২১ জানুয়ারি ২০১৪ - ২০:৩০
ইরানের দাওয়াত ফেরত নিল জাতিসংঘ

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ার শান্তি আলোচনা শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে ইরানকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করেছেন। সিরিয়ার বিরোধী দল শান্তি আলোচনা বয়কটের হুমকি দেয়ার পর নিজ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি।

বার্তা সংস্থা আবনা : জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সিরিয়ার শান্তি আলোচনা শুরুর আগে শেষ মুহূর্তে ইরানকে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তা প্রত্যাহার করেছেন। সিরিয়ার বিরোধী দল শান্তি আলোচনা বয়কটের হুমকি দেয়ার পর নিজ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন তিনি। সোমবার বানের মুখপাত্র মার্টিন নেসির্কি এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিবের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

জেনেভা-১ নামে পরিচিত, ২০১২ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত জতিসংঘের সিরিয়া-বিষয়ক প্রথম শান্তি আলোচনার সিদ্ধান্তগুলো ইরান মেনে চলবে, বানকে দেয়া ইরানি কর্মকর্তাদের এমন প্রতিশ্র“তির ভিত্তিতেই তিনি ইরানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন নেসির্কি।

জেনেভা-১ আলোচনা থেকে রাজনৈতিকভাবে সিরিয়ার সমস্যা সমাধানের জন্য একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কাছে দেশটির ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু এ প্রস্তাব সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ বা তার প্রধান মিত্র ইরান, মেনে নিতে ইচ্ছুক ছিল না। সোমবার ইরানি কর্মকর্তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন, শান্তি আলোচনায় যোগ দেয়ার জন্য তারা জেনেভা-১ আলোচনার সিদ্ধান্তকে ভিত্তি হিসেবে মেনে নেবে না।

সিরিয়ার বিরোধী দলের হুমকির বিষয়টি এড়িয়ে ইরানকে জানানো আমন্ত্রণ প্রত্যাহারে এই বিষয়টিকেই সামনে নিয়ে আসেন বান। তার পক্ষ থেকে নেসির্কি বলেন, ইরান যে প্রতিশ্র“তি দিয়েছিল, তার সঙ্গে আজকে ইরানি জনগণের মনোভাব খাপ খাচ্ছে না বলে মহাসচিব খুবই অসন্তুষ্ট। জেনেভা ঘোষণা মেনে নিয়ে আন্তর্জাতিক শান্তি আলোচনায় যোগ দেয়ার জন্য ইরানকে ধারাবাহিকভাবে আহ্বান জানিয়ে আসছেন তিনি।

কিন্তু ইরান এই বোঝাপড়ার বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ায় তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, ইরানের উপস্থিতি ছাড়াই এক দিনব্যাপী মন্ট্রেয়া আলোচনা এগিয়ে নেয়া হবে। এ ঘোষণার পরপরই সিরিয়ার বিরোধী দল তাদের হুমকি প্রত্যাহার করে জেনেভা-২ আলোচনায় যোগ দেবে বলে নিশ্চিত করেছে। সিরিয়ার সরকার বিরোধী জোট সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র মনজার আকবিক রয়টার্সকে বলেছেন, আমাদের অবস্থান বুঝতে পারার জন্য আমরা জাতিসংঘ ও বান কি মুনের প্রশংসা করছি।