৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৪ - ০৬:৩৪
আইএস-এর টার্গেটে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ?

বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আবনা : বাংলাদেশে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত এই ব্রিটিশ নাগরিক ইরাক ও সিরিয়াভিত্তিক আইএস-এর সঙ্গে জড়িত বলে দাবি পুলিশের। সামিউন ওরফে ইবনে হামদান নামের এই তরুণকে গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করেন রবিবার রাতে। তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার প্রমাণ সংবলিত কিছু কাগজ-পত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গেছে, সামিউনকে গ্রেপ্তার করা হয় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হাফিজুর রহমান নামে আরেকজনের তথ্যের ভিত্তিতে। তার তথ্যমতে, বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত ব্রিটিশ নাগরিক সামিউন বাংলাদেশে আইএস-এর তৎপরতা জোরদার করার কাজ করছিল।
গত কয়েক সপ্তাহে আইএস-এর সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরো কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। গত বুধবার ঢাকা থেকে জঙ্গি তৎপরতায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আসিফ আদনান ও মো. ফজলে এলাহী তানজিল নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে আদনান সুপ্রিম কোর্টের সাবেক এক বিচারপতির ছেলে এবং তানজিলের মা যুগ্ম সচিব। তারা নাকি জিহাদে অংশ নিতে তুরস্ক ও সিরিয়া যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। গোয়েন্দারা গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুল্লাহ আল তাসনিম ওরফে নাহিদসহ সাতজনকে আটক করেন। তারাও আইএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল বলে গ্রেপ্তারের পর সংবাদমাধ্যমকে জানান গোয়েন্দারা।
মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান, বাংলাদেশে আইএস-এর অনুসারীদের তৎপরতা তাদের নজরে আসছে। কোণঠাসা হয়ে যাওয়া জঙ্গি সংগঠনগুলোর সদস্যরা ইরাক এবং সিরিয়ার ঘটনায় এখন নতুন করে আইএস-এর দিকে ঝুঁকছে। তারা উদ্বুদ্ধ হচ্ছে। তিনি জানান, এর আগে আইএস-এর সঙ্গে যোগাযোগ আছে বা যোগাযোগের চেষ্টা করছেন এমন কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। আর রবিবার আইএস-এর সঙ্গে সরাসরি জড়িত একজনকে আটক করা হলো।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানান, আটক সামিউনের কাছ থেকে তার ব্রিটিশ পাসপোর্ট, এটিএম কার্ড এবং ৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে যে, সে সিরিয়ায় আইএস-এর সদস্য হিসেবে যুদ্ধ করেছে। তার মোবাইল ফোনের এসএমএস থেকেও এর প্রমাণ পাওয়া গেছে।
মাসুদুর রহমান জানান, এর আগে আটক হওয়া দুজন জঙ্গি তাদের জানিয়েছেন সামিউন বাংলাদেশে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে আসে। আইএস-এর নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্যই সে বাংলাদেশে এসে কাজ শুরু করে৷ শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে আসার আগে থেকেই সে এখানকার জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। তিনি জানান, সামিউনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসবাদ করা হবে। আর তখনই জানা যাবে আইএস বাংলাদেশে আদৌ কোনো শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে পেরেছে কিনা।