বার্তা সংস্থা আবনা : সাভার এলাকা ঢাকা মহানগর উন্নয়ন পরিকল্পনার (ডিএমডিপি) অন্তর্ভুক্ত। এখানে যে কোন ভবন নির্মাণ পরিকল্পনা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক। রানা পাজা ভবনের মালিক যুবলীগ নেতা সোহেল রানা এই বাধ্যবাধকতার পরোয়া করেননি। করলে হয়তো এত বড় ট্রাজেডি এড়ানো যেত। এত উঁচু একটি ভবন কোন নিয়মনীতি না মেনে নির্মিত হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, এ সময়ের মধ্যে রাজউকের নজর পড়ল না এ এক রহস্যময় ব্যাপার। স্থানীয়রা মনে করেন, ভবন মালিক তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার স্বার্থসিদ্ধি করেছেন।
রানা পাজা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় সাভার পৌরসভা। যদিও এত বড় একটি ভবনের অনুমোদন দেয়ার মতো কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন প্রকৌশলী, স্থপতি, নকশাবিদ ও জনবল তাদের নেই। এরপরও রাজউককে পাশ কাটিয়ে জমি মালিকের দাখিল করা নকশাতেই সিল মেরে তথাকথিত অনুমোদন দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। এরপর ভবনটি নির্মাণে কোন মানই রক্ষা করা হয়নি। জমি মালিক নিজের ইচ্ছেমতো নিুমানের সামগ্রী দিয়ে যেনতেনভাবে ৮ তলা পর্যন্ত নির্মাণ করেন। ভবনের অনুমোদনদাতা সাভার পৌরসভা কর্তৃপক্ষও পারেনি নির্মাণ কাজের মান রক্ষা করতে কিংবা তাদের অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ করাতে। জানা গেছে, অনেক আগে থেকেই রানা পাজার ত্র“টি ধরা পড়ে। প্রশাসন ও প্রকৌশলীরা পরীক্ষা করে ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করেন। কিন্তু ভবন মালিক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে গার্মেন্ট কারখানা চালু রাখেন। সাভার পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৮ সালে এখানে ৫তলা ভবনের অনুমোদন নেয়া হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণ করা হয়েছে নকশা ব্যতিক্রম ঘটিয়ে। পৌরসভার প্রকৌশল শাখার কর্মকর্তা মোঃ শফিক সাংবাদিকদের বলেন, পোশাক কারখানা করার মতো যথাযথ নকশা করেনি গার্মেন্ট মালিক। নির্মাণ ত্র“টির জন্য পিলারগুলো অতিরিক্ত লোড নিতে না পারায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। এসব কোন কিছুর তোয়াক্কা করেননি মালিক।
রাজউকের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ এমদাদুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ড্যাপ এলাকায় রাজউক ছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যে কোন ধরনের ভবন নির্মাণের অনুমতি দিতে পারে না। কিন্তু পৌরসভাগুলো এ আইন মানছে না। তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার মতো প্রয়োজনীয় লোকবল ও অভিজ্ঞতা পৌরসভাগুলোর নেই।
নিুমানের নির্মাণ সামগ্রী ও ডোবার মধ্যে নিয়মমাফিক পাইলিং না করার কারণেই সাভারের বহুতলবিশিষ্ট রানা পাজা ধসে পড়েছে। নির্মাণ কাজে স্ক্রাব থেকে তৈরি রড ও কমদামি সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়। সেইসঙ্গে কাজ চলে তড়িঘড়ি অবস্থায়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে ১৯৯২ সালে রানা অয়েল মিলের যাত্রা শুরু করে। ১৯৯৮ সালে সেটি ভেঙে রানা পাজা করার উদ্যোগ নেয়া হয়। তখনই পাশের জমি মালিক রবীন্দ্রনাথ সাহা পাগলার সঙ্গে রানার বাবা আবদুল খালেকের বিরোধ বাধে। এক পর্যায়ে পেছনের ডোবা ভরাট করে ৫২ শতাংশ জমির ওপর পুরোদমে নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এনিয়ে মামলা আদালত পর্যন্ত গড়ালেও রবীন্দ্রনাথ বেশি দূর এগোতে পারেনি। ২০০৬ সালে পৌরসভা থেকে ৬ তলা ভবনের অনুমোদন নেয়া হয়। এরপর ২০০৭ সালের পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে জমির মালিক আবার মাঠে নামলে র্যাব-৪ এর কর্মকর্তা কমান্ডার আরিফের কারণে তিনি আবার পিছু হটেন। ডোবা ভরাট করা হয় ময়লা আবর্জনা ফেলে। ২০১০ সালে মার্কেট উদ্বোধন করা হয়। ২০১২ সালে পৌরসভা থেকে আবার ১০ তলা করার অনুমোদন নেয়া হয়। সোহেল রানা সাভার পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও পৌর যুবলীগের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।
পৌর মেয়র আলহাজ মোঃ রেফাত উলাহ জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পিলারে ফাটল দেখা দেয়ার পর মার্কেট বন্ধ রাখার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। মূলত ডোবার মধ্যে যে ধরনের মালামাল দিয়ে ভবনটি তৈরি করা হয়েছে তাতে ধারণক্ষমতার অধিক লোক ও মালামাল থাকায় ‘লোড নিতে না পারায়’ এটি ধসে পড়েছে।
তদন্ত কমিটি গঠন : রানা পাজা ধসে পড়ার ঘটনায় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বুধবার বিকালে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) গোলাম মোস্তফা এর আহ্বায়ক। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা ও অথরাইজড অফিসার মোঃ হেলালউদ্দিন। রাজউক চেয়