বার্তা সংস্থা আবনা : বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার বিস্তার নিয়ে দেশবাসী স্বাভাবিকভাবেই উদ্বিগ্ন। তবে তার চেয়েও বেশি উত্কণ্ঠিত বিদেশি কূটনীতিকদের দৌড়ঝাপ দেখে।
বাংলাদেশের ব্যাপারে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের একটা বিশেষ স্বার্থের কথা দেশবাসী মোটামুটি অবগত। সম্প্রতি ভারতের শীর্ষ পর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, তারা বাংলাদেশে একটি ধর্মনিরপেক্ষ সরকার চায়।
এদিকে চীনও এবার প্রথম বাংলাদেশের ব্যাপারে খুব খোলাখুলি তাদের আগ্রহের কথা জানিয়ে দিয়েছে। গত এক মাসে চীনের রাষ্ট্রদূত অন্তত দু’দফা বলেছেন, তারা বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান কামনা করেন। তবে বিষয়টি এদেশের জনগণ ও রাজনীতিবিদদেরকেই আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে।
তবে বাংলাদেশের মানুষ এবার সবচেয়ে বেশি ততপর দেখতে পাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ঢাকায় নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনাকে। বিগত কয়েক মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তা কয়েক দফা ঢাকায় এসে সরকারি ও বিরোধীদলের নেতাদের সাথে কথাবার্তা বলে গেছেন।
ড্যান মজিনা নিজেও সরকারিদলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়াসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতার সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন।
ড্যান মজিনা গত সপ্তাহে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় রাষ্ট্রদুত পংকজ সরনের বাসায় মিটিং করেছেন। তাদের আলাপের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের ভবিষ্যত। এর পরপরই গত শুক্রবার ড্যান মজিনা ছুটে যান দিল্লিতে।
আজ (রোববার) ভারতের ইকনমিক টাইমস পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মজিনাকে ভারত আমন্ত্রণ করেনি তিনি নিজের গরজেই চলে গেছেন নয়াদিল্লিতে। মজিনা ভারতীয় কর্তা ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এসব কথাবার্তার বিষয়বস্তু ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যত।
আজ ঢাকায় খবর বেরিয়েছে, ড্যান মজিনা এবার চীন যাচ্ছেন। উদ্দেশ্য একই - বাংলাদেশের ভতিষ্যত কি হবে সেটা নির্ধারণ করা।
একটি স্বাধীন দেশ হিসাবে বাংলাদেশের ভবিষ্যত কি হবে সেটা বাংলাদেশের মানুষ ও দেশের রাজনীতিবিদদেরই ঠিক করার কথা । তাহলে ড্যান মজিনাদের এত দৌড়ঝাপ কেন?
এ প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ জাতীয় জনমুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক বামপন্থী নেতা ড. ফায়জুল হাকিম বলেন, দেশের শাসকশ্রেণির মধ্যে ক্ষমতার ‘কামড়াকামড়ি’র সুযোগে তাদের সাম্রাজ্যবাদী দোসররা এগিয়ে এসেছে যাতে এদেশে তাদের স্বার্থ রক্ষা পায়।
বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত, চীন ও মির্কিনীদের স্বার্থের দিকগুলো উল্লেখ করে সাবেক ছাত্র নেতা ও উন্নয়ন সংগঠক কামাল পাশা চৌধুরী রেডিও তেহরানকে জানান, রাজনৈতিক সংঘাতের পরিণতিতে এখানে যাতে কথিত ‘ইসলামী জংগিপনা’র বিস্তার না ঘটে সেজন্য এ তিন শক্তিই চিন্তিত। তাছাড়া এদের সরাসরি ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ তো আগে থেকেই আছে।
এ অবস্থায় বাংলাদ