১২ ডিসেম্বর ২০১৩ - ২০:৩০
আযারবাইজানে বিপ্লবী যুবকের শাহাদত

আযারবাইজানের আরো এক শিয়া যুবকের শাহাদাতের মধ্য দিয়ে দেশটির বিপ্লবী শিয়াদের উপর বাকু সরকারের চাপ পুনরায় বৃদ্ধির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে। গত সপ্তাহগুলোতে এ নিয়ে মোট দু’জন রাজনৈতিক ইস্যুতে গুপ্তহত্যার শিকার হল।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ‘আসেম মুহাম্মাদোভ’ নামক শিয়া এক আযারী যুবক শহীদ হয়েছে। বিগত সপ্তাহগুলোতে এ নিয়ে ২ জন শিয়া যুবককে রাজনৈতিক কারণে হত্যা করা হয়েছে। আর এর মাধ্যমে দেশটির বিপ্লবী শিয়াদের বিরুদ্ধে বাকু সরকারের চাপ পুনরায় বৃদ্ধির বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।

বাকু সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রাচ্য পরিচিতি’ বিষয়ক কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ‘আসেম মুহাম্মাদোভ’ (১৯) গত ১৬ই নভেম্বর (শনিবার) সাইবার ক্যাফে’তে যাবার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয়। এরপর থেকে তার আর কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। কয়েকদিন পার হয়ে গেলেও তার কোন সন্ধান কেউ দিতে পারেনি। এর মাঝে গণমাধ্যমও তার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ প্রচারিত হয়।

গত ২৬শে নভেম্বর (মঙ্গলবার) এ সংবাদ প্রচারিত হয় যে, ‘নদী হতে আসেম মুহাম্মাদোভের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে’!

আসেম মুহাম্মাদোভ ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী আযারবাইজানের সক্রিয় ইসলামপন্থীদের একজন। এছাড়া ফেইসবুকে তার তত্পরতা ছিল চোখে পড়ার মত।

সম্প্রতি তিনি মহররম মাসের গুরুত্ব ও মহত্বের বিষয়ে ইমাম খোমেনী (রহ.) এর বক্তব্যকে আযারী ভাষায় অনুবাদ এবং আযারী ভাষাভাষী বিভিন্ন ইসলাম ধর্ম ভিত্তিক ওয়েব সাইটের জন্য প্রস্তুত করেছিলেন। যা বেশ কয়েকটি ইসলামি সাইটে ১ মহররম হতে প্রকাশিত হয়।

তিনি রুশ, আযারি ও তুর্কি (ইস্তাম্বুলি) ভাষায় পারদর্শী ছিলেন এবং কাফকাজ নিউজ বার্তা সংস্থার রুশ ভাষার সাংবাদিক ও আযারবাইজানে একজন সক্রিয় মানবাধিকার কর্মী হিসেবে তত্পর ছিলেন।

সম্প্রতি আযারবাইজানের যুব সমাজ কর্তৃক গঠিত ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলনের সক্রিয় সদস্যও ছিলেন তিনি। চলতি বছরের ১লা এপ্রিল ধর্মীয় আলেম ‘আলহাজ্ব তালে বাকেরোভ’কে পুনরায় গ্রেফতার করা হলে এর নিন্দায় ‘নারদারান’ অঞ্চলে আয়োজিত প্রথম সমাবেশে তিনি জ্বালাময়ী বক্তব্য রাখেন। এ ঘটনায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কয়েক দিন আটক রাখার পর ছেড়ে দেয়।

মুক্তি লাভের পর আসেম ‘আল-হাজ্ব তালে বাকেরোভ’কে যে আদালতে বিচার করা হচ্ছে তার সম্মুখে আয়োজিত বেশ কয়েকটি গণসমাবেশে উপস্থিত হন এবং তালে বাকেরোভের সর্বশেষ শুনানীর দিন গ্রেফতার ও জরিমানার শিকার হওয়াদের তালিকাতেও তিনি ছিলেন।

এছাড়া তিনি তেহরানে অনুষ্ঠিত ‘উম্মাতে ওয়াহেদাহ’ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ফেইসবুকসহ বেশ কিছু ওয়েব সাইটেও তিনি লেখালেখি করতেন।

তিনি ছিলেন জায়নবাদের কঠোর বিরোধী এবং বিভিন্ন সমাবেশে তিনি তার এ দৃষ্টিভঙ্গী ব্যক্ত করতেন।

আসেম মুহাম্মাদোভের বন্ধু ও ফেইসবুকে তত্পর ‘সারদার হাসানোভ’ এভাবে লিখেছেন :

“আপনার দৃষ্টিতে কেন আসেম মুহাম্মাদোভের লাশ নদী হতে উদ্ধার করা হয়েছে?! সে আত্মহত্যা করেনি, বরং তার অপরাধ সে এম টি এন (আযারবাইজানের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়)-এর সাথে একমত ছিল না। তারা আসেমকে হত্যা করতে চাইতো এবং এ লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন কৌশলও অবলম্বন করেছে। তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। শত হুমকির মুখেও আসেম তাদের বশে আসেনি। আসেম ভালভাবেই জানতো যে, যদি তাদের সাথে একমত হয় তবে মৃত্যু তার জন্য অপেক্ষা করছে”।

ফেইসবুকে আসেমের সর্বশেষ লেখাটি ছিল এমন : “আমাকে নামায পড়তে দাও, তারপর আমার শিরোচ্ছেদ করো”।

হুসাইনোভ বলেন : “প্রিয় ভাই ও বোনেরা! আসেমকে হত্যা করা হয়েছে। তারা তার নিকট থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও রিপোর্ট গ্রহণ করতে না পেরে এবং নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে, তাকে হত্যা করেছে। কিন্তু আসেমের পথ অব্যাহত থাকবে এবং এ ভূখণ্ডে অনেক আসেমরই জন্ম হয়েছে।”

শিয়া এ যুবকের নিথর দেহ উদ্ধারের পর সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, তার লাশের ওপর কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং তিনি নদীতে ডুবে মারা গেছেন।

কিন্তু লাশ গোসল দেওয়ার সময় সিটি প্রসিকিউটের এ মিথ্যাচারের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। কেননা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। মজার বিষয় হল আযারী এ যুবক ছিলেন একজন দক্ষ সাতারু এবং তার বাড়ীটি ক্যাসপিয়ান সাগরের সৈকতে অবস্থিত।

ইসলামপন্থীরা মনে করছেন যে, আসেম মুহাম্মাদোভের হত্যার গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে তিনি ইসলামপন্থীদের সমর্থন করতেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী আযারবাইজানে ইসলামি জাগরণের প্রতিও তার সমর্থন ছিল।