২০ নভেম্বর ২০১৩ - ২০:৩০
সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি কে? (পর্ব ২)

১ম পর্বে আমরা সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি কর্তৃক প্রদত্ত কিছু হাস্যকর ফতওয়ার তালিকা উল্লেখ করেছিলাম, এ পর্বে আমরা ঐ ফতওয়াগুলোর কয়েকটির বিবরণ তুলে ধরবো।

* পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) পালন করা হারাম!

তিনি সৌদি দৈনিক ‘আল-মাদিনাহ’কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন : পবিত্র ঈদে মীলাদুন্নাবী (স.) পালন করা একটি ভিত্তিহীন বিদআত।

তিনি বলেন : মহানবী (স.) এর সুন্নতে এবং খোলাফায়ে রাশেদীন ও হেদায়েত দানকারী ইমামগণের জীবনচরিতে জন্মদিনে আনন্দ উত্সব পালনের কোন নজীর আমরা পাই না, এরই ভিত্তিতে মহানবী (স.) এর জন্মদিন তথা ঈদে মীলাদুন্নাবী পালন করা হারাম।

 

* ইয়াযিদের বিরুদ্ধে ইমাম হুসাইন (আলাইহিস সালাম) এর বিপ্লব ছিল একটি হারাম কর্ম!

ইরাকে অবস্থিত আহলে বাইত (আলাইহিমুস সালাম) এর সদস্যদের মাজার ভেঙ্গে দেওয়ার ফতওয়া প্রদানকারী আলেমদের অন্যতম সৌদি আরবের ওয়াহাবী এ মুফতি তার গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্যসমূহের কথা এভাবে উল্লেখ করেন, ইয়াযিদের কাজের সমর্থনে যুক্তি পেশ করা, আশুরার দিন রোজা রাখা এবং বিয়েসহ অন্যান্য আনন্দ-উত্সব পালন করা ইত্যাদি... তার গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য বলে তিনি জ্ঞান করেন। আর এ বিষয়টি বর্ণনা করতে তিনি কোন সুযোগকেই হাতছাড়া করেন না। আমার ভালভাবে মনে আছে যে, ২০১১ সালের শাবান মাসে উমরাহ’র উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়েছিলাম, ঐ সময় তিনি মসজিদুল হারামে বসেছিলেন এবং উমরাহ করতে আসা হাজীদের উদ্দেশ্যে এ বিষয়টির ব্যাখ্যা দিচ্ছিলেন।

এছাড়া তিনি সৌদি আরবের স্যাটালাইট চ্যানেল আল-মাজদ হতে সরাসরি প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে একজন নারী দর্শকের ইয়াযিদ ও ইমাম হুসাইন [আ.] এর সংগ্রাম সম্পর্কে করা এক প্রশ্নের জবাব তিনি এভাবে দেন : ‘এ ধরনের বিষয়ের ওপর আলোচনার যুগ পার হয়ে গেছে। তারা ছিলেন এমন একটি দল যারা গত হয়েছেন। যদি তারা ভাল বা মন্দ করে থাকেন তবে তারা নিজেদের জন্য করেছেন এবং আপনারা যা কিছু করছেন তা নিজেদের জন্যই করছেন, তাদের কৃতকর্মের জন্য আপনাদের কোন দায়বদ্ধতা নেই।

ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়ার বাইয়াত (আনুগত্যের শপথ) ছিল শরিয়ত সম্মত বাইয়াত; যা তার পিতা মুয়াবিয়ার যুগে জনগণ হতে গ্রহণ করা হয়েছিল এবং জনগণও বাইয়াত করার মাধ্যমে এ বিষয়ের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছিল। কিন্তু মুয়াবিয়া দুনিয়া হতে বিদায় নেওয়ার পর হাসান ও হুসাইন বিন আলী [আলাইহিমাস সালাম] এবং ইবনে যুবাইর তার হাতে বাইয়াত করতে অস্বীকৃতি জানায়।

বাইয়াত করার ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয়ে হুসাইন বিন আলী [আলাইহিস সালাম] ও ইবনে যুবাইর ভুলের শিকার হয়েছেন। কেননা ইয়াযিদের হাতে বাইয়াত ছিল শরিয়ত সম্মত। আর বাইয়াত তার পিতা মুয়াবিয়ার যুগে জনসম্মুখে গ্রহণ করা হয়। কিন্তু মহান আল্লাহ যা কিছু নির্দিষ্ট করেন সে বিষয়ে তিনি প্রজ্ঞাময় ও জ্ঞানী, আর ঐ সময় জীবন-যাপনকারী জনগণও মহান আল্লাহ্ কর্তৃক নির্ধারিত সে বিষয়ের ওপরই গত হয়েছে।

