২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩ - ১৯:৩০
নির্বাচনের বিষয়ে ওয়াহাবি মুফতির নতুন ফতওয়া

ওয়াহাবি এক মুফতি যে কোন প্রকারের নির্বাচনকে কাফেরদের কর্মের সাদৃশ্য বলে আখ্যায়িত করে নির্বাচনকে হারাম ঘোষণা করেছেন!

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সৌদি আরবের বাদশা কর্তৃক এদেশের জাতীয় সংসদের সদস্য নিয়োগ দানের ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনার ধারাবাহিকতায় যখন সমাজের বিভিন্ন মহল ও সামাজিক ওয়েব সাইটসমূহ হতে নির্বাচনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে তখন শেইখ আব্দুর রহমান বোররাক তার নতুন এক ফতওয়ায় নির্বাচনকে হারাম ঘোষণা করে এ কর্মকে কাফেরদের কর্মের সাদৃশ্য বলে আখ্যায়িত করেছেন। গত বুধবার সৌদি আরবের গণমাধ্যমে প্রকাশিত শেইখ বোররাকের ঐ ফতওয়ায় এভাবে বলা হয়েছে যে, মজলিশে শুরা অথবা অন্য যে কোন সংসদের সদস্য নিয়োগের জন্য নির্বাচনের পদ্ধতিকে কাফেররা ইসলামি দেশসমূহে রপ্তানি করেছে এবং এহেন কর্ম হারাম।

তিনি বলেন : এ পদ্ধতির মাধ্যমে জ্ঞানী ও অজ্ঞ, পুরুষ ও নারী’র ভোট একই মানের অধিকারী আর এ বিষয়টি শরিয়ত ও বুদ্ধিবৃত্তির সাথে সাংঘর্ষিক।

ওয়াহাবি এ মুফতি আরো বলেছেন : নেতাকে সাধারণ মানুষরা নয় বরং অবশ্যই সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা নির্বাচন করবেন। নির্বাচন এমন একটি বিষয় যাতে ফ্যাসাদ রয়েছে, আর ইসলামের শত্রুরা এ বিষয়টি মুসলমানদেরকে শিক্ষা দিয়েছে এবং বুদ্ধিবৃত্তি ও শরিয়তের দৃষ্টিতে এ কাজ হারাম।

যারা সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামতকে মহান আল্লাহর নির্দেশের উপর প্রাধান্য দিতে জানেন তাদের মত ব্যক্তিদের জন্য সাধারণ জনগণের উপর সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া নতুন কোন বিষয় নয়। কিন্তু এ ধরনের ঘটনা কমই ঘটেছে যে, ওয়াহাবি শেইখরা যে সকল বিষয়ে বিশ্বের সকল গুণিজন মতৈক্য রাখেন সে বিষয়ে তারা এমন প্রকাশ্য বিরোধিতা করবে।

বোররাক গতবছরও নারীদের ভোট দান হারাম হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে নির্বাচনকে কাফেরদের কর্তৃক ইসলামি দেশসমূহে রপ্তানিকৃত অন্যতম জঘন্য প্রক্রিয়া বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।

উল্লেখ্য, আব্দুর রহমান বোররাক হলেন সেই ব্যক্তি যিনি হজ্বের সময় নারী পুরুষের একত্রে অবস্থানে বাধা দিতে কা’বাগৃহ ভেঙ্গে সেটা সংস্কার করার চাঞ্চল্যকর ফতওয়া দিয়েছিলেন।