আহলে বাইত (আ.) বার্ত সংস্থা আবনার রিপোর্ট : প্রতিদিনের ন্যায় গত ২৬শে সেপ্টেম্বরও বাগদাদের পূর্বে ‘সাদর’ শহরে অবস্থিত নিজ বাড়ীতে ৭ ছেলের জন্য নাস্তা বানিয়েছিলেন উম্মে হাসান।
স্কাই নিউজ এক প্রতিবেদনে লিখেছে : বাগদাদের পূর্বে সাদর শহরে অবস্থিত একটি ছোট বাড়ীতে ৭ ছেলে নিয়ে ৬৬ বছরের বৃদ্ধা উম্মে হাসানের বাস। প্রতিদিনের ন্যায় নাস্তা করে কাজের উদ্দেশ্যে বিদায় নিল হাটুর ব্যথায় পথ চলতে অক্ষম এ বৃদ্ধার ৭ ছেলে। বিকেলে তার ৭টি ছেলেই বাড়ীতে ফিরে আসলেও এক প্রতিবেশীর কুলখানী’র অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তার ৩ ছেলে পোশাক পরিবর্তন করে পুনরায় বেরিয়ে যায়।
ঠিক আধাঘন্টা পর বিস্ফোরণের বিকট এক শব্দে প্রকম্পিত হয় আশেপাশের অঞ্চল। ৩ ছেলের জন্য উদ্বিগ্ন বাড়িতে থাকা অপর ছেলেদেরকে সন্ধানে পাঠান উম্মে হাসান। অপর ৪ ছেলেও খালি পায়ে ঐ কুলখানী’র অনুষ্ঠানের দিতে দৌঁড়াতে থাকে।
ছেলেরা ফিরতে দেরী হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন উম্মে হাসান। অতি কষ্টে বাড়ীর বাইরে আসেন কিন্তু প্রতিবেশীরা উম্মে হাসানকে দেখে তাকে বাড়ী ফিরে যেতে সাহায্য করে।
কিছুক্ষণ পর হঠাত দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি ঘটে... উম্মে হাসানের জানা ছিল না যে, তিনি তার সন্তানদেরকে কোথায় পাঠিয়েছেন। কেননা তার সবকটা ছেলেই কুলখানী’র ঐ অনুষ্ঠানের সম্মুখে রাখা দু’টি গাড়ী বোমার বিস্ফোরণে নিহত হয়েছে।
বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশী ছিল যে, তার ৭ ছেলের একটিরও লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে উম্মে হাসান তার আত্মীয়ের বাড়ীতে অবস্থান করছেন।
উম্মে হাসান তার জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদকে গত সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলায় খুইয়েছেন। গত মাসে ইরাকে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলায় ২০০ ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছে। বর্তমানে ইরাকে সিরিয়াল বিস্ফোরণ ও নিরাপরাধ মানুষ হত্যা প্রতিনিয়ত একটি ঘটনায় পরিণত হয়েছে এবং এ সকল অপরাধকর্ম বন্ধ হওয়ার কোন আশা এদেশের জনগণের সামনে নেই।