আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : ‘আব্দুল ওয়াহেদ আল-মাজেদ’ ওরফে ‘আবু সুলায়মান আল-ব্রিতানিয়ায়ী’ আত্মঘাতী এক হামলায় নিহত হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে তার সাথে অন্তত ৩৫০ জন ব্রিটিশ নাগরিক সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে।
আবু সুলায়মান বিস্ফোরক দ্রব্য ভর্তি একটি ট্রাক আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বিস্ফোরণ ঘটানোর মাধ্যমে তার সহযোদ্ধাদের পথ উন্মুক্ত করেছে। ফলশ্রুতিতে কুখ্যাত সব সন্ত্রাসীরা ঐ কারাগার ছেড়ে পালাতে সক্ষম হয়েছে।
সিরিয়ায় যুদ্ধরত সন্ত্রাসীদের সাথে সম্পৃক্ত সংবাদ বিষয়ক ওয়েব সাইট, আলেপ্পো’র কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলার উদ্দেশ্যে প্রেরিত বিস্ফোরক দ্রব্য ভর্তি ঐ ট্রাকটির ছবি প্রকাশ করেছে।

তারা দাবী করেছে যে, ছবিটি আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় কারাগারে হামলার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় তোলা এবং ট্রাকটির চালক ছিল ‘আব্দুল ওয়াহেদ মাজেদ’ ওরফে ‘আবু সুলায়মান ব্রিতানিয়ায়ী’।
সিরিয়ার স্থানীয় সংবাদ সূত্র জানিয়েছে যে, ঐ ট্রাকটিতে অন্তত ২০ টন বিস্ফোরক দ্রব্য ছিল।

আব্দুল ওয়াহেদ মাজেদ ওরফে আবু সুলায়মান ব্রিতানিয়ায়ী
এ হামলাতে আব্দুল ওয়াহেদ আল-মাজেদ ছাড়াও জিবহাতুন নুসরাহ’র অন্যতম কমান্ডার ‘সাইফুল্লাহ চেচেনি’ও নিহত হয়েছে।
আলেপ্পোর কেন্দ্রীয় কারাগার সিরিয়ার বৃহত কারাগারসমূহের অন্যতম। বিগত এক বছরেরও অধিক সময় ধরে তাকফিরী সন্ত্রাসীদের দ্বারা অবরুদ্ধ কারাগারটি। বহুবার হামলা সত্ত্বেও ঐ কারাগারটি দখল করতে পারেনি তারা। এ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের হামলায় ঐ কারাগারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কয়েদী ও রক্ষী নিহত হয়েছে।
সিরিয়ায় যুদ্ধরত ব্রিটিশ এ নাগরিক প্রায় ৩ বছর যাবত ‘রায়াতুত তাওহিদ’ নামক একটি সন্ত্রাসী গ্রুপে তত্পর ছিল। এ গ্রুপটি আল-কায়েদার সাথে সম্পৃক্ত ইউরোপীয় নাগরিকদের দ্বারা গঠিত। তারা ইসলামের নামে সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে এসে বর্তমানে ঐ সকল নিরাপরাধ বেসামরিক লোকদের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে যারা তাদের আকিদাকে গ্রহণ করেনি।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সিরীয় বাহিনী’র বিভিন্ন অভিযানে হয়তবা এরপূর্বেও অনেক ইউরোপীয় দেশের নাগরিক নিহত হয়েছে কিন্তু এ ধরনের আত্মঘাতী হামলার ঘটনা এটাই প্রথম। এ থেকে প্রমাণ হয় যে, তারা যে উদ্দেশ্য নিয়েই সিরিয়াতে আসুক না কেন তাদের মগজ অত্যন্ত কঠোরভাবে ধোলাই করা হয়েছে।
তাদের মগজকে এমনভাবে ধোলাই করা হয়েছে যে, যুদ্ধকামী মুফতিদের মানবতা বিরোধী কোন ফতওয়া -এমনকি ‘মাহরামের সাথে জিহাদুন নিকাহ’ অথবা ‘বেসামরিক লোক হত্যার বৈধতা প্রদানে’র ন্যায় ঘৃণ্য ফতওয়াও- তাদেরকে চুল পরিমাণে নড়াতে সক্ষম হয়নি।
মোট কথা হল, সিরিয়ায় যুদ্ধরত ইউরোপের নাগরিকদের প্রকৃত সংখ্যা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। কেননা সিরিয়ার বাইরে থেকে যে সকল ব্যক্তিরা যুদ্ধের জন্য এদেশে আসে তারা কোন বৈধ সীমান্ত দিয়ে এদেশে প্রবেশ করে না। তাদের পাসপোর্টে কোন সিল মারা হয় না, এমনকি তাদের এ্যারাইভাল বা ডিপার্চার বিষয়ক কোন সিলও তাদের পাসপোর্টে লাগে না। পাশাপাশি এ সকল সীমান্তকে যুদ্ধের সরঞ্জাম ও অস্ত্রের চালান পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করা হয়।