১২ ডিসেম্বর ২০১৩ - ২০:৩০
কাদের মোল্লার ফাঁসি

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনা : একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে তার ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এর আগে দুপুরে সর্বোচ্চ আদালত কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেন। পরে সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা কাদের মোল্লার সঙ্গে শেষ দেখা করেন। রাত ৮টায় একজন ম্যাজিস্ট্রেট, ঢাকার সিভিল সার্জন কারাগারে ঢুকেছেন। রাত ৯টা ২৮ মিনিটে জেল সুপার ফরমান আলী একটি টিম নিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে ঢোকেন। তিনি বলেন, জেলকোড অনুযায়ী জেল সুপারের নির্দেশে ফাঁসি কার্যকর হয়।

এর আগে থেকেই ছয়জন জল্লাদকে প্রস্তুত রাখা হয়। এদের নেতৃত্বে রয়েছে সিনিয়র জল্লাদ শাহজাহান ভূঁইয়া। ফাঁসি কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে সারা দেশে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষেরও খবর পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় কারাগারের চারপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একমাত্র মিডিয়া কর্মী ও কর্তৃপক্ষ ছাড়া অন্য কাউকেই প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এছাড়া আশপাশের প্রতিষ্ঠানের লোকদের সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

এদিকে রাত ৮টার দিকে কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাকসহ পাঁচ আইনজীবী দেখা করার জন্য আবেদন জানালে কারাকর্তৃপক্ষ তা ফেরত দেয়। কারাকর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তার সাজা কার্যকর করার সব প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হয়েছে। এখন আর তার সঙ্গে দেখা করতে দেয়া যাবে না।

এর আগে মঙ্গলবার কাদের মোল্লার ফাঁসি কার্যকরের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কারা কর্তৃপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, এদিন রাত ১২টা এক মিনিটে কাদের মোল্লার সাজা কার্যকর করা হবে। বিষয়টি জানতে পেয়ে ওইদিন সন্ধ্যায় কাদের মোল্লার আইনজীবীরা সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের বাসায় গিয়ে মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিচেনার জন্য রিভিউ আবেদন ও সাজা কার্যকর স্থগিত রাখার আবেদন জানান। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ওই দিন রাত ১০টা ২০ মিনিটে সাজার কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ প্রদান করলে ফাঁসি কার্যকরের বিষয়টি নাটকীয় মোড় নেয়। এরপর বুধবার সকাল থেকে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি হয়। দু’দিনের শুনানি নিয়ে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ কাদের মোল্লার রিভিউয়ের আবেদন খারিজ করে দেন। এর ফলে সাজা কার্যকরের প্রক্রিয়া আবারও সচল হয়।

খারিজ আদেশের পর রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেন, কাদের মোল্লার রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে খারিজ করে দেয়ায় তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে আর কোনো আইনগত বাধা নেই। চেম্বার জজের আদেশে যে প্রক্রিয়া বন্ধ হয়েছিল, তা এখন চালু হল।

এদিকে রিভিউ খারিজ আদেশের পর কাদের মোল্লার আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক ও খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেছেন, ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজের মধ্য দিয়ে তিনি ন্যায়বিচার পাননি। খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আমরা আশা করি এবং বিশ্বাস করি, দেশে যেখানে আইনের শাসন কায়েম আছে, সেখানে এ ধরনের রায় দিয়ে কাদের মোল্লার ওপর ন্যায়বিচার করা হয়নি। তিনি ন্যায়বিচার পাননি। সর্বোচ্চ আদালত রায় দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের আর কিছু বলার নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায় না পাব এবং রায় না পেয়ে কারা কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেবে না, এটাই সাধারণ নিয়ম, সাধারণ আইন। আবদুর রাজ্জাক বলেন, কাদের মোল্লা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। একজন সাক্ষীর ওপর নির্ভর করে (যে সাক্ষী তিন জায়গায় তিন ধরনের কথা বলেছেন) মৃত্যুদণ্ড প্রদান আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা মনে করি, রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি পাওয়ার পর সরকার যা কিছু করতে চায়, আইন ও কারাবিধি মেনেই তা করবে। কাদের মোল্লার ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়ে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ক্ষমা প্রার্থনার কথা তিনি ডিনাই (প্রত্যাখ্যান) করেননি। আমরা আজকে আদালতে বলেছি, ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রাণভিক্ষার জন্য তার হাতে সময় আছে। আগেও বলেছি, প্রাণভিক্ষা চাইবেন কিনা