আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : মিশরীয় দৈনিক আল-আহরাম লিবিয়ার এক বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে লিখেছে যে, লিবিয়ার বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে কোনরূপ রাজনৈতিক তত্পরতা এবং গণমাধ্যম এড়িয়ে চলার শর্তে গাদ্দাফী’র পরিবারকে এদেশে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে ওমান সরকার। আলজেরিয়া সরকার ইতিপূর্বে অফিশিয়ালি ঘোষণা করেছিল যে, গাদ্দাফী পরিবার আলজেরিয়া ত্যাগ করেছে।
ঐ সূত্র আরো জানিয়েছে : আশ্রয় গ্রহণকারী গাদ্দাফী পরিবারের মধ্যে তার স্ত্রী সাফিয়াহ, তার কন্যা আয়েশা এবং তার দুই পুত্র মুহাম্মাদ ও হানিবাল স্ত্রী ও সন্তানদের সাথে ওমানে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেছেন। ওমান সরকারও এ বিষয়ে লিবিয়া ও আলজেরিয়া সরকারের সাথে যোগাযোগ করেছে।
গাদ্দাফী’র স্ত্রী ও সন্তানরা লিবিয়ায় তার স্বৈরশাসনের পতনের পর প্রতিবেশী রাষ্ট্র আলজেরিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন।
এদিকে গাদ্দাফী’র অপর পুত্র সায়েদী’র স্ত্রী নাইজারে জীবন-যাপন করছেন। তার ভাই সাইফুল ইসলাম গাদ্দাফী এখনও লিবিয়ার যানতান শহরের কারাগারে বন্দী। আগামী মে মাসে তার বিচারকার্য শুরু হবে। গাদ্দাফীর ষষ্ঠ পুত্র ‘খামিস’ গণবিপ্লবের সময় সশস্ত্র এক সংঘর্ষে সরকার বিরোধীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন।
লিবিয়ার স্বৈরাচারী শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফী ২০১১ সালের অক্টোবর মাসে তার পুত্র মু’তাসিমের সাথে লিবিয়ার সেরত শহরে সরকার বিরোধীদের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে রহস্যজনকভাবে নিহত হন।
কয়েকদিন পূর্বে গাদ্দাফী’র চাচাতো ভাই এবং লিবিয়ার সাবেক সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ‘আহমাদ গাদ্দাফ আদ-দাম’ কায়রোর একটি অঞ্চল হতে কয়েক ঘন্টা সশস্ত্র প্রতিরোধের পর গ্রেপ্তার হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের প্রথম দিকে লিবিয়ায় গণজাগরণ শুরু হওয়ার পর বিদেশীদের হস্তক্ষেপে দীর্ঘ ৪২ বছর এ দেশের ক্ষমতায় থাকার পর মুয়াম্মার গাদ্দাফী’র পতন ঘটে এবং তিনি নিহত হন।#