১১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ - ১৫:০১
তরুণ হাজিদের সংখ্যা বাড়ছে দিন দিন

ইসলামের পবিত্র হজ এখন আর শুধু বৃদ্ধদের ধর্মীয় আচরণ নয়। তরুণ প্রজন্মের প্রাণবন্ত মুসলিম হজযাত্রীরা মুসলমানদের বার্ষিক এ ধর্মীয় কর্তব্যের পাশাপাশি মক্কা নগরীকেই বদলে দিচ্ছেন।

আবনা ডেস্ক: ইসলামের পবিত্র হজ এখন আর শুধু বৃদ্ধদের ধর্মীয় আচরণ নয়। তরুণ প্রজন্মের প্রাণবন্ত মুসলিম হজযাত্রীরা মুসলমানদের বার্ষিক এ ধর্মীয় কর্তব্যের পাশাপাশি মক্কা নগরীকেই বদলে দিচ্ছেন। ব্রিটেন থেকে আসা হজপ্রত্যাশী ২৫ বছর বয়সী সানিয়া দ্বিতীয়বারের মতো সৌদি আরবের পবিত্র এ নগরীতে এসেছেন। তিনি বলছিলেন, ‘আপনি যত তরুণ হবেন, এটা (হজ পালন) তত সহজ। ১২ বছর আগে আমার পরিবার আর আমি এখানে এসেছিলাম ওমরাহ পালন করতে।’
সানিয়া আবার মক্কায় হজ করতে এসেছেন কারণ এটি যেমন ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা তেমনি জীবনের আমূল পরিবর্তন এনে দেয়। সানিয়ার মতোই এবার হজে করতে পবিত্র নগরীতে সমবেত হয়েছেন প্রায় ১৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ। শনিবার শুরু হয়েছে হজের আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ। প্রতিটি সচ্ছল মুসলমানের জীবনে একবার হজ পালন করা ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য।
এক হাতে কোমল পানীয় আর আরেক হাতে ফ্রেন্স ফ্রাই হাতে নিয়ে মক্কার পবিত্র কা’বা শরিফের পাশে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক সেন্টারে বসে কথা বলছিলেন সানিয়া। দারুণ সাজের সবুজ আর কালো বোরখা পরা সানিয়ার পাশে ছিলেন তার স্বামী। তিনি বলেন, আগে লোকজন হজ পালন করার জন্য বৃদ্ধ বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। কিন্তু আমাদের নতুন প্রজন্ম ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে অনেক বেশি ওয়াকিবহাল।
হাসিমুখে তিনি বলেন, তপ্ত রোদে হজের নামাজ আদায় আর দৌড়াদৌড়ি করা তরুণ বয়সেই বেশি সহজতর। ‘প্যারিস-মক্কা, সোশিওলজি অব দা পিলগ্রিমেজ’ বইয়ের লেখক ওমর সাঝি বলেন, হজ সারা জীবনের কোনো আধ্যাÍিক দিগন্ত নয়, এটা একটা যৌক্তিক ঘটনা। প্যারিস থেকে সস্ত্রীক হজে এসেছেন ৩৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ। তিনি বলেন, তাদের অনেক বন্ধুই ইতিমধ্যে হজ পালন করেছেন। তার স্ত্রী মাহিদার বয়স ২৮ বছর। তিনি শিক্ষা বিজ্ঞানের ছাত্রী। তাদের ট্রাভেল এজেন্সিও জানায় যে বহু তরুণ দম্পতিকে ইতিমধ্যেই তারা হজে পাঠিয়েছেন।
মোহাম্মদ বলেন, হজ একটা বাধ্যবাধকতা। সচ্ছল হওয়ামাত্রই হজ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। কার অথবা অন্যান্য পার্থিব উপকরণ কেনার পরিবর্তে এমন কাজে অর্থ ব্যয় করা উচিত যা আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতি করতে সক্ষম। লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে হজে এসেছেন মোহাম্মদ খাজমা। বয়স ২৭। তিনি একটি সিকিউরিটি টিমে কাজ করনে। খাজমা বলেন, তিনি আনন্দিত যে আল্লাহ তাকে হজ করার তওফিক দিয়েছেন। অনেকের ভাগ্যেই এই সুযোগ জোটে না।
লেখক সাঝি বলেন, এ ধরনের শিক্ষিত ও পর্যটনে অভ্যস্ত তরুণ প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা ধীরে ধীরে পবিত্র মক্কা নগরীর অবয়বকেই বদলে দিচ্ছে। এদের আকর্ষণ করার জন্য বড় বড় বিজ্ঞাপন দিয়ে কোম্পানি বলছে, তাদের হোটেলগুলো নতুন ক্লায়েন্টের মনোরঞ্জন করতে সক্ষম।
সানিয়া বলেন, ১২ বছর আগে তিনি যখন মক্কায় এসেছিলেন তখন তারা রাস্তায় খেতেন। কিন্তু এখন ফাইভ স্টার সেবার সুযোগ মিলছে। তবে খাজমা কোনো বিলাসিতার ধার ধারেন না। তিনি বলেন, এসব অভিজাত শপিং সেন্টার, এয়ার কন্ডিশনিং আর রেস্তোরাঁয় তার আগ্রহ নেই। তার পরিবর্তে তিনি কিছু খেজুর আর পানি নিয়ে পবিত্র কোরআন হাতে দুপুর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাবা শরিফেরই কাটিয়ে দেবেন। এএফপি