১২ এপ্রিল ২০১৩ - ১৯:৩০
সৌদি রাজা মৃত? : প্রিন্সদের ক্ষমতার লড়াই জোরদার

সৌদি শাহজাদা বা প্রিন্সদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই দিনকে দিন জোরদার হচ্ছে বলে খবর আসছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : সৌদি শাহজাদা বা প্রিন্সদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই দিনকে দিন জোরদার হচ্ছে বলে খবর আসছে।

এ প্রসঙ্গে সৌদি আরবের রাজনীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ যেইদ আল এইসি ইরানের বার্তা সংস্থা ফার্সকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন,  সৌদি শাহজাদা বা প্রিন্সদের মধ্যে ক্ষমতার লড়াই সব সময়ই ছিল, তবে সৌদি রাজা আবদুল্লাহর দুই উত্তরসূরির মৃত্যুর পর গত দুই বছরে এই লড়াই তীব্রতর হয়েছে।

রাজা আবদুল্লাহর দুই উত্তরসূরি শাহজাদা নায়েফ ও শাহজাদা সুলতানের মৃত্যুর ঘটনা প্রিন্সদের ক্ষমতার লড়াই জোরদারে ভূমিকা রেখেছে। এ ছাড়াও রাজা আবদুল্লাহ মারা গেছেন বলেও বেশ জোরালো গুজব রটেছে।

যেইদ আল এইসি বলেছেন, সৌদি প্রিন্সদের নতুন প্রজন্ম বা অপেক্ষাকৃত কম বয়স্ক শাহজাদারা রাজা হতে চাচ্ছেন। অথচ তাদের আগের দুই বা তিন প্রজন্মের শাহজাদারা এখনও বেঁচে আছেন। তারাও অর্থাত সিনিয়র প্রিন্সরাও অপেক্ষা করছেন কখন রাজা আবদুল্লাহ মারা যাবেন এবং রাজার ক্ষমতা এখন প্রায় তাদের হাতের তালুর কাছেই ঘোরাফেরা করছে।

অসুস্থ সৌদি রাজা আবদুল্লাহর বয়স এখন ৯০। তার যেসব ছবি বা ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে সেগুলো আসলে গত বছরের বলে যেইদ আল এইসি জানিয়েছেন। সৌদি আরবে যাতে নৈরাজ্য বা অরাজকতা দেখা না দেয় সে জন্যই এইসব পুরনো ভিডিও প্রচার করে সৌদি গণমাধ্যমগুলো জনগণকে এটা বোঝাতে চাইছে যে রাজা আবদুল্লাহ এখনও বেঁচে আছেন।

সৌদি আরবের বৃদ্ধ প্রিন্স বা শাহজাদাদের সবাইই রাষ্ট্রের বড় বড় ও শক্তিশালী পদে আসীন। তাদের অনেকেই বার্ধক্যজনিত নানা রোগে আক্রান্ত। ফলে ক্ষমতার সোপান থেকে তাদের বিদায় প্রায় আসন্ন বা অনিবার্য। এমনকি সৌদি আরবের পররাষ্ট্র নীতির মূল কর্তা তথা পররাষ্ট্রমন্ত্রী সউদ আল ফয়সালও বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনি গত এক বছরে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বহু সম্মেলন বা বৈঠকে হাজির হননি।

এদিকে সৌদি আরবে, বিশেষ করে দেশটির পূর্বাঞ্চলে গণ-অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে। আর শাহজাদারাও একের পর এক মরতে থাকায় এ বিষয়টি দেশটির শাসকদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিশর, তিউনিশিয়া ও লিবিয়ার সফল গণ-বিপ্লবে অনুপ্রাণিত হয়ে সৌদি বিপ্লবীরা ভাবছেন যে, সৌদি আরবের বৃদ্ধ শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণ-বিপ্লবের এটাই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। অন্যদিকে সৌদি সরকারও কঠোর দমন নীতি অব্যাহত রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাচ্ছে। কিন্তু দমন পীড়নের নীতির কার্যকারিতা যে ফুরিয়ে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সফল বিপ্লব দেখেও সৌদি শাসকরা তা থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন না বলেই বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#