আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): দেশ পরিচালনায় অক্ষমতার ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন খাতে বহুসংখ্যক বিদেশী এক্সপার্টকে নিয়োগ দানকারী আলে সৌদ, সম্প্রতি বছরগুলোতে আরব বিশ্বের উপর কর্তৃত্বের স্বপ্ন দেখতে থাকে।
কয়েক দশক আগে জামাল আবদেল নাসেরে’র সময় আরব বিশ্বের নেতৃত্বে ছিল পিরামিডের দেশ মিসর। কিন্তু ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে মিসরসহ কয়েকটি আরব দেশ, জায়নবাদী ইসরাইলের কাছে পরাজিত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে মিসরের ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। সাদাত ও মোবারকের যুগে মিসর কার্যত পাশ্চাত্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি বছরগুলোতে সৌদি আরব, পরবর্তীতে ছোট্ট দেশ কাতার তেল সম্পদ থেকে আসা অঢেল অর্থের জোরে আরব বিশ্বকে শাসনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আর এ প্রতিদ্বন্দিতার বাস্তব রূপ সিরিয়াতে প্রতিফলিত হল।
২০১১ সালে সরকার বিরোধী বিক্ষোভ, অতঃপর সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর হঠাৎ করে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর অবস্থান সিরিয়াতে দেখা যায়। সর্বশক্তি নিয়ে সন্ত্রাসীদের পাশে অবস্থান নেয় সৌদি ও কাতার। একেঅপর থেকে পিছিয়ে পড়ার ভয়ে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে সহযোগিতা দিতে শুরু করে তারা।
২০১৪ সালের ৩রা জুন ইরাকের বিপর্যয়ের সূচনা হয়। সন্ত্রাসী গোষ্ঠি দায়েশ (আইএসআইএল) ইরাকের বিরাট একটি অংশ দখল করে নেয়। ঐ সময় থেকে সৌদি আরব ও কাতার উভয়েই সন্ত্রাসী গোষ্ঠি দায়েশকে সহযোগিতা করেছে, যা বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে।
কিং সালমান সিংহাসনে বসার পর আরব বিশ্বের নেতৃত্ব হাতে নেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে এবং মুহাম্মাদ বিন সালমানকে উপযুবরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দানের মাধ্যমে আক্রমাণাত্মক অবস্থান নেয় সৌদি এ শাসক। ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ প্রতিবেশী মুসলিম দেশ ইয়েমেনের উপর আক্রমনও এর ধারাবাহিকতায় ঘটেছে। সিরিয়া বিপর্যয়ের বিষয়ে হস্তক্ষেপ সৌদি আরবের সাবেক কিং আব্দুল আযিযের যুগে শুরু হলেও, বর্তমান রাজার যুগে ইসলামি দেশগুলোর বিপক্ষে সৌদি আরবের আক্রমণাত্মক অবস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। এ দেশগুলো যাতে সৌদি নীতির সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে সে লক্ষ্যেই এ ধরনের অবস্থান।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি কিং ‘আব্দুল্লাহ’র মৃত্যুর পর সৌদি আরবের সপ্তম বাদশা সালমান বিন আব্দুল আযিয সিংহাসনে বসেন। ৮২ বছরের অসুস্থ এ বাদশা প্রসিদ্ধ ৭ ‘সুদাইরি’ সহোদরদের একজন। যারা বেশ কয়েকবছর ধরে বিভিন্ন পদে সৌদি আরবের ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ করছে; তিনি যখন ক্রাউন প্রিন্স ছিলেন তখন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে ছিলেন। এর আগে ৪৮ বছর যাবত রিয়াদ প্রদেশে গভর্নরের দায়িত্বে ছিলেন।
আব্দুল আযিযে’র দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন: (সাবেক) সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে সিরিয়ার সরকার বিরোধী ও তাকফিরি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার বিষয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
