১ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ - ২০:৩০
আখেরি মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা

দুনিয়া ও আখেরাতের শান্তি লাভের আশায় মহান আল্লাহতায়ালার দরবারে দুই হাত তুলে লাখো ধর্মপ্রাণ মুসলমানের অশ্রুসিক্ত নয়নে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ৪৯তম বিশ্ব ইজতেমার পরিসমাপ্তি হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আবনা : মোনাজাতে মুসল্লিরা নিজের কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং কেঁদে বুক ভাসান। এ সময় টঙ্গীর তুরাগ নদের তীরে কয়েক লাখ মুসলমানের কণ্ঠে আমিন আমিন, আল্লাহু আমিন ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে ওঠে। মোনাজাতে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করা হয়।

রোববার সকাল ৯টা ৫৪ মিনিট থেকে ১০টা ১১ মিনিট পর্যন্ত ১৭ মিনিট স্থায়ী মোনাজাত পরিচালনা করেন তাবলিগ জামাতের মারকাজের শূরার সদস্য দিল্লির হজরত মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। তাৎপর্যপূর্ণ এই আখেরি মোনাজাতে আÍশুদ্ধি ও নিজ নিজ গুনাহ মাফের জন্য মহান রাব্বুল আলামিনের দরবারে রহমত প্রার্থনা করা হয়।

মোনাজাত চলাকালে পুরো ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। এ সময় ইজতেমা ময়দান এলাকায় সমবেত বিশাল জনসমুদ্রে এক অভূতপূর্ব ভাবাবেগের সৃষ্টি হয়। সর্বত্র এক পুণ্যময় পরিবেশ বিরাজ করতে থাকে। ইজতেমার ২য় পর্বে আখেরি মোনাজাতে মুসল্লিদের সঙ্গে সংসদ সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্রের কূটনীতিকরা শরিক হন। এছাড়া পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ দলমত, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমান আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

ইজতেমাস্থলের চারপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। আখেরি মোনাজাতের জন্য রোববার আশপাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে ছিল ছুটি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মোনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি মহিলারাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছেন।

আখেরি মোনাজাতের আগে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বিরা হেদায়ী ও সংক্ষিপ্ত বয়ানে বলেন, প্রত্যেক মুসলমানকে দিনের বেলায় মেহনত, রাতের বেলায় ইবাদত-বন্দেগি করতে হবে। দুটির একটি করলে ফায়দা হবে না। মেহনত ও ইবাদতের মধ্য দিয়ে মুসলমানের মৃত্যু পর্যন্ত দ্বীনের রাস্তায় অনড় থাকতে হবে। আখেরি মোনাজাতের দিন গতকাল সূর্য ওঠার শুরু থেকে উত্তরা বিমানবন্দর, আবদুল্লাপুর, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়কে আশুলিয়া-সাভার সড়কে ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কপথে ধনী, দরিদ্র, যুবক, বৃদ্ধ নির্বিশেষে হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। হেঁটে মুসল্লিরা ধাবিত হন ইজতেমা ময়দানে।

এদিকে ইজতেমাস্থলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অগণিত মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-কালীগঞ্জ সড়ক, আশুলিয়া-সাভার সড়ক এবং উত্তরা মডেল টাউনসহ আশপাশের এলাকা থেকে অগণিত মুসল্লি মোনাজাতে অংশ নেন। এছাড়া অসংখ্য মুুসল্লি স্থানাভাবে ইজতেমাস্থলের খালি জায়গা, মিল-কারখানার অভ্যন্তর ও ছাদে, ঘরবাড়ি, বেড়িবাঁধ, বিভিন্ন যানবাহনে উঠে এবং নৌকায় বসে মোনাজাতে শরিক হন। অনেকেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে মোনাজাতে শরিক হন। ইজতেমা ময়দানের বাইরে পর্যাপ্ত মাইক না থাকায় বহু ধর্মপ্রাণ মুসলমান সময়মতো আখেরি মোনাজাতে শামিল হতে গিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েন। শনিবার রাতে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে ও টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকায় ওই সড়কে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ ও মুসল্লিদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে।

গতকাল সকালে হেদায়েতি বয়ান করেন দিল্লির হজরত মাওলানা যোবায়েরুল হাসান। বয়ানে তিনি বলেন, আল্লাহর গজবের বড় স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। তিনি আল্লাহর রাস্তায় তাবলিগে দাওয়াতি কাজে হেঁটে মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেয়ার পরামর্শ দেন। কারণ হেঁটে বেশি মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেয়া সম্ভব হবে। এতে পায়ে যে ধুলাবালু লাগবে তা জাহান্নামের আগুনকে ঠাণ্ডা করে দেয়। তিনি তাবলিগের দাওয়াতি কাজে গিয়ে মানুষের কাছে ইহজগতের জন্য ছওয়াল করতে বারণ করে বলেন, যে জামাত ছওয়াল করে আল্লাহর সাহায্যের দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ছওয়াল করলে দি