বার্তা সংস্থা আবনা : সাভার ট্রাজেডিতে লাশের মিছিলের যে বহর তা যেন থামতেই চাচ্ছে না। একের পর এক ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হয়ে আসছে হতভাগ্যদের মৃতদেহ। কেবল লম্বা হচ্ছে লাশের সারি। ভবন ধসে সাভার ট্রাজেডির চতুর্থ দিনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিহতদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৫ জনে। এদের মধ্যে ৩২৭ জনের মৃতদেহ স্বজনদের কাছে হস্তানন্তর করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত জীবিত আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে ২৫০৭ জনকে। তবে এখনও ভবনটির নিচে কত জন আটকা রয়েছে তার সঠিক হিসাব জানা নেই কারও। মৃতদের বেশীর ভাগই নারী। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কা করছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পরে। এদিকে স্বজনদের মাতম সাভার থেকে শুরু করে এখন ৫৫ হাজার বর্গমাইলের গোটা দেশজুড়ে। নিহতদের অনেককেই নিয়ে নিজগ্রামে দাফন করেছে স্বজনরা। এর মধ্যে দিয়ে গ্রাম থেকে গ্রামে এখন শুধুই প্রিয়জন হারানো শোকের মাতম। গত বুধবার ‘রানা প্লাজা’ নামে ক্ষমতাসীনদের স্থানীয় দাপুটে নেতার মালিকানাধীন অবৈধভাবে নির্মিত নয়তলা ভবনটি ভেঙ্গে পড়ার সাথে সাথেই শুরু হয় উদ্ধার তত্পরতা। ধ্বংস স্তুপের ভেতর থেকে একে একে উদ্ধার করা হয় আহত-নিহতদের দেহ। সকাল গড়িয়ে বিকাল তারপর রাতের অন্ধাকারেও শত মৃত্যুর মিছিল অবিরাম। থেমে নেই উদ্ধার কাজও। ভবন ধ্বসের পর প্রথমে স্থানীয়রা, তারপর দমকল বাহিনী শুরু করে উদ্ধার তত্পরতা। কিছুক্ষণের মধ্যেই যোগ দেয় সেনাবাহিনী, র্যাব পুলিশ, আনসার, রেডক্রিসেন্টসহ অনেকেই। সে থেকে চলছে বিরামহীনভাবে উদ্ধার কাজ। অপেক্ষমান স্বজনদের উদ্বেগ, উত্কন্ঠা আর ধ্বংস্তুপের নিচে চাপা পড়ে থাকা মানুষের বাঁচার আকুতি। আহত মানুষের কান্না আর স্বজনহারাদের আহাজারিতে ভারি সাভারের জনস্রোত। ধসে পড়ার আগের দিন মঙ্গলবারই কয়েকটি পিলারে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয় ভবনটিতে। পিলার ফাটলে তেমন কিছু হয় না এমন ঘোষণা দিয়ে বুধবার সকালে পোষাক শ্রমিকদের কাজে যোগদিতে বাধ্য করে ভবন মালিক ও গার্মেন্ট মালিকরা। কিন্তু বুধবার সকাল ৯টায় চোখের পলকেই রানা পাজা নামের ৯ তলা ভবন পরিণত হলো ধ্বংসস্তুপে। স্থানীয়রা বলছেন, ভবনটিতে কাজ করতেন প্রায় ছয় হাজার শ্রমিক। এখনও ভবনটিতে বহু শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন। আর নিখোঁজদের সন্ধানে বিধ্বস্ত ভবনটির আশপাশে ভীড় করছেন স্বজনরা। মরদেহ ও আহতদের বের করে আনা হচ্ছে। ছুটে চলেছে এ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের দিকে। ছুটাছুটি নিখোঁজ স্বজনদেরও। সাভারের ভবন ধসের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। গঠিত কমিটিকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা এস এম আরিফুজ্জামান।
২৭ এপ্রিল ২০১৩ - ১৯:৩০
News ID: 413662
সাভার ট্রাজেডিতে লাশের মিছিলের যে বহর তা যেন থামতেই চাচ্ছে না। একের পর এক ধ্বংসস্তুপ থেকে বের হয়ে আসছে হতভাগ্যদের মৃতদেহ।