২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ - ২০:৩০

শ্রীলংকার নৌবাহিনী মিয়ানমারের নাগরিকদের বহনকারী একটি ডুবতে বসা জাহাজ থেকে ৩১ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।

বার্তা সংস্থা আবনা ধারণা করা হচ্ছে, সাগর পাড়ি দেয়া এ মানুষগুলো মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের। জানা গেছে, এই জাহাজটিতে থাকা আরও ৯৮ জন খাদ্যাভাব ও পানিশূন্যতার কারণে মৃত্যুবরণ করায় জাহাজ থেকে তাদের লাশ সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে সঙ্গীরা। শ্রীলংকার পুলিশ সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্সের।

ফেব্র“য়ারির ১৬ তারিখে উদ্ধারকারীরা একটি ভগ্নপ্রায় জাহাজ থেকে ৩১ জন জীবিত পুরুষ ও কিশোরকে উদ্ধার করে। শ্রীলংকার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল থেকে ২৫০ নটিক্যাল মাইল দূরে কাঠের তৈরি ওই জাহাজটি প্রায় ডুবে যাচ্ছিল। শ্রীলংকার পুলিশের মুখপাত্র প্রিশান্তা জায়াকোদি বলেন, “উদ্ধার হওয়ার আরোহীরা জানিয়েছেন, তারা এক মাসের উপযোগী খাদ্য ও পানি সঙ্গে নিয়েছিলেন। কিন্তু জাহাজের ইঞ্জিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা প্রায় দুই মাস ধরে সমুদ্রে ভাসছেন।”

তিনি আরও জানান, “জাহাজটির ক্যাপ্টেনসহ অন্য আরও ৯৭ জন খাদ্যাভাব ও পানিশূন্যতার কারণে মারা গেছেন। আর সঙ্গীরা ওই মৃতদেহগুলোকে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছেন।” জায়াকোদি বলেন, “বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা জানিয়েছেন, তারা ইন্দোনেশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় শরণার্থী হওয়ার লক্ষ্যে যাত্রা করেছিলেন। তারা সবাই মুসলিম এবং মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রামের অধিবাসী।” তিনি বিস্তারিত আর কিছু বলেননি।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের মধ্যে ১৫ জন এখনও দক্ষিণ শ্রীলংকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বাকি ১৭ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিলেও তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

প্রায় ৮ লাখ রোহিঙ্গা মুসলিম মিয়ানমারে বসবাস করলেও কাগজপত্রে তারা রাষ্ট্রহীন অবস্থায় রয়েছেন। অর্থাৎ মিয়ানমার সরকার দেশটির নাগরিকত্ব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসী বলে দাবি করছে।#যুগান্তর