আবনা ডেস্ক: চলমান উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের উরি এলাকার সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলা এবং পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে ভারতের 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক'-এর পর দুই দেশের নিয়ন্ত্রণরেখায় চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে উভয় দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টারা সোমবার পরস্পরের সঙ্গে কথা বললেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আলোচনার পর সীমান্তে উত্তেজনা কমাতে সম্মত হয়েছে দু'পক্ষই। এদিকে, কাশ্মিরে ভারতীয় একটি সেনাঘাঁটিতে ফের সন্ত্রাসী হামলার খবর পাওয়া গেছে। উত্তর কাশ্মিরে গত রোববার রাতের ওই হামলায় বিএসএফের একজন জওয়ান নিহত এবং অন্য একজন আহত হয়েছে। শুধু রোববার রাতেই নয়, সোমবারও জম্মু ও কাশ্মিরের পুঞ্চে চারবার দু'পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। সংবাদসূত্র : ইনডিয়ান এক্সপ্রেস, দ্য হিন্দু, এনডিটিভি , জিও টিভি, এবিপি
সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাজির জানুয়া নিয়ন্ত্রণরেখায় চলমান উত্তেজনা নিরসনে একমত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন সারতাজ আজিজ। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় উত্তেজনা নিরসন করে কাশ্মিরে মনোযোগ দিতে চায় পাকিস্তান।
সারতাজ আজিজের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএনআই জানায়, আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগের পরই দুই সপ্তাহ ধরে চলমান যুদ্ধাবস্থার ব্যাপারে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা কথা বলেন। এর আগে গত রোববার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও এই সংকট নিরসনের আভাস দিয়েছিলেন। এক অনুষ্ঠানে মোদি বলেছিলেন, ভারত কখনোই কারো ভূখ-ে আক্রমণ করেনি।
সারতাজ আজিজ অভিযোগ করে বলেন, পাকিস্তান যখন উত্তেজনা কমাতে কাজ করছে, তখন ভারত যেন অন্য কিছু চাইছে। তবে সীমান্তের এই উত্তেজনা কোনো দেশের জন্যই মঙ্গলজনক হবে না। তিনি সর্বশেষ জাতিসংঘের সম্মেলনে বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দেয়া বক্তব্যের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। সেখানে নওয়াজ বলেছিলেন, 'ভারত-পাকিস্তানের সীমান্তে উত্তেজনা থেকেই যাবে।' আজিজ জানান, এ কথার মধ্য দিয়ে নওয়াজ বুঝিয়েছিলেন, সীমান্ত নিয়েই ভারত-পাকিস্তানের যত দ্বন্দ্ব। আর তাই সীমান্ত সমস্যার সমাধান না হলে এই উত্তেজনা শেষ হবে না।
ভারতশাসিত কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ সেনা নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানে 'সার্জিক্যাল স্ট্রাইক' চালিয়েছিল ভারতীয় সেনারা। তবে পাকিস্তান দাবি করে আসছে, সেটা সার্জিক্যাল স্ট্রাইক ছিল না; সীমান্ত সংঘর্ষ বা আন্তঃসীমান্ত গোলাগুলির ঘটনা ছিল। এতে তাদের দুই সেনা নিহত হয়েছে। এরপর সীমান্তে পাকিস্তানের হাতে ভারতীয় সেনা আটকের খবর এবং সর্বশেষ গত রোববার রাতে ভারতীয় সেনাছাউনিতে আবার জঙ্গি হানা_ সব মিলিয়ে দুই দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছিল।
দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েনে প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ও উদ্বিগ্ন ছিল। আমেরিকা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়গুলো প্রতিবেশী দেশ দুটিকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল।
কাশ্মিরে ভারতীয় সেনাঘাঁটিতে ফের হামলা
এদিকে, গত রোববার রাতে স্থানীয় স্টেডিয়াম কলোনিতে ৪৬ রাষ্ট্রীয় রাইফেলস-এর ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারে হামলার পর ভারতজুড়ে সার্চ অপারেশন শুরু হয়েছে। হামলায় একজন বিএসএফ সদস্য নিহত এবং অন্য একজন আহত হয়েছে। আহত জওয়ান রাষ্ট্রীয় রাইফেলস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জঙ্গিরা শেষ রাতের দিকে হামলা চালায়। এরপর তিন ঘণ্টা গোলাগুলি চলে। তবে রাত ১টার পর আর কোনো গোলাগুলির ঘটনা ঘটেনি।
একজন সিনিয়র সেনা কর্মকর্তা জানান, হামলাকারীরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে হয়তো পালিয়ে থাকতে পারে। তবে এর আগে 'দ্য হিন্দু' জানিয়েছিল, গোলাগুলির সময় দুই হামলাকারী নিহত হয়েছে। তাই সোমবার সকালে হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সার্চ অপারেশন শুরু হয়েছে। এছাড়া সোমবার সকালেও নিয়ন্ত্রণরেখায় ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।
ভারতীয় সেনা সূত্রের খবর, সোমবার জম্মু-কাশ্মিরের পুঞ্চে চারবার দু'পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিএসএফের আউটপোস্ট লক্ষ্য করে ক্রমাগত ১২০ মিলিমিটার মর্টার ছোড়া হয়েছে। এর পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়েও ভারতীয় সেনাদেরও টার্গেট করা হয়েছে।
এদিকে, উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকায় সীমান্ত এলাকায় বাস করা মানুষদের অন্য জায়গায় সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে জম্মু-কাশ্মির রাজ্য সরকার। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে, সীমান্তে বাড়িঘর ফেলে আসা মানুষদের জন্য খালি করতে বলা হয়েছে সরকারি ভবন, যদিও সীমান্তের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা ইতোমধ্যে সরে গেছে নিরাপদ এলাকায়। এছাড়া পাক হামলার ভয়ে অনেকেই রাতে বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, ফিরে আসছে সকাল হলে।
৪ অক্টোবর ২০১৬ - ১৭:৩২
News ID: 783400
চলমান উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে।