১৭ জুন ২০১৫ - ২৩:১৯
মিসরে মুরসির মৃত্যুদণ্ড বহাল

মিসরের একটি আদালত মঙ্গলবার দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে।

আহলে বাইত বার্তা সংস্থা (আবনা) : মিসরের একটি আদালত মঙ্গলবার দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল রেখেছে। গত এপ্রিলে জেল ভাঙার ওই মামলায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়া হয়েছিল এই ব্রাদারহুড নেতাকে। একই দিনে অন্য একটি মামলায় মুরসির আজীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদলত। একই মামলায় ব্রাদারহুডের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা মোহাম্মাদ বাদিইকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ওই আদালত। এছাড়া আরেক প্রভাবশালী ধর্মীয় নেতা ইউসুফ আল-কারাদাবিসহ ৮০ জনের বেশি পলাতককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। সংবাদসূত্র : আল-জাজিরা, প্রেসটিভি
কায়রোর একটি আদালত মঙ্গলবার মুরসির বিরুদ্ধে জেল ভাঙার অপরাধে দেয়া মৃত্যুণ্ডের সাজা বহাল রেখে রায় দেয়। আদালত এই রায় দেয়ার আগে মিসরের গ্র্যান্ড মুফতির মতামত নেয়। তার মতামতের ভিত্তিতেই আগের সাজা বহাল রেখে রায় দিল আদালত। মূলত ২০১১ সালে মোবারকবিরোধী আন্দোলনের সময় জেল ভাঙার ষড়যন্ত্র এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মুরসির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গত মাসে এই মামলায় মুরসি এবং অভিযুক্ত আরো শতাধিক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সেই রায় গ্র্যান্ড মুফতির মতামতের ভিত্তিতে আবারো দেয়া হলো। জানা গেছে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন মুরসি এবং অন্যরা।
এর আগে একই দিনে ওই একই আদালতে অন্য একটি মামলায় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুরসিকে আজীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ে ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডসহ বিদেশি বিভিন্ন শক্তির কাছে রাষ্ট্রের গোপন তথ্য পাচারের দায়ে মুরসিকে অভিযুক্ত করা হয়। কায়রোর আদালত বলেছে, এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা মুরসিকে এই দণ্ড দেয়া হয়।
এদিকে, আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মুরসির পাশাপাশি একই অপরাধে মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা মোহাম্মাদ বাদিইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (২৫ বছর) দেয়া হয়েছে। শীর্ষ এই দুই নেতা ছাড়াও সংগঠনটির আরো ১৭ নেতাকর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। আল-জাজিরা আরো জানিয়েছে, একই অপরাধে মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা খয়রাত আল শাতারসহ তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। চলতি বছর এপ্রিলে মুরসিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় মিসরের একটি আদালত। ক্ষমতায় থাকাকালে তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের অভিযোগে মুরসিকে ওই সাজা দেয়া হয়।
মুরসির বিরুদ্ধে সব মামলায়ই তাকে বড় লোহার খাঁচায় করে আদালতে হাজির করা হয়। তাকে আদালতে কিছু বলারও সুযোগ দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার আইনজীবী এবং স্বজনরা। এক শুনানিতে হাজির হয়ে মুরসি বলেছিলেন, 'এই আদালত অবৈধ। আমি এখনো মিসরের বৈধ প্রেসিডেন্ট।'
উল্লেখ্য, কথিত 'আরব বসন্তের' ঢেউয়ে ২০১১ সালের এপ্রিলে একনায়ক হোসনি মোবারকের পতন হলে পরবর্তী বছরের নির্বাচনে জয়লাভ করে মিসরে প্রথম গণতান্ত্রিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা নেন মুরসি। কিন্তু তার রাষ্ট্র পরিচালনায় অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে ধর্মনিরপেক্ষ এবং অন্য বিরোধীরা বিক্ষোভ শুরু করলে ব্যাপক সহিংসতা শুরু হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালের ৩ জুলাই মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী। তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে বন্দি করা সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ এল সিসিই এখন মিসরের প্রেসিডেন্ট। আর সেই থেকে তার দল মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর চলছে সরকারের নির্যাতন। হাজার হাজার ব্রাদারহুড সমর্থককে আটক করেছে সরকার। দ্রুত এবং তড়িঘড়ি বিচার করে তাদের অনেকেরই মৃত্যুদণ্ডও দেয়া হয়েছে, যা সাম্প্রতিক ইতিহাস বিবেচনায় নজিরবিহীন ঘটনা। ব্রাদারহুডের সব ধরনের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করেছে মিসর সরকার।
দেশটিতে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে বলে গত সোমবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মিসরের মানবাধিকার সংগঠনগুলো। দেশটির একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রেসটিভির একজন সংবাদদাতা জানিয়েছেন, বিরোধীদের দমনের জন্য মিসর সরকার অপহরণ ও গুম করার কৌশল বেছে নিয়েছে। তিনি আরো জানান, মিসরে এখন যে অবস্থা বিরাজ করছে, তাতে যে কেউ রাতে কিংবা দিনে বিশ্ববিদ্যালয়, রাস্তা অথবা নিজ বাড়ি থেকে অপহৃত হতে পারে।
দেশটির মানবাধিকারকর্মীরা কিছু ছবি তুলে ধরে বিভিন্ন উপায়ে মানুষ অপহরণের খবর দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, যাদের অপহরণ করা হচ্ছে, কিছুদিন পর কারো মৃতদেহ পাওয়া যায়, আবার কারো কোনো হদিসই পাওয়া যায় না। আবার অপহৃত অনