১৯ নভেম্বর ২০১৮ - ১৫:০৬
টালমাটাল ইসরাইল, বিপাকে নেতানিয়াহু

ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টালমাটাল অবস্থা দেখা দিয়েছে।

আবনা ডেস্কঃ ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বেশ সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন লিকুদ পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে টালমাটাল অবস্থা দেখা দিয়েছে।
লিকুদ পার্টির চেয়ারম্যান ও দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহু হামাসের সঙ্গে অস্ত্রবিরতিতে যাওয়ার প্রতিবাদে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আভিগদোর লেইবারম্যান পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে জোট সরকার থেকে নিজের ‘ইসরাইল বেইতেনু পার্টি’র সমর্থনও প্রত্যাহার করে নেন।
লেইবারম্যানের এ সিদ্ধান্তের ফলে ১২০ আসনের পার্লামেন্টে মাত্র একটি আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বজায় থাকে নেতানিয়াহুর সরকারের।
এমন পরিস্থিতিতে ক্ষমতাসীন জোট সরকারের আরেক শরিক দল জিউস হোম পার্টির নেতা ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নাফতালি বেনেটও সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি ও তার দল সরে গেলে ক্ষমতায় থাকার যোগ্যতা হারাবেন নেতানিয়াহু।
তবে তবে সোমবার ওই মন্ত্রী আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যত দিন পর্যন্ত ইসরাইলের গভীর নিরাপত্তা সংকট নিয়ে কাজ করবেন, তত দিন পর্যন্ত তিনি ও বিচার বিভাগীয় মন্ত্রী আয়েলেট শাকেড পদত্যাগ করবেন না।
উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে তিনদিনের সংঘর্ষের পর হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির জেরের পরই লিকুদ নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে বিবাদ।
জোটের ঐক্য ঠিক রাখতে নেতানিয়াহু শুক্রবার শরিক দল হাবাইয়িত হায়েহুদির নেতা নাফতালি বেনেতের সঙ্গে বৈঠক করেন। বেনেত সেখানে নিজেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদ চেয়ে বসলে আলোচনা ভেস্তে যায়। হাবাইয়িত হায়েহুদির এ নেতা পরে তাকে মন্ত্রী না বানালে তার দলও ক্ষমতাসীন জোট ছাড়বে বলে হুশিয়ারি দেন।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী হতে পারলে হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুনরায় শুরু করারও প্রতিশ্রুতি আছে বেনেতের। তিনি বলেন, ‘হামাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইসরাইল আবারও জিততে শুরু করবে।’ বেনেত এর মধ্যেই আগাম নির্বাচন দিতে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে নেতানিয়াহু তাতে কান দেননি।
ইসরাইলিদের মধ্যে নেতানিয়াহু ও লিকুদ পার্টির জনপ্রিয়তা এখনও বেশি বলে জানাচ্ছে কয়েকটি জরিপ। কিন্তু আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ব্যবস্থা চালু থাকায় দেশটিতে একক কোনো দলের পক্ষে সরকার গঠন বেশ কঠিন। নেতানিয়াহু এ নিয়ে চারটি নির্বাচনে জিতেছেন।
আগামী বছরের জুন পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকলে তিনি ইসরাইলের প্রতিষ্ঠাতা প্রধানমন্ত্রী ডেভিড বেন-গুরিয়নকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশিদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকার গৌরব অর্জন করবেন।