১১ জুন ২০১৩ - ১৯:৩০
আলেপ্পোতে আরো অগ্রসর হয়েছে সিরিয় বাহিনী

সিরিয়ার সরকারি সেনারা দেশটির বহুল আলোচিত আলেপ্পো শহরে বিদেশি মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সাফল্য পেয়েছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : সিরিয়ার সরকারি সেনারা দেশটির বহুল আলোচিত আলেপ্পো শহরে বিদেশি মদদপুষ্ট বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে নতুন করে সাফল্য পেয়েছে। তারা আজ (বুধবার) আলেপ্পোর তাল কাফার হামরা এলাকাটির ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

সরকারি বাহিনীর সঙ্গে থাকা ইরানের ইংরেজি ভাষার নিউজ চ্যানেল প্রেস টিভির একজন সংবাদদাতা এ খবর দিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সেনা কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, “আলেপ্পোর দক্ষিণ অংশের পাশাপাশি উত্তর দিক দিয়েও সেনাবাহিনী শহরটিতে ঢুকে পড়েছে। বিদ্রোহীরা ক্রমাগত পশ্চাদপসরণ করে যাচ্ছে। তাদের পেছনে পড়ে থাকছে তাদের সহযোদ্ধাদের লাশ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ।“

ওই সেনা কর্মকর্তা আরো বলেছেন, “আমাদেরকে একইসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে হচ্ছে। সন্ত্রাসীরা আলেপ্পোর সর্বত্র ভূমিমাইন পেতে রেখেছে যা আমাদের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে রয়েছে।“

কৌশলগত আলেপ্পো শহর দখলমুক্ত করার অভিযানকে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সবচয়ে বড় অভিযান হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিদেশি মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীদের পরাস্ত করার জন্য শহরটির দুই দিক দিয়ে একযোগ সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনী।

সিরিয়ার বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর বেশিরভাগ এলাকা বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও কিছু এলাকা এতদিন ধরে সরকারি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শহরটির দক্ষিণ অংশে সেনা অভিযান চালানো হচ্ছে সরকারি বাহিনীর সরবরাহ লাইন মুক্ত রাখার জন্য। আর বিদ্রোহীদের রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে উত্তর অংশে চলছে অভিযান।

সমর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুসাইর হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর আলেপ্পো এখন বিদ্রোহীদের প্রধান ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। এ শহরটি সন্ত্রাসীমুক্ত করা সম্ভব হলে গোটা সিরিয়া থেকে তাদের উচ্ছেদ করা সম্ভব হবে। এ কারণে আলেপ্পোর অভিযানকে ‘সবশেষ অভিযানের শুরু’ বলে অভিহিত করেছেন তারা।

সিরিয়ায় ২০১১ সালের মার্চ মাসে শুরু হওয়া সহিংসতায় নিরাপত্তা বাহিনীর হাজার হাজার সদস্যবহ বহু মানুষ নিহত হয়েছে। দামেস্ক বলছে, আমেরিকা ও ইসরাইলের পাশাপাশি তাদের মিত্র সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক বিদ্রোহীদের পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে।

এ ছাড়া, সিরিয়ায় সরকারি সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশ থেকে আসা আল-কায়েদার সন্ত্রাসীরা।