আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : শুরুতে ইরাকে আল-কায়েদার একটি শাখা হিসেবে আইএসআইএলের নাম উঠে আসে। পরবর্তীতে সিরিয়ায় তাদের উপস্থিতি এবং এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উপর কৃর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তাদের সাথে নুসরা ফ্রন্ট (সিরিয়াতে আল-কায়েদার শাখা সংগঠন) রক্তক্ষয়ী বিভিন্ন সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ফলশ্রুতিতে সিরিয়ার দেইর এয-যোর প্রদেশে নুসরা ফ্রন্ট পরাজিত হয়।
নুসরা ফ্রন্ট ও তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ গ্রুপগুলো সম্প্রতি রাক্কাহ শহরে একটি প্রতিনিধি দল প্রেরণ করে এ সংঘর্ষের ইতিটানার আহবান জানায়। কিন্তু আইএসআইএল নেতারা তাদের আহবান নাকচ করে দিয়ে নুসরা ফ্রন্টের ঐ প্রতিনিধিদেরকে কাফের বলে আখ্যায়িত করেছে।
ইরাক ও সিরিয়াতে আইএসআইএলে’র শক্তি বৃদ্ধি পাওয়ার পর তারা ‘ইসলামি খেলাফত’ ঘোষণা করে এবং আইএসআইএল নেতারা বিশ্বের সশস্ত্র তাকফিরিদের প্রতি খলিফা হিসেবে ‘আবু বকর আল-বাগদাদি’র হাতে বাইয়াত করার আহবান জানায়।
বর্তমানে আল-কায়েদার শাখা সংগঠনগুলো আফগানিস্তান, সিরিয়া, সুমালিয়া এবং ইয়েমেনে সক্রিয়। আর এ গ্রুপগুলো পূর্বের ন্যায় এখনো আল-কায়েদা প্রধানের প্রতি বিশ্বস্ত এবং তারা (আল-বাগদাদি’র নেতৃত্বাধীন) আইএসআইএলকে স্বীকৃতি দেয়নি। এসত্ত্বেও আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী চক্র আল-কায়েদার সাথে জড়িত কিছু কিছু সশস্ত্র গ্রুপ আবু বাকার আল-বাগদাদী’র হাতে বাইয়াত করেছে ইতিমধ্যে। প্রাপ্ত সর্বশেষ সংবাদের ভিত্তিতে আলজেরিয়া ও পাকিস্তানের কয়েকটি তাকফিরি দল আবু বকর আল-বাগদাদির সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি ইয়েমেন ও মরক্কোতে আল-কায়েদার কিছু কিছু শক্তিশালী গ্রুপ বাগদাদির হাতে বাইয়াত না করলেও তাদের বার্তায় আইএসআইএলে’র প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে।
এদিকে আইএসআইএলে যোগদানের জন্য বিভিন্ন দেশের আল-কায়েদা সদস্যরা তাদের নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে সংবাদ পাওয়া গেছে। কিন্তু আল-কায়েদা নেতারা এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অটল এবং আল-কায়েদাকে আইএসআইএল থেকে পৃথক একটি দল বলে জ্ঞান করে তারা। আল-কায়েদার যুবক সদস্যরা মনে করছে যে, একদল বৃদ্ধ লোক আল-কায়েদার নেতৃত্বে দিচ্ছে এবং তাদের দ্বারা কোন কাজ হবে নয়। আর এটাই হচ্ছে আল-কায়েদা নেতাদের আইএসআইএলকে গুরুত্ব না দেয়ার অন্যতম কারণ।
উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে সন্ত্রাসীদেরকে জড়ো করতে আইএসআইএল কর্তৃক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের বিষয়টি ফেলে দেয়ার মত নয়। এ কাজে মূলতঃ ফেইসবুক ও টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইটগুলোকে ব্যবহার করে থাকে আইএসআইএল। আর এর মাধ্যমেই তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুবকদেরকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করে।#
১৮ নভেম্বর ২০১৪ - ০৩:৩৯
News ID: 652011
আল-কায়েদার যুবক সদস্যরা মনে করে যে, একদল বৃদ্ধ লোক আল-কায়েদার নেতৃত্বে দিচ্ছে এবং তাদের দ্বারা কোন কাজই সম্ভব নয়, আর এটাই আল-কায়েদা নেতাদের আইএসআইএলকে গুরুত্ব না দেয়ার অন্যতম কারণ।