতেন। গালফ নিউজের খবরে আশংকা করা হয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কমপক্ষে ২০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। যাদের মধ্যে কমপক্ষে ১৩ জন বাংলাদেশী। তবে কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে এর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
প্রাথমিক হিসাবে, ভয়াবহতার দিক থেকে বাহরাইনে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম অগ্নিকাণ্ড। এর আগে ২০০৬ সালে মানামার গুধাইবিয়া এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে ১৬ শ্রমিক মারা গিয়েছিলেন। তবে প্রকৃত হিসাব পাওয়া গেলে এবারের অগ্নিকাণ্ড আগেরটিকে ছাড়িয়ে যাবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।#দৈনিক যুগান্তর