বিগত বছরগুলোতে আলে সৌদের বিভিন্ন পদক্ষেপ সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনের মুসলিম জনগণের জন্য হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনেনি। এটাও অজানা যে, সৌদিরা আরব বিশ্বের নেতৃত্ব হাতে নেয়ার জন্য আরও কত মুসলমানের রক্ত ঝরাবে।
আরব বিশ্বের মোড়ল হিসেবে আত্মপ্রকাশের জন্য বিগত বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়েছে আলে সৌদ। ‘অর্থ ও অস্ত্র সৌদি আরবের জন্য ক্ষমতা নিয়ে আসবে’ –এমন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে বিপুল পরিমাণে অস্ত্র ক্রয় করেছে দেশটি। অথচ এ বিষয়টি তারা বেমালুম ভুলে গেছে যে, নেতৃত্বের বিষয়টি অর্থ, অত্যাচার, অপরাধ ও অস্ত্রের মাধ্যমে হস্তগত হয় না।
কয়েক দশক আগে যখন আরব বিশ্বের নেতৃত্ব মিসরের হাতে ছিল, তখন জামাল আবদেল নাসেরে’র মত ব্যক্তিত্ব মিসরের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। এটা বলার অবকাশ রাখে না যে, ইতিহাস ও সংস্কৃতিগত দিক থেকে মিসর সৌদি আরবসহ সকল আরব দেশের তুলনায় অনেকখানি এগিয়ে। কিন্তু নাসেরে’র পর পাশ্চাত্য নির্ভর রাষ্ট্রপতিদের ক্ষমতায় আসার কারণে, মিসর ক্রমে ক্রমে নিজের ক্ষমতা হারাতে থাকে এবং এক পর্যায়ে মিসর শক্তিশালী একটি আরব দেশ থেকে শক্তিহীন পরনির্ভরশীল একটি দেশে পরিণত হয়।
মিসরের পর ও সৌদি আরবের আগে ইরাকের বাথ সরকারও আরব বিশ্ব শাসনের স্বপ্ন দেখেছিল। ইরাকের স্বৈরাচারী সাদ্দাম সরকার তার এ স্বপ্নকে বাস্তবরূপ দিতে ১৯৮০ সালের ২২ সেপ্টেম্বর পাশ্চাত্যের ইন্ধনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের উপর হামলা চালায়। দীর্ঘ আট বছরের এ যুদ্ধে প্রায় ৩ লক্ষ ইরানির শহীদ হয় এবং আহত হয় বহু মানুষ।
ইরাকের সাবেক স্বৈরাচারী সরকার ইরানে হামলা করে ইসলামি ইরানের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে, বাদ যায়নি ইরাকের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোও। এর মাধ্যমে কার্যত তিনি পাশ্চাত্য, আরব বিশ্ব এবং জায়নবাদী ইসরাইলের কুউদ্দেশ্যের পথে পদক্ষেপ নেন।
কিন্তু ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোটের –এতকাল পর্যন্ত যারা সাদ্দামের ঘনিষ্ট বন্ধ ছিল- হামলায় সাদ্দাম সরকারের পতন হয়। এর একবছর পর জনগণের হাতে ফাঁসীর কাষ্ঠে তার মৃত্যু হয়।
প্রতীয়মান আলামত ও নিদর্শনাবলী থেকে এটা স্পষ্ট হয় যে, বিগত বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘটনা বিশেষতঃ সাদ্দাম, সাদাত, মোবারাক, গাদ্দাফী ও বিন আলী’র মত স্বৈরাচারী মিত্রদের পরিণতি থেকে শিক্ষা লাভ করেনি সৌদি আরব। তারা সোজা ও সঠিক পথে চলার চেষ্টাও করেনি। সর্বদা তারা মধ্যপ্রাচ্যে টানাপোড়ন সৃষ্টি করতে চেয়েছে। এমনকি তারা সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোকে সহযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্য ‘আরব বিশ্বের নেতৃত্বে’ পৌঁছুনোর চেষ্টা করেছে।
কিছুদিন আগে এ বিষয়ে দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এক প্রতিবেদনে সিরিয়া ও ইয়েমেনসহ মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের ধ্বংসাত্মক হস্তক্ষেপ নীতি’র পরাজয়ের বিষয়ে লিখেছে যে, আরব ও ইসলাম বিশ্বের পরাশক্তিতে পরিণত হওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের স্বপ্ন ধুলায় মিশে গেছে।
প্যাট্রিক ককবার্নের লেখা ঐ প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২ বছর আগে মনে হচ্ছিল, আরব ও ইসলামি দেশগুলোর মাঝে নিজেকে শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরতে সৌদি আরবের ৫০ বছরের চেষ্টা সফল হতে যাচ্ছে।
