২৫ মে ২০১৩ - ০২:৫৫
আমিরুল মু’মিনীন আলী (আ.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী

১ম ইমাম হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্বের সকল মু’মিনদের প্রতি জানাই আন্তরিক মোবারকবাদ।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনা : আমিরুল মু’মিনীন আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) হস্তিসনের (আমুল ফিল) ৩০তম বছরে ১৩ই রজব পবিত্র কাবাগৃহ অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণ করেন। পৃথিবীর সবচেয়ে পবিত্র স্থান ‘কাবাগৃহ’ অভ্যন্তরে জন্মগ্রহণের ঘটনার নজীর আর নেই। হযরত আলী (আ.) এর পূর্বে না কেউ এ গৃহে জন্মগ্রহণ করেছে আর না পরে।

ইয়াযিদ ইবনে কা’নাব হতে শেইখ সাদুক ও ফাত্তাল নিশাবুরী বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন : একদা আমি আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব ও ‘আব্দুল উজ্জা’র একটি দলের সাথে কাবাগৃহের পাশে বসেছিলাম। এমন সময় ৯ মাসের অন্তসত্বা –আমিরুল মু’মিনীন (আ.) এর মাতা- ফাতেমা বিনতে আসাদ কাবা গৃহের নিকট এসে বললো : হে আল্লাহ্ আমি তোমার প্রতি এবং যে সকল রাসুল ও কিতাব তোমার পক্ষ হতে অবতীর্ণ হয়েছে তার প্রতি ঈমান পোষণ করি। আমার পিতামহ হযরত ইব্রাহিম (আ.) এর কথার সত্যতার সাক্ষ্য দেই। তিনিই এ বাইতে আতিক (কাবাগৃহ) নির্মাণ করেছেন। যে এ গৃহ নির্মাণ করেছে তার এবং যে সন্তান আমার গর্ভে রয়েছে তার দোহাই দিয়ে তোমার নিকট প্রার্থনা করছি সন্তান প্রসবকে আমার জন্য সহজ করে দাও।

ইয়াযিদ বিন কানয়াব বলেন : আমরা নিজের চোখেই দেখলাম যে, কা’বাগৃহের দেয়ালে ফাঁটলের সৃষ্টি হল এবং ফাতেমা সেস্থান দিয়ে কাবা অভ্যন্তরে প্রবেশ করে আমাদের চোখের আড়াল হয়ে গেলো। দেয়ালও আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে এল। আমরা কাবা’র দরজার তালা খুলতে চাইলাম কিন্তু তালা না খোলায় বুঝতে পারলাম যে, এটি মহান আল্লাহর ইচ্ছা। অতঃপর চারদিন পর ফাতেমা বিনতে আসাদ আলী (আ.) কে হাতে নিয়ে কাবাগৃহ হতে বেরিয়ে এসে বললো : আমি পূর্ববর্তী সকল নারীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব রাখি। কেননা আসিয়া গোপনে মহান আল্লাহর ইবাদত করতো, ঐ অবস্থায় যখন গোপনে ব্যতীত আল্লাহর ইবাদত সম্ভব ছিল না। ইমরানের কন্যা মারিয়াম, শুস্ক খোরমার বৃক্ষকে নিজের হাতেই নাড়া দিয়ে তা হতে তাজা খোরমা পেড়ে খেয়েছিলেন। কিন্তু আমি আল্লাহর গৃহ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে বেহেশতি ফল... খেয়েছি। যখন বেরিয়ে আসতে চেয়েছি তখন আহবানকারী আমাকে বললো : শিশুর নাম রাখো আলী... সে-ই পবিত্র কাবাগৃহ হতে মুর্তিগুলোকে ভেঙ্গে ফেলবে, সে-ই কাবাগৃহের ছাদে আযান দেবে এবং আমার পবিত্রতার সাক্ষ্য দেবে। সৌভাগ্যবান সে, যে একে ভালবাসবে এবং এর কথা মান্য করবে। ধিক হোক তার প্রতি যে, এর সাথে শত্রুতা পোষণ করবে এবং এর অবাধ্য হবে। [আমালিয়ে শেইখ সাদুক, মজলিশ নং ২৭, হাদীস ৯; রওজাতুল ওয়ায়েজীন, ১ম খণ্ড, পৃ. ৭৬; বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৩৫, পৃ. ৮; কাশফুল গুম্মাহ, পৃ. ১৯।]

প্রায় দেড় হাজার বছর পার হওয়ার পরও কা’বাগৃহের ঐ ফাঁটলের স্থানটি এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। বিভিন্ন উপায়ে ঐ ফাঁটলটি বন্ধ করার চেষ্টা করা হলেও ফাঁটলটি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি এবং কাবাগৃহের পর্দা সরালেই ফাঁটলের ঐ স্থানটি দেখা যায়। নিশ্চিতভাবে মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই এমনটি ঘটেছে এবং এত বছর পরও ঐ চিহ্ন উম্মতের জন্য নিদর্শন হিসেবে রয়ে গেছে।

আর এ ধরণের ঘটনার পৃথিবীর ইতিহাসে আর কারো জন্মের বেলায় ঘটেনি। এ কথার সপক্ষে স্বয়ং সুন্নি আলেমরাই স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ইবনে সাব্বাগ মালেকি ফুসুলুল মুহিম্মাহ গ্রন্থে এভাবে বলেছেন :

و لم يولد فى البيت الحرام قبله احد سواه و هى فضيلة خصه الله تعالى بها اجلالا له و اعلاء لمرتبته و اظهارا لتكرمته.

‘তিনি ছাড়া তাঁর পূর্বে কেউই কাবাগৃহে জন্মগ্রহণ করেনি, আর এটা হচ্ছে তাঁর জন্য বিশেষ ফজিলত যা মহান আল্লাহ্ তাকে দান করেছেন, যাতে জনগণ তার সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে অবগত হয় এবং তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে।’ [ফুসুলুল মুহিম্মাহ, পৃ. ১৪।]