আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহানবী (স.) এর প্রতি অবমাননা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রতি ইশারা করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্ধারণ বিষয়ক পরিষদে আরদেবিল প্রদেশের জনপ্রতিনিধি বলেছেন : পশ্চিমাদের এ ধরনের তত্পরতা ধর্ম ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক কাঠামো’র কারণে।
ওয়াহাবিরা ইসলাম ধর্মের আকর্ষণকে সরিয়ে তদস্থলে ঘৃণাকে স্থলাভিষিক্ত করতে চায় –এ কথা উল্লেখ করে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ হাসান আমেলি বলেন : এ ঘৃণাকে প্রসারের জন্য তারা সত্যই আপ্রাণ চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে এবং আল-কায়েদা ও তালেবানের ন্যায় সন্ত্রাসী গ্রুপ তৈরী করে ইসলাম ও মুসলমানের নামে বিভিন্ন ভয়াবহ অপরাধকর্ম চালাচ্ছে।
আরদেবিল প্রদেশে সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি বলেন : উদাহরণ স্বরূপ, পাকিস্তানি কিশোরী ‘মালালা ইউসুফ যাই’র উপর হামলাকে –তালেবানের দাবী অনুযায়ী মেয়েদের স্কুলে উপস্থিতির উপর নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করার কারণে হামলা চালানো হয়!- পশ্চিমা গণমাধ্যম একটি ইস্যু হিসেবে গ্রহণ করে এ বিষয়টির অপব্যবহার করে তালেবানদের আকিদাকে ইসলামের নামে পশ্চিমাদের সামনে উপস্থাপন করেছে।
আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার পক্ষ থেকে ইউরোপে অনুষ্ঠিত কয়েকটি ইসলামি সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী আয়াতুল্লাহ আমেলি বলেন : জার্মানীতে ওয়াহাবীদের মসজিদ নির্মাণের অনুমতি নেই। ওয়াহাবিদের অনূদিত ও প্রকাশিত ১০ লক্ষ কুরআন জার্মানীতে বিতরণ করার জন্য প্রেরণ করে হয়। কিন্তু যেহেতু মসজিদে তাদের অনুপ্রবেশ নেই তাই তারা সেগুলোকে মসজিদে বিতরণ না করতে পেরে বিভিন্ন সংস্থা, কেন্দ্র ও গণস্থানে বিতরণ করতে বাধ্য হয়।
বার্তা সংস্থা আবনাকে দেয়া এ সাক্ষাতকারে তিনি বলেন : প্রেরিত ১০ লক্ষ কুরআন শরিফের মধ্যে প্রায় ৩ লক্ষ কুরআন শরিফ বিতরণের পর জার্মান সরকার বিষয়টি বুঝতে পেরে এর বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। প্রতিক্রিয়ায় ওয়াহাবিরা পুলিশের উপর হামলা চালায়। আর এ হামলাই ছিল এদেশের দৈনিকগুলোর জন্য কাঙ্খিত গরম খবর। পরবর্তী দিন দৈনিকসমূহের প্রথম পৃষ্ঠায় এক হাতে কুরআন ও অপর হাতে ছুরি ধরা এক ওয়াহাবির ছবি প্রকাশিত হয়। অতঃপর ছবির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে লেখা হয়; পাঠক, দেখুন কুরআন এদেরকে ছুরি চালানোর শিক্ষা দিয়েছে!
