বার্তা সংস্থা আবনা : চলতি বছর পাকিস্তানে ড্রোন হামলা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টে গতকাল (শুক্রবার) এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তানে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর ওয়াশিংঠন যখন মার্কিন সেনাদের সরিয়ে আনার পরিকল্পনা ঘোষণা করতে যাচ্ছে তখন ড্রোন হামলা বাড়ানোর খবরটি প্রকাশিত হলো।
এ খবরে আরো বলা হয়েছে, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেয়ার আগে দেশটির সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত পাকিস্তানি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দুর্বল করার পদ্ধতি হিসেবে ড্রোন হামলাকে বেছে নেয়া হয়েছে।
এ খবরে আরো বলা হয়েছে, আমেরিকা ড্রোন হামলা বাড়ানোর মধ্যদিয়ে পাকিস্তানকে এ বার্তাও দিতে চায় যে, এ সব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এককভাবে লড়াইয়ের ক্ষমতা আছে ওয়াশিংটনের।
আমেরিকার বিশিষ্ট সন্ত্রাস বিরোধী বিশেষজ্ঞ সেথ জোনস এ সম্পর্কে বলেছেন, পাকিস্তানে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ পরিচালিত ড্রোন হামলা বেড়েছে। আর এর মাধ্যমে হয়ত আমেরিকা পাকিস্তানি গোষ্ঠীগুলোকে এ ইংগিতই দিতে চায় যে, তারা যেন আল-কায়েদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে না তোলে। কারণ, আফগানিস্তান থেকে বেশিরভাগ মার্কিন সেনা সরিয়ে নেয়ার পরও তাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করা ওয়াশিংটের জন্য কঠিন ব্যাপার হবে না।
জোনস আরো বলেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সংখ্যা কমানোর পর ড্রোনই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠবে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ যখন প্রকাশ্যে ড্রোন হামলার নিন্দা জানাচ্ছে তখন এ হামলা বাড়ানোর খবর প্রকাশিত হলো।
এরই মধ্যে এ ধরনের হামলা বৃদ্ধির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর (২০১২ সালে) যেখানে পাকিস্তানে ৪৩ বার ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে সেখানে নতুন বছরের আট দিনেই হামলা হয়েছে তিন বার। আর এসব ড্রোন হামলায় মারা গেছে অন্তত ৪৪ জন পাকিস্তানি। এর মধ্যে রয়েছেন তালেবান নেতা মোল্লা নাজির।#রেডিও তেহরান