আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : পাকিস্তানীদেরকে দ্রুত ইয়েমেন থেকে অপসারণের বিষয়ে পাক-প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নির্দেশ পাকিস্তান দূতাবাসে পৌঁছার পর এদেশে অবস্থানরত ৪৮২ জন পাকিস্তানী ইয়েমেন ত্যাগ করে। পাক-প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইয়েমেনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় এদেশে বসবাসরত পাকিস্তানীরা হুমকির সম্মুখীন। সুতরাং এদেশে থেকে পাকিস্তানীদেরকে দ্রুত অপসারণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দূতাবাসের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পাকিস্তানী নাগরিক এবং কূটনৈতিকদেরকে স্বদেশে ফিরিয়ে আনতে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান এবং একটি জাহাজ ইয়েমেনের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। এ নাগাদ প্রায় ৫০০ পাকিস্তানীকে ইয়েমেন থেকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনে অবস্থানকারী পাকিস্তানীদের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার।
গত সপ্তাহ থেকে ইয়েমেনের নিরীহ জনগণের উপর বিমান হামলা শুরু করার পর আরব জোটের সাথে যোগদানের জন্য পাকিস্তানের প্রতি আহবান জানায় সৌদি কর্তৃপক্ষ। সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করলেও ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান।
বহুবছর যাবত সৌদি আরবের মিত্র দেশ হিসেবে বিবেচিত পাকিস্তান। সৌদি আরব এবং দু’দেশের মাঝে গভীর সম্পর্কও থাকলেও ইয়েমেনে সামরিক অভিযানে এখনো অংশ নেয়নি পাকিস্তান।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক বিশ্লেষকরা ইয়েমেনের উপর সৌদি হামলাকে –আগ্রাসনে এ নাগাদ ১৫০ জনেরও বেশী শহীদ এবং শত শত ব্যক্তি আহত হয়েছে- আগ্রাসন এবং আন্তর্জাতিক বিধি লঙ্ঘন বলে আখ্যায়িত করেছেন। সৌদি ও তার মিত্রদের এ হামলা, মূলতঃ ফিলিস্তিন, লেবানন ও অন্যান্য আরব জাতির উপর ইসরাইলের হামলার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
নিঃসন্দেহে, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক আগ্রাসন যুদ্ধ অপরাধের অন্তর্ভুক্ত এবং আন্তর্জাতিক বিধি বিরোধী। তারা নিজেদের সরকারকে ইসলামি বলে দাবী করলেও তাদের এ পদক্ষেপ পরিপূর্ণরূপে ইসলামি শরিয়ত বিরোধী।#









