২ ডিসেম্বর ২০১৩ - ২০:৩০
শিয়ারা হচ্ছে ভাইরাস / [...] শিয়াদের অন্যতম আকিদা!

ইসলামি মাযহাবগুলোর মধ্যকার দূরত্ব কমানের স্থলে মালয়েশিয়ার জুমআর খোতবাসমূহ বর্তমানে মুসলমানদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মালয়েশিয়ার জুমআর খোতবাসমূহের বিষয়বস্তু নির্ধারণকারী ও জুমআর নামায আয়োজনকারী সংস্থা Jakim, বিভেদ সৃষ্টি ও মিথ্যা তথ্য দানের মাধ্যমে শিয়া মাযহাবকে অবৈধ ও হারাম মাযহাব বলে পরিচয় করানো এবং এ বিষয়টি অন্য মাযহাবের মাঝে প্রসার ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : বেশ কিছুদিন যাবত মালয়েশিয়ার জুমআর খোতবাসমূহ, এদেশের মুসলমানদেরকে প্রয়োজনীয় ও উপকারী ধর্মীয় তথ্যাদি দিয়ে উপকৃত করা এবং তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করার স্থলে তাদেরকে পরস্পরের শত্রুতে পরিণত করা ও পরস্পরের বিরুদ্ধে তাদের মনে ঘৃণার জন্মদানের মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার ইসলামি এ সংস্থা (JAKIM) ইসলামি মাযহাবসমূহের মধ্যকার দূরত্ব কমানের স্থলে মালয়েশিয়ার জুমআর খোতবাসমূহকে মুসলমানদেরকে পরস্পরের বিরুদ্ধে উস্কে দেওয়ার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত করছে। মালয়েশিয়ার জুমআর খোতবাসমূহের বিষয়বস্তু নির্ধারণকারী ও জুমআর নামায আয়োজনকারী ইসলামি এ সংস্থা, বিভেদ সৃষ্টি ও মিথ্যা তথ্য দানের মাধ্যমে শিয়া মাযহাবকে অবৈধ ও হারাম মাযহাব বলে পরিচয় করানো এবং সেটাকে অন্য মাযহাবের মাঝে প্রসার ঘটানোর চেষ্টায়রত।

আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই যে, মালয়েশিয়ার প্রখ্যাত কবি ও লেখক এবং এদেশের জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত ব্যক্তিত্ব ‘আব্দুস সামাদ বিন মুহাম্মাদ’ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি জুমআর নামায আদায়ের জন্য আর জাতীয় মসজিদে যাবেন না। এর পরিবর্তে তিনি তামিল ভাষায় প্রচারিত ভারতীয়দের মসজিদে যাবেন, কেননা তিনি তাদের ভাষা বোঝেন না।

এ সপ্তাহের জুমআর নামাযের খোতবাসমূহে জাকিম দাবী করেছে যে, শিয়ারা জনগণকে লাওয়াত (সমকামিতা) এর প্রতি উত্সাহিত করে এবং অস্থায়ী বা চুক্তি ভিত্তি বিবাহ (বা মুতয়াহ বিবাহ) এর প্রতি সমর্থন জানায়। এ সকল খোতবায় আরো বলা হয়েছে : মালয়েশিয়ায় শিয়া মাযহাব বিস্তারের বিষয়টি তখন উদ্বিগ্নতার জন্ম দেবে যখন এর অনুসারীরা হবে সুশিক্ষিত ও ধর্মীয় বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা। আর তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় ও সমাজের শিক্ষিত শ্রেণীর মাঝে শিয়া মাযহাবের প্রসার ঘটানো।

‘শিয়ারা ভাইরাস’ শিরোনামে শুরু করা এ সকল খোতবায় বলা হয়েছে : শিয়াদের পাঁচটি মৌলিক আকিদা হচ্ছে, ‘সমকামিতার প্রতি উত্সাহিত করা’, ‘মহররম মাসে আযাদারী করা’, ‘অস্থায়ী বিবাহের প্রতি সমর্থন’, ‘সুন্নি মাযহাবের ধর্মীয় নিদর্শনসমূহের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া’ এবং ‘শিয়াদেরকে প্রকৃত আহলে সুন্নত হিসেবে নামকরণ করা’!

কিছুদিন পূর্বে মালয়েশিয়ান এ সংস্থাটি ১৯৯৬ সালে প্রদত্ত এক ফতওয়ার ভিত্তিতে ঘোষণা করেছে যে, শিয়া মাযহাব হারাম ও নিষিদ্ধ এবং মালয়েশিয়ার মুসলমানদের উচিত আহলুস সুন্নাহ’র রীতি-প্রথা ও আকিদার অনুসরণ করা।

অথচ ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ‘আব্দুল্লাহ আহমাদ বাদাভি’ ও তত্কালীন ধর্মমন্ত্রী ‘আব্দুল হামিদ উসমান’ কর্তৃক ‘আমান’ (নিরাপত্তা) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির মূখ্য উদ্দেশ্য ছিল ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন মাযহাব; আহলুস সুন্নাহ’র চারটি মাযহাব, জাফরী মাযহাব, যাইদি মাযহাব এবং ইবাদি ও তাহেরী মাযহাবকে স্বীকৃতি দেওয়া।

স্বাক্ষরিত এ চুক্তিপত্রে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, সুন্নি মাযহাবের চারটি ফের্কাহ (হানাফি, মালেকি, শাফেয়ী ও হাম্বালী) অথবা শিয়াদের দু’টি মাযহাব (জাফারী ও যাইদি) অথবা ইবাদি ও তাহেরী ফের্কাহ’র অনুসারীরা মুসলমান এবং তাদেরকে ধর্ম বহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করা যাবে না।

শিয়াদের বিরুদ্ধে উপর্যপুরি হামলার কারণে এ দেশের সাথে ইরান, ইরাক ও লেবাননসহ অন্য মুসলিম দেশের –যেখানে অধিক সংখ্যক শিয়া মুসলিম বসবাস করে- সম্পর্কে চিড় ধরেছে।

বলাবাহুল্য, জাকিম বিভেদ সৃষ্টির যে নীতি অবলম্বন করেছে এর কারণে মধ্যপন্থী একটি দেশ হিসেবে বৃহত মুসলিম দেশ মালয়েশিয়ার যে সুনাম এতকাল যাবত ছিল তাতে ছেদ পড়বে এবং দেশটির সুখ্যাতি বিনষ্ট করবে।

তাদের জানা উচিত যে, ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তিসমূহের একটি পরস্পরের প্রতি ভালবাসার উপর প্রতিষ্ঠিত। যদি মালয়েশিয়ান এ সংস্থা মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও শত্রুতা সৃষ্টির নীতি ধরে রাখে তবে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে স্বীকৃত ইসলাম তার ভাবমূর্তি হারাবে।