আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : গতকাল শুক্রবার পাকিস্তানি শিয়ারা জুমআর নামায আদায় করতে এদেশের ‘চামাকনি’ অঞ্চলের শহীদ আরেফ আল-হুসাইনী মসজিদ সমবেত হয়েছিলেন। অস্ত্রধারী আত্মঘাতী এক ব্যক্তি মসজিদ প্রবেশ করে প্রথমে এলোপাতাড়ী গুলি ছুড়ে অতঃপর তার শরীরে থাকা বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে যে, আত্মঘাতী এ হামলায় আহলে বাইত (আ.) এর অন্তত ১৮ জন অনুসারী শহীদ এবং অপর ৪০ জন আহত হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আত্মঘাতী ঐ ব্যক্তি ৮ কিলোগ্রাম বিস্ফোরক দ্রব্য শরীরে নিয়ে নিরাপত্তা কর্মীদের চোখ ফাঁকি দেয়ে মসজিদে প্রবেশ করে মসজিদ অভ্যন্তরে মুসুল্লিদের মাঝে নিজেকে বিস্ফোরিত করলে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে।
এ বিস্ফোরণে পাকিস্তানের আধ্যাত্মিক নেতা আল্লামা শহীদ আরেফ হুসাইন হুসাইনী’র নাতি শহীদ এবং তার ভাই আহত হয়েছেন। এ হামলায় দু’জন আত্মঘাতী ব্যক্তির হত্যাকারী ‘ওয়ালি উল্লাহ’ও শহীদ হয়েছেন।
ন্যাক্কার জনক ও অমানবিক এ হামলার পর এ অঞ্চলের শিয়ারা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে সন্ত্রাসী এ হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেছে। মসজিদে হামলার প্রতিবাদে পেশোয়ার রাজ্যে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে কয়েক লাখ লোক অংশগ্রহণ করেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ, খায়বার পাখতুনখা রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী ‘শওকাত ইউসুফ যাই’ এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ‘হামিদ কারযাই’ সন্ত্রাসী এ হামলার নিন্দা জানিয়ে মুসলমানদের মসজিদ ও পবিত্র স্থানসমূহের উপর হামলা এবং মুসুল্লিদের রক্তপাত করাকে ইসলাম ধর্মের সাথে স্পষ্ট শত্রুতা পোষণ বলে আখ্যায়িত করে বলেছেন : ন্যাক্কার জনক এ হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা মানবতার শত্রু।
এ পর্যন্ত কোন দলই হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেনি
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার শতকরা ২০ ভাগ শিয়া মুসলমানদের নিয়ে গঠিত। বহুবছর যাবত তারা এদেশের নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ‘লাশকারে ঝাংভি’সহ অন্যান্য সন্ত্রাসী দলের হামলার শিকার হচ্ছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গত শুক্রবারের এ হামলার দায়িত্ব কোন দলই স্বীকার করেনি।
প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের করাচীসহ বিভিন্ন শহরে বোমা বিস্ফোরণ, সহিংসতা ও পরিকল্পিত হত্যা বিগত কয়েক মাস যাবত লক্ষ্যণীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনভাবে যে, গতবছর এদেশের শুধু করাচী শহরে ১ হাজার ১শ’রও বেশী লোক বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন।








