১০ আগস্ট ২০১৪ - ০১:৪৪
গাজায় লণ্ডভণ্ড শিক্ষা ব্যবস্থা

ইসরাইলের হামলায় গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুদের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে আতঙ্ক।

আবনা : ইসরাইলের হামলায় গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিশুদের মনে প্রভাব বিস্তার করেছে আতঙ্ক। তারা এখন স্বাভাবিক চিন্তা, কাজ করতে পারছে না। অনেক শিশু আকাশে মেঘের গর্জন শুনলে মুরগির বাচ্চার মতো পালায় মায়ের কোলে। ইন্টারনেটে তুলনামূলক ছবিতে সয়লাব হয়ে আছে যে, গাজার ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় আগে কেমন ছিল আর হামলার পর এখন কেমন হয়েছে। আগের ছবিতে দেখা যাচ্ছে- এর বিশাল ভবন, সবুজ কাচ, ভালভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা ঝোপঝাড় এবং ভেতরে কর্মব্যস্ত মানুষ। হামলার পরের ছবিতে এসবের বিন্দুমাত্র প্রমাণ নেই! সব কিছু ভেঙে চুরমার হয়ে আছে। চারদিকে কেবল ধ্বংসলীলা। গত সপ্তাহে ২০ হাজার শিক্ষার্থী সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরাইলি বিমান হামলা হয়েছে। ইসরাইলিরা দাবি করছিল, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে অস্ত্র উৎপাদনের গবেষণাগার রয়েছে। ইসরাইল বলে, তারা বেসামরিক মানুষ ও বিদ্যালয়সমূহ লক্ষ্য করে হামলা চালায় না, শুধুমাত্র অস্ত্রধারীরাই তাদের লক্ষ্য হয়ে থাকে। সেটা সত্য হোক আর না হোক, আসল সত্য হচ্ছে যুদ্ধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি দীর্ঘমেয়াদিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গাজার শিক্ষা অবকাঠামো খাত। জাতিসংঘ কর্তৃক প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ইসরাইলি হামলায় ১৩৮টি স্কুল বিধ্বস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৪৯টি সরকারি ও ৮৯টি জাতিসংঘ চালিত স্কুল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী। একজন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ শুরু করার জন্য কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এসব পুনর্নির্মিত হবে, তা চিন্তাও করতে পারছি না। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের ৩ জন বিশেষজ্ঞ গাজায় ৭ বছর ধরে চলা অবরোধ, সামরিক অভিযান ও সামগ্রিকভাবে গাজার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মানসিক অসুস্থতা সমপর্কে সতর্ক করে দিয়েছেন। এর আগে ২০১২ সালের ইসরাইলি অভিযানে ২৪০টির মতো বিদ্যালয় ধ্বংস এবং বহু শিক্ষার্থী ও শিক্ষক নিহত হওয়ার কথা প্রকাশিত হয়েছিল জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে। ২০০৮ সালের ইসরাইলি হামলায় ২৮০টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ক্রমাগত হামলা ও মৃত্যুঝুঁকির ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সারাক্ষণ ভয় কাজ করে বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। বলা হচ্ছে, এবারের সংঘর্ষে গাজায় ১৮০০ মানুষ বা গাজার মোট জনসংখ্যার ০.১ শতাংশ মানুষ নিহত হয়েছেন। শুনতে অল্প মনে হলেও, আনুপাতিক হারে এটি বিশাল। যেমন যুক্তরাষ্ট্রে যদি ০.১ শতাংশ মানুষ মারা যেতো, তাহলে তার সংখ্যা দাঁড়ালো ৩ লাখ!