আপনাদেরকে আল্লাহর দোহাই দেই! এ বিষয়টি আমার উদ্ধৃতি দিয়ে বর্ণনা করাকে আমি পছন্দ করি না, এ বিষয়গুলো হচ্ছে এমন যা অতিক্রান্ত হয়েছে। ইতিহাসও এ বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে ব্যখ্যা দিয়েছে। কিন্তু যাই হোক না কেন এ আলোচনার সময় পার হয়েছে এবং শেষ হয়ে গেছে...। সহস্রাধিক বছর পূর্বে ইয়াযিদ এবং হুসাইনের মৃত্যু হয়েছে।

কিন্তু আমার আকিদামতে ইয়াযিদ বিন মুয়াবিয়ার হাতে বাইয়াত ছিল শরিয়ত মোতাবেক! এবং হুসাইনকে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল যাতে মদিনা হতে ইরাকের দিকে না যান, পাশাপাশি তাকে বাইয়াতেরও উপদেশ দেয়া হয়েছিল কিন্তু তিনি গ্রহণ করেননি।

ইবনে আব্বাস, ইবনে উমার ও ফারাযদাকসহ আরো অনেক সাহাবী তাকে ইরাকে যেতে নিষেধ করেছিলেন এবং তাকে বলেছিলেন : ইরাকে যাওয়া তার জন্য মঙ্গলকর হবে না। কিন্তু হুসাইন এ সকল উপদেশ উপেক্ষা করেন... আর যা কিছু মহান আল্লাহ লিখে রেখেছিলেন তাই ঘটেছে...।

কিন্তু এরপরও আমরা হুসাইনের জন্য মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির কামনা করি এবং তার জন্য ক্ষমার দাবী জানাই। মহান আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত বিষয়াদি বিশেষ প্রজ্ঞার অধিকারী যা সম্পর্কে আমরা অজ্ঞ...।

এ সকল বিষয় উল্লেখ করার উপকারীতা কি? হুসাইন যে ভুল করেছে তার জন্য সে নিজেই দায়ী। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আকিদা হচ্ছে, যার হাতে বাইয়াত করা হয়েছে এবং জনগণ যার চতুর্পাশে সমবেত হয়েছে তার নির্দেশ পালন করা ওয়াজিব!!! এবং তার অবাধ্য হওয়া ও তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা হারাম!!! আর এ কারণে ইয়াযিদের বিরুদ্ধে হুসাইনের বিপ্লব ছিল একটি হারাম কর্ম!!!...

আমরা বলি : ইয়াযিদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বিষয়ে হুসাইন ভুল করেছে, এ কাজ না করাটাই তার জন্য মঙ্গলকর ছিল এবং মদিনায় থেকে যাওয়াটাই ছিল তার জন্য মঙ্গলকর ও শ্রেয়। তাকে যতই বলা হয়েছিল যে, ইরাকের জনগণ তোমার পক্ষপাতী ও সমর্থক নয়, তিনি কারো কথা শোনেননি...।

আর সত্য বিষয়টি হল, ইরাক, সিরিয়া, মিশর, হেজাজ ও ইয়েমেনের জনগণ ইয়াযিদ ইবনে মুয়াবিয়ার সাথে তার পিতার জীবদ্দশাতেই বাইয়াত করেছিল এবং তার নেতৃত্বকে ও ইমামতকে গ্রহণ করেছিল। এ কারণে তার এবং তার খেলাফতের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা ছিল অবৈধ। এটাই হচ্ছে শেষ, এরচেয়ে বেশী আর কিছু বলতে চাই না এবং এর চেয়ে অধিক কিছুর উপর বিশ্বাসও রাখি না’।

মজার বিষয় হল, যে ভিডিও ক্লিপটিতে তিনি এ সব কথা বলেছেন, হযরত যায়নাব (সালামুল্লাহি আলাইহা) এর মাজারে হামলার ক্ষেত্রে ইদানিং ঐ ক্লিপটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

 

* ইয়েমেনীদের অত্যাচারী ইরান কর্তৃক সহযোগিত করা হারাম!

২০০৯ সালে ইয়েমেনের গণবিপ্লবের ঘটনায় শেইখ আব্দুল আযিয আলুশ শেইখ সৌদি দৈনিক আল-ওয়াতানকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে ইয়েমেনের যাইদী সম্প্রদায়ের অনুসারীদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানের বিষয়ে অভিযুক্ত করে এ ধরনের সহযোগিতাকে পাপ এবং অত্যাচার বলে আখ্যায়িত করেছিলেন।