আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : গতকাল শুক্রবার (২৭শে ডিসেম্বর) মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ মুরসি’র হাজার হাজার সমর্থকদের এদেশের সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে সারা দেশ ব্যাপী বিক্ষোভ মিছিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যক্তি আহত হয়েছে। কায়রো, মানিয়া ও দিমিয়াত শহরে নিহত হয়েছে ব্রাদারহুডের ৩ সমর্থক।
আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ ছাত্র ও নিরাপত্তা বাহিনীর মাঝেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে, ছাত্ররা বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় নিরাপত্তা বাহিনী’র সদস্যদের উদ্দেশ্যে ইট-পাটকেল ছুঁড়তে থাকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে নৈশকালীন সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ছাত্ররা এ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
এদিকে মিশরের বিভিন্ন অঞ্চল হতে গ্রেফতার করা হয়েছে আরো ২৭০ জনকে। মিশরের অস্থায়ী সরকার গত বুধবার মুসলিম ব্রাদারহুডকে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে আখ্যায়িত করার পর এ সহিংসতা পূনরায় বৃদ্ধি পায়।
সামরিক বাহিনী’র মদদপুষ্ট মিশর সরকার ঘোষণা করেছে যে, যদি মুসলিম ব্রাদারহুড কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভে এ সংগঠনের সমর্থকরা অংশগ্রহণ করে তবে তাদেরকে গ্রেফতার করা হবে।
এদিকে দেশটির সরকার গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করেছে যে, এদেশের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তত্পর এমন ২০০ ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মুরসি সরকারের পতনের পর সামরিক বাহিনী’র দমন মূলক আচরণে মুসলিম ব্রাদারহুডের যে সকল সদস্য প্রাণ হারিয়েছে মূলতঃ তাদের হত্যার বিচারের দাবীতে সারাদেশ ব্যাপী এ বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছে সমর্থকরা।
উল্লেখ্য, ৩ জুলাই (২০১৩) মুরসি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সামরিক বাহিনী দেশের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেয়। ঐ সময় হতে এ পর্যন্ত সামরিক বাহিনী’র সাথে সংঘর্ষে মুসলিম ব্রাদারহুডের শত শত সমর্থক নিহত হয়েছে।