আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): কাতারের প্রতি সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের নিষেধাজ্ঞা এবং বেঁধে দেয়া শর্তের জবাবে কাতারের অবস্থানের কথা ইনস্টাগ্রাম বার্তায় শেয়ার করেছে ব্রিটেনে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত।
ইরানি রাষ্ট্রদূত হামিদ বাঈদি নেজাদ ঐ বার্তায় লিখেছেন:
‘আজ (বুধবার) যখন কাতারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপকারী দেশ হিসেবে সৌদি আরব, মিসর, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএএই) ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা কায়রোতে কাতারের চিঠির জবাব প্রদানের লক্ষ্যে বৈঠকে মিলিত হয়েছেন, তখন কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডনে চ্যাথাম হাউসে উপস্থিত হয়ে ঐ ৪ আরব দেশের বেঁধে দেয়া শর্তের বিষয়ে কাতারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ ছিল এমন:
১। মিসর ও বাহরাইনের সহযোগিতায় সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃক কাতারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ ছিল চরম শত্রুতাপূর্ণ। আমরা নিষেধাজ্ঞার প্রথম ধাক্কাটি সামলাতে পেরেছি। বর্তমানে আমাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস-পত্র সরবরাহের বিকল্প রাস্তা আমরা বের করে ফেলেছি। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল পথের বিকল্প আমরা খুঁজে বের করে তা নিশ্চিত করেছি।
২। কাতারকে যে সকল শর্ত সৌদি আরব দিয়েছে তার কোনটাই মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তাদের শর্ত মানার অর্থ হচ্ছে বাকস্বাধীনতাকে সীমাবদ্ধ করা, সমালোচকদের উপর নির্যাতন করা, নিজেদের প্রতিরক্ষা ক্ষমতায় হ্রাস ঘটানো এবং নিজেদের পররাষ্ট্র নীতিকে রিয়াদ ও আবুধাবি’র হাতে হস্তান্তর করা; এমনকি অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আরোপকারীদেরকে ব্লাংক চেক দিয়ে ক্ষতিপূরণও দেয়া।
৩। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে, তারা চায় আমরা যেন কাতারের জনগণের অধিকার ও স্বাধীনতাকে লংঘন করে দেশের কর্তৃত্ব সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের হাতে তুলে দেই।
৪। কাতার প্রতিবেশীদের সাথে বন্ধুত্বসুলভ সম্পর্ক রাখতে আগ্রহী। মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাথে সুসম্পর্ক ধরে রাখার প্রতি আমরা বিশ্বাসী। উদাহরণ স্বরূপ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাতে চাই।
৫। গালফ কোঅপারেশন কাউন্সিল (জিসিসি) থেকে আমাদেরকে বের করে দেয়ার হুমকি অর্থহীন। কারণ এ সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র এর সকল সদস্যের মাধ্যমে গৃহীত হতে পারে; আর এ ধরনের ঐকমত্য গঠিত হয়নি।
৬। ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তটিও কোন অর্থ রাখে না; কারণ বিভিন্ন খাতে ইরানের সাথে স্বয়ং সংযুক্ত আরব আমিরাতেরই ব্যাপক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা ইরানের প্রতিবেশী। একই খনি থেকে আমরা গ্যাস উত্তোলন করি; এ ধরনের বিষয়াদি দু’দেশের মাঝে সহযোগিতার ক্ষেত্র স্বরূপ।#