আয়াতুল্লাহ আমেলি আরদেবিলী বলেন : এর সবটাই পূর্বপরিকল্পিত, তাদের মূখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে ইসলামের উন্নয়ন ও প্রসার রোধ করা।
হাওযা ইলমিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট এ শিক্ষক মধ্যপন্থাকে সৌন্দর্যের প্রতীক বলে আখ্যায়িত করে বলেন : গণমাধ্যম এবং শিল্পাঙ্গনে তত্পর ব্যক্তিদের কর্তৃব্য হচ্ছে ইসলামের সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটানো।
তিনি বলেন : মুস্তাহাব হল, যখন মুশরিক ও মুসলমানরা পরস্পরের মুখোমুখি এবং যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে, তখন যুদ্ধ শুরু করার পূর্বে মুসলমানদের মধ্য থেকে কেউ উঁচু কোন স্থানে দাঁড়িয়ে উঁচু স্বরে ইসলামের সৌন্দর্যের বিষয়ে কথা বলবে। এরপর যুদ্ধ শুরু হবে।
তার সংযোজন : হাদীসেও বর্ণিত হয়েছে যে, যদি সমাজকে সংশোধন করতে তলোয়ার নিয়ে সমাজে প্রবেশ করতে চাও তবে ‘ন্যায়নিষ্ঠা’কে তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করো।
মহানবী (স.) এর দৃষ্টিতে ইসলাম ধর্মে জিহাদের ক্ষেত্রে ‘সহিংসতা’ -এ বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেন : জিহাদের মূল দর্শন হল ধর্ম প্রচারের পথের বাধা দূর করা। ((سد عن سبیل الله)) অর্থাত যদি আল্লাহর কথা মানুষের নিকট পৌঁছুতে নবী (স.) কে বাধা না দেওয়া হয় তবে জিহাদের কোন প্রয়োজন নেই। কেননা তার কথা ও যুক্তি তলোয়ার অপেক্ষা তীক্ষ্ম।
তিনি আরো বলেন : মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেছেন : ‘যদি বাধ্য করা কথা ছিল, তবে তোমাকে বাধ্য করতে বলতাম না বরং আমি নিজেই এ পদ্ধতি অবলম্বন করতাম’। আর তাই তো মহানবী (স.) নাজরানের গভর্নর প্রেরণের পূর্বে তাকে ডেকে বললেন, ঐ এলাকার ধর্মযাজকদের ‘মুসলমান হও’ -এ কথা বলার অধিকার তোমার নেই।
আরদেবিল অঞ্চলে জুম্আর খতিব বলেন : ইসলামের প্রাথমিক যুগের কোন একটি যুদ্ধে মুসলিম বাহিনী’র এক সৈন্য তলোয়ার উঁচু করে মুশরিক এক সৈন্যকে হত্যা করতে উদ্যত হলে ঐ মুশরিক দ্রুত শাহাদাতাইন পাঠ করে। কিন্তু মুসলিম সৈন্য এর কোন তোয়াক্কা না করে তাকে হত্যা করে। মহানবী (স.) বললেন : ‘সে শাহাদাতাইন পাঠ করার পরও তাকে কেন হত্যা করলে?’ সৈন্য উত্তরে, ঐ মুশরিকের ঈমান দূর্বল এবং জীবন বাঁচানোর জন্য সে এমন কাজ করেছে বলে জানায়। কিন্তু মহানবী (স.) বললেন : ‘আন্তরিক ঈমান ও বাহ্যিক ঈমানকে চিহ্নিত করার দায়িত্ব আল্লাহর, তোমার নয়’। এ ঘটনাকে জাতিসংঘের প্রধান ফটকে ঝুলিয়ে দেয়া উচিত।
আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার সাধারণ পরিষদের এ সদস্য বলেন : মহান আল্লাহ্ স্বীয় নবী (স.)-এর উদ্দেশ্যে বলেছেন : ‘আর (যুদ্ধের সময়) মুশরিকদের কেউ যদি তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দেবে, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌছে দেবে।’। [সূরা আত-তাওবাহ : ৬]
বর্তমান বিশ্বের ভাষা হচ্ছে শিল্পের ভাষা –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : এ আয়াতের মাধ্যমে বিশ্বকে আকর্ষণ করা সম্ভব। এখন এ কথাটি শিল্পাঙ্গন ও গণমাধ্যমে তত্পর ব্যক্তিরা ছাড়া কে বিশ্ববাসীর নিকট পৌঁছে দিতে পারে?
আয়াতুল্লাহ আমেলী ‘মহানবী (স.) শীর্ষক বৃহত প্রতিযোগিতা’ আয়োজন কথা উল্লেখ করে বলেন : ইসলামের ধর্মের সৌন্দর্য পৃথিবীকে আকর্ষিত করতে সক্ষম, এটা তলোয়ারের চেয়ে অধিক তীক্ষ্ম এক অস্ত্র।
বলাবাহুল্য, ‘Holy prophet (sw.) grnad prix’ শীর্ষক প্রতিযোগিতা আহলে বাইত (আ.) বিশ্বসংস্থার উদ্যোগে এবং শিল্প ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তত্পর বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এ মেলা তিনটি বিভাগে; স্বল্প দৈর্ঘ ছায়াছবি (এ্যানিমেশন, গল্প ও ডক্যুমেন্টারী) স্ক্রিপ্ট রাইটিং এবং ইংরেজী ভাষায় গ্রন্থ রচনা ও অনুবাদ (মহানবী (স.) এর জীবনী ও তাঁর বিষয়ে উত্থাপিত বিভিন্ন সংশয়ের জবাব ভিত্তিক) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় বিজয়দেরকে মূল্যবান পুরস্কা