২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিন্টন একটি ইমেইলে সৌদি আরব ও কাতারকে দু’টি প্রতিদ্বন্দী দেশ হিসেবে উপস্থাপন করেছিল; যারা সুন্নি বিশ্বের কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করার প্রতিদ্বন্দিতায় লিপ্ত ছিল। পরবর্তীতে এ ইমেইলটি ফাঁস করে দেয়ে উইকিলিক্স।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে জার্মানীর বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা (BND) (মধ্যপ্রাচ্যে) সৌদি আরবের অস্বাভাবিক অনুপ্রবেশের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঘোষণা করেছিল যে, সৌদি রাজ পরিবারের পুরোনো সদস্যদের সতর্কতাপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানের স্থান দখল করছে তাদের নতুন ‘হস্তক্ষেপ নীতি’।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরও লিখেছে: জার্মানীর বৈদেশিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের চাপের মুখে ঐ প্রতিবেদন অস্বীকার করতে বাধ্য হয়। কিন্তু গতবছর সৌদি আরবের এ হস্তক্ষেপ নীতি’র মুখোশ উন্মোচিত হয়। ফলে ধারনার উর্ধ্বে সৌদি আরবের নেতৃত্বে পৌঁছানোর সকল আশা ভেস্তে যায় অথবা বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের মাথা নত হয়ে যায়।
২০১৬ সালের শেষের দিকে সিরিয়ার গৃহ যুদ্ধে সৌদি সমর্থকরা আলেপ্পোর পূর্বাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণাধীন সর্বশেষ এলাকাটিকেও হাতছাড়া করেছে। এখানে অন্তত পরোক্ষভাবে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপ ছিল। কিন্তু ইয়েমেনে, সৌদি আরবের সামরিক হস্তক্ষেপের নীতিও পরাজয়ের মুখোমুখি।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাবকে ঠেকাতে সৌদির শক্তিশালী নীতি’র ফলাফল ঘটেছে উল্টো। ওপেকের সর্বশেষ বৈঠকে নিজেদের অপরিশোধিত তেল উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে ইরানের উত্তোলন বৃদ্ধির বিষয়ে সম্মত হতে হয়েছে তাদের।
ওবামার হস্তক্ষেপ এবং ওয়াশিংটন ও রিয়াদের ঘনিষ্ট সম্পর্ককে উপেক্ষা করে ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়টিকে স্বীকৃতি দেয় মার্কিন কংগ্রেস। এর ভিত্তিতে যদি এ হামলায় সৌদি আরবের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয় তবে রিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা করার অধিকার থাকবে ঐ হামলায় নিহতদের পরিবারগুলোর।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি কিং সালমান ক্ষমতায় আসার পর সৌদি পররাষ্ট্র নীতিতে এদেশের উপযুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানের প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে: এ সময়ে রিয়াদের পররাষ্ট্র নীতি আগের তুলনায় অনেকাংশ সামরিক নীতির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
সিরিয়ার বিষয়ে রিয়াদের হস্তক্ষেপ নীতি এবং ইয়েমেনে তাদের সামরিক হস্তক্ষেপের নীতি ব্যর্থ হওয়ার কথা উল্লেখ করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরও লিখেছে: এ দু’টি দেশে সৌদি আরব তার কোন লক্ষ্যেই পৌঁছুতে পারেনি। সৌদিরা ভেবেছিল তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী অনায়াসে ইয়েমেনের হুথিদেরকে পরাজিত করবে। কিন্তু দেশটির উপর ২১ মাস ধরে বোমা বর্ষণের পরও এখনো রাজধানী সানয়া এবং এদেশের উত্তরাঞ্চলের উপর নিয়ন্ত্রণ ইয়েমেনের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল্লাহ সালেহ ও আনসারুল্লাহ বাহিনীর হাতে।
