বার্তা সংস্থা আবনা : বিশ্বের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ড্রোন হামলা এবং অন্যান্য টার্গেটেড কিলিংয়ের প্রভাব সম্পর্কে তদন্ত করবে জাতিসংঘ। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে এবং এর প্রধান করা হয়েছে ব্রিটেনের আইনজীবী বেন এমারসন কিউসি-কে।
তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, ড্রোন হামলার বিষয়ে একটা দায়িত্বশীলতা থাকা দরকার; সেইসঙ্গে দরকার ক্ষতিপূরণ দেয়া। এ ছাড়া, ড্রোন প্রযুক্তি যেভাবে দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে তাও একটা সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর আওতায় আনা দরকার।
বেন এমারসন জানান, ড্রোন হামলার প্রভাব নিয়ে বিশ্বের পাঁচটি জায়গায় তদন্ত করা হবে। এগুলো হচ্ছে- পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইয়েমেন, সোমালিয়া ও ফিলিস্তিন। এসব জায়গায় ২৫টি হামলার ঘটনা পরীক্ষা করে দেখা হবে।
তিনি সাংবাদিকদের আরো জানান, ড্রোন হামলা বেড়ে যাওয়ার ফলে সত্যিই আন্তর্জাতিক আইন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। যদি এখনই নিয়ন্ত্রণ করা না হয় তাহলে তা দিন দিন বাড়তেই থাকবে।
আন্তর্জাতিক এ তদন্তের সময় বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে। এর পাশাপাশি কথিত যেসব গেরিলা নিহত হয়েছে তাদের পরিচয় খুঁজে বের করা হবে এবং যেসব জায়গায় জাতিসংঘের অনুমোদন নেই সেসব জায়গায় কিভাবে ড্রোন হামলা হচ্ছে তাও তদন্ত করা হবে।
২০০৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানে ড্রোন হামলায় তিন হাজার ৪৬১ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে শতকরা অন্তত ৯০ ভাগ বেসামরিক ব্যক্তি বলে বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে। ড্রোন হামলা জর্জ বুশের আমলে শুরু হলেও প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে তা জোরদার হয়েছে। এমনও দেখা গেছে- ড্রোন হামলার পর সেখানে যেসব ব্যক্তি উদ্ধার কাজে নেমেছিল তাদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা হয়েছে।
ব্রিটিশ আইনজীবী এমারসন একে নিতান্তই যুদ্ধাপরাধ বলে উল্লেখ করেছেন।#রেডিও তেহরান