২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ - ২০:৩০

মিয়ানমারের মুসলিমবিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গা ও সহিংসতার হাত থেকে ট্রলারে করে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে ৯৭ জন রোহিঙ্গা মুসলমান সাগরে অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন।

বার্তা সংস্থা আবনা : মিয়ানমারের মুসলিমবিরোধী ভয়াবহ দাঙ্গা ও সহিংসতার হাত থেকে ট্রলারে করে পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে গিয়ে ৯৭ জন রোহিঙ্গা মুসলমান সাগরে অনাহারে প্রাণ হারিয়েছেন। গত সপ্তাহে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী দেশটির উপকূলে একটি ট্রলার থেকে যে ৩৩ জন রোহিঙ্গা মুসলমানকে উদ্ধার করেছে তারা এই মর্মান্তিক ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তারা একটি ট্রলারে করে মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু পথে থাইল্যান্ডের নৌবাহিনী তাদের ট্রলারের ইঞ্জিন খুলে নিয়ে যাওয়ার পরই তাদের দুর্ভাগ্যের সূচনা হয়। ট্রলারটি এ সময় দিকভ্রান্ত হয়ে ভাসতে থাকে এবং এভাবে ২৫ দিন খাদ্য ও পানীয় ছাড়া ভেসে বেড়ানোর পর তাদেরকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। গত শনিবার শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে ২৫০ মাইল দূর থেকে এ সব হতভাগ্য ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ট্রলারটি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছিল। ট্রলারে একজন কিশোরসহ ৩২জন ব্যক্তি ছিল এবং তারা সবাই মারাত্মক পানিস্বল্পতা ও পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল। সাগর থেকে উদ্ধারকৃত এ সব হতভাগ্যকে কলম্বোর একটি অভিবাসন বন্দি কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সাইফুলাহ নামের এক রোহিঙ্গা মুসলমান বলেন, এভাবে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা যে বিপদজনক তা আমাদের জানা আছে; কিন্তু এ ছাড়া আমাদের জীবন রক্ষার আর কোনো উপায় নেই। মিয়ানমারে আমাদের কোনো চাকরি-বাকরি নেই এবং সেখানে মুসলমান বিরোধী লড়াই চলছে। তিনি আরো জানান, ট্রলারে ১৩০জন রোহিঙ্গা ছিল এবং প্রত্যেককে সাগর পাড়ি দেয়ার জন্য দালালদের হাতে ৪৬৫ ডলার করে তুলে দিতে হয়েছে। মিয়ানমার থেকে গত ১০ জানুয়ারি তারা রওয়ানা হয়েছিলেন বলেও জানান তিনি। এদিকে দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে সাগরে রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশন। রোহিঙ্গা মুসলমানরা যেন স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে সে লক্ষ্যে রাখাইন (আরকান) প্রদেশে সংহতি ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করার জন্য মিয়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। ২০১২ সালের জুন মাসে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু করে উগ্র বৌদ্ধরা। দেশটির সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় সংঘটিত ওই দাঙ্গায় হাজার হাজার মুসলমান নিহত ও লক্ষাধিক রোহিঙ্গা সহায়-সম্বল হারিয়ে পথে বসেন। উগ্র বৌদ্ধরা মুসলমানদের বহু গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়। ওই দাঙ্গা থেকে রক্ষা পেতে শত শত রোহিঙ্গা মুসলমান নৌকায় করে অজানা সাগরে পাড়ি জমায়। দাঙ্গা,সহিংসতা ও নির্যাতন পুরোপুরি বন্ধ না হওয়ায় রোহিঙ্গা মুসলমানদের পালিয়ে যাওয়ার এই প্রচেষ্টা এখনো অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গা মুসলমানরা বিগত অন্তত ৮০০ বছর ধরে মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) প্রদেশে বসবাস করে আসছেন কিন্তু এরপরও তাদেরকে নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে অস্বীকার করছে দেশটির সরকার।#দৈনিক যুগান্তর