ইয়েমেনের উপর সৌদি জোটের বিমান হামলার কারণে একমাত্র যে ফল হস্তগত হয়েছে তা হল, আরব বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র দেশ হিসেবে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ইয়েমেন। বর্তমানে দেশটির আড়াই কোটি জনগণের মধ্যে শতকরা ৬০ ভাগ মানুষের জন্য খাদ্য ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নেই।
বিগত দুই বছর যাবত ইয়েমেনের উপর সৌদি হস্তক্ষেপকে ধ্বংসাত্মক বলে আখ্যায়িত করেছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি এবং এদেশে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশের ভূমিকার বিষয়ে পত্রিকাটি লিখেছে: রিয়াদ ও কাতারের ধারনা ছিল যে, সিরিয়ার সরকার বিরোধী বিদ্রোহী (সন্ত্রাসী)-রা বাশার আসাদের সরকারকে অপসারিত করতে সক্ষম হবে, অথবা মার্কিন সরকারকে এ বিষয়ে উৎসাহিত করে তাদেরকে ধোঁকা দিতে পারবে তারা। কিন্তু বাস্তবে আসাদ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টির কারণে তিনি রাশিয়া ও ইরান থেকে অধিক পরিমাণে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়ান। পরিণতিতে ২০১৫ সালে সিরিয়ায় মস্কোর সামরিক হস্তক্ষেপের রাস্তা খুলে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রও তাদের বিরোধিতার জন্য প্রস্তুত ছিল না।
ইন্ডিপেন্ডেন্ট আরও লিখেছে: এ সময়ে অভ্যন্তরিন ও বিদেশ নীতিতে মুহাম্মাদ বিন সালমানের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রিয়াদের উচ্চাভিলাষ হয় পরাজিত হয়েছে অথবা পথের এমন প্রান্তে এসে পৌঁছেছে যেখান থেকে অগ্রসর হওয়ার বা ফেরার সুযোগ নেই। আর এর কারণে সবাই তাকেই দুষছে।
মুসলিম ও আরব বিশ্বের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সৌদি আরব ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল নির্ভর দেশগুলোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার প্রতি ইঙ্গিত করে পত্রিকটির ঐ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে: সিরিয় বাহিনী কর্তৃক আলেপ্পোর উত্তর অঞ্চল মুক্ত করা এবং ইরাকি বাহিনী কর্তৃক দায়েশের হাত থেকে মসুল শহর মুক্ত করণ এ বিষয়টিকে স্পষ্ট করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব রোধ করতে তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
এ আলোচনার ভিত্তিতে বলা যায় যে, বিগত বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিষয়ে গৃহীত অপরিপক্ক পদক্ষেপের ফলে চোরাবালীতে আটকা পড়েছে সৌদি আরব এবং যতদিন যাচ্ছে ততটাই তলিয়ে যাচ্ছে ঐ চোরাবালীতে।
সিরিয়া, ইরাক ও ইয়েমেনের মত ইসলামি দেশগুলোতে যুদ্ধের সূচনা এবং আলে সৌদ, কাতার ও পাশ্চাত্য সমর্থিত তাকফিরি গ্রুপগুলোর হাতে এ সকল দেশের নিরীহ মানুষ হত্যাই একমাত্র ফল যা বিগত কয়েক বছরে সৌদি আরবের হস্তগত হয়েছে, আর এর সাথে যুক্ত হয়েছে ঐ সকল দেশের (অবকাঠামো) ধ্বংস।
সৌদি আরবের আলে সৌদ ও আরব বিশ্বের অপর শাসকগণ যদি একটু চিন্তা করতেন, তাহলে সহজেই এ সকল দেশের মুসলমানদেরকে হত্যা, তাদের রক্ত ঝরানো এবং আরব বিশ্বের নেতৃত্ব হাতে নেয়ার জন্য বিশাল বাজেট ব্যয়ের পরিবর্তে তারা বিনাশ্রমে হস্তগত এ অর্থ ঐ সকল দেশে পূনর্বাসন ও সংস্কারের কাজে ব্যয় করে এরচেয়ে ভাল ফল পেতেন। অবশ্য মুসলিম দেশগুলোর জনগণ আলে সৌদ ও আরব বিশ্বের অন্যান্য শাসকদের কুউদ্দেশ্য সম্পর্কে ভালভাবেই জেনেছে ইতিমধ্যে এবং তাদের প্রতি কোন আস্থাই রাখে না এ অঞ্চলের জনগণ।# ইরনা