আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : গতকাল (শুক্রবার, ২০শে মার্চ) ইয়েমেনের রাজধানী সানয়া’র দু’টি মসজিদে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে আইএসআইএলের তাকফিরি সন্ত্রাসীরা। উক্ত হামলায় ২৭০ এর অধিক মুসল্লি হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, সানয়া’র উত্তরে ‘আল-জাররাফ’ অঞ্চলে অবস্থিত ‘হাশাহুশ’ মসজিদে দু’টি এবং আস-সাফিয়াহ অঞ্চলে অবস্থিত ‘বদর’ মসজিদে দু’টি বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
হুথি বাহিনীর (ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মুভমেন্ট) নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে : গতকালের ঐ বিস্ফোরণে ৭৭ জন শহীদ হয়েছে।
তল্লাশি চেকপোস্ট পেরিয়ে বদর ও হাশাহুশ মসজিদে পৌঁছুতে সক্ষম হয় আইএসআইএলের আত্মঘাতী হামলাকারীরা। এ সন্ত্রাসী হামলায় আনসারুল্লাহ মুভমেন্টের অন্যতম মারজা এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ‘বদরে’র প্রধান মুর্তাজা বিন যায়েদ আল-মাহতুরিও শহীদ হয়েছেন। আত্মঘাতী সন্ত্রাসীদের একজন বদর মসজিদের প্রথম কাতারে আল্লামা শাইখ মুর্তাজা আল-মাহতুরি’র কাছাকাছি পৌঁছে সাথে থাকা এক্সপ্লোসিভ বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটালে আল্লামা মাহতুরিসহ বহু নামাযি শহীদ হয়।
পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শহীদদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। কোন কোন গণমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় শাহাদত প্রাপ্তদের সংখ্যা বেড়ে ১৩৭-এ পৌঁছেছে এবং আহত হয়েছে ৩৪৫ জন।
ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ মুভমেন্ট এক বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, আজকের (শুক্রবার) হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে তা ইয়েমেনের জনগণের অজানা নয়। হুমকি, ত্রাস সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষকে শহীদ করা হলেও বিপ্লবের মূল রাস্তা থেকে সরে যাবে না ইয়েমেনের জনগণ। আত্মরক্ষার জন্য কারো অনুমতির প্রয়োজন আমাদের নেই। কিভাবে সন্ত্রাসী হামলা ও অপরাধকর্মের মোকাবিলা করতে হয় তা আমরা ভালভাবেই জানি।
ঐ বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে : জাতির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ বিপ্লবের পথকে পূর্ণরূপে পাড়ি দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে গুরুতরভাবে দেখা দিয়েছে বর্তমানে।
বলাবাহুল্য, তিনমাস পূর্বে ইমাম মুসা কাযিম (আ.) মাদ্রাসাতে অনুষ্ঠিত উগ্রতাবাদ ও তাকফিরি মুভমেন্টের বিষয়ে যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল তাতে অংশগ্রহণ ও বক্তব্য রেখেছিলেন শহীদ আল্লামা আল-মাহতুরি।
তিনি, যায়দি এবং শিয়া (বারো ইমামি) ফিকাহকে একটি শরীরের দু’টি ডানা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন : যায়দি মাযহাবের এমন কোন গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ নেই যেখানে আমরা ইমাম বাকের (আ.) ও ইমাম সাদিক (আ.) থেকে হাদিস পাই না। আর প্রকৃত ইসলামি শিক্ষায় পৌঁছানোর একমাত্র সনদ হচ্ছে আহলে বাইত (আ.)।#









