১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ - ১২:৪৯
৩ ছাত্র হত্যার ঘটনাকে ভয়াবহ বললেন ওবামা

ক্যারোলিনায় ৩ মুসলিম ছাত্র হত্যার প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এ ঘটনাকে নির্মম ও অত্যাচারপূর্ণ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিন-পূর্ব অঞ্চলে ৩ মুসলিম ছাত্র হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনাকে নির্মম, ভয়াবহ ও নৃশংস বলে আখ্যায়িত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
চ্যাপেল হিল শহরে বর্ণবাদী এক ব্যক্তির গুলিতে প্রাণ হারান ‘যিয়া শাদি বারাকাত’ (২৩), তার স্ত্রী ‘ইয়াসার মুহাম্মাদ আবু সালহা’ (২১) এবং তার স্ত্রীর বোন ‘রাযান মুহাম্মাদ’ (১৯) নামের ৩ মুসলিম ছাত্র।
বারাক ওবামার উদ্ধৃতি দিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বাস ও আকিদাগত কারণে কোন ব্যক্তি হামলার শিকার হবে যুক্তরাষ্ট্রে এটা গ্রহণযোগ্য নয়। নিহত ঐ তিন ছাত্রের জানাযায় বিপুল পরিমাণ লোকের অংশগ্রহণ এটাকেই প্রমাণ করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ একটি পরিবারের সদস্যের মত।
জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন, নিহতদের জানাযায় বিপুল সংখ্যক জনতার অংশগ্রহণের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন : জানাযার অনুষ্ঠানে হাজার হাজার লোকের উপস্থিতিতে জনসাধারণের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে।
জাতিসংঘের অফিশিয়াল মুখপাত্র ‘স্টিফান দোগারিচ’ গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন : যখন চতুর্দিকে উদ্বেগ সৃষ্টিকারী টানাপোড়ন বাড়ছে এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত ও বিভেদ সৃষ্টি করতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও দল তত্পর, তখন তারা (নিহতরা) ছিল অন্যতম আদর্শ নাগরিক। যারা শান্তিপূর্ণ বিশ্ব তৈরী ও সমাজে সংহতি সৃষ্টির লক্ষ্যে চেষ্টা চালাতো। তারা ৩ জন মানবিক সাহায্যের লক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করতো। পুলিশ ক্রেইগ হিক্সকে (৪৬) তাদের হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আটক করেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্ত থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, গাড়ী পার্ক করার স্থান নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের ফলে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কিন্তু তাদেরকে মুসলমান হওয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে কিনা তা প্রমাণ করতে অধিক তদন্ত প্রয়োজন। তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট ‘রাজাব তায়েব এর্দোগান’ গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনার বিষয়ে নিরব থাকার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি’র সমালোচনা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ন্যায্য বিচারের দাবী জানিয়েছে মিশরের আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়। যাতে এ ধরনের অপরাধকর্মে ভবিষ্যতে আর না ঘটে এবং প্রাচ্য ও পশ্চিমের সম্পর্কে ফাঁটলের সৃষ্টি না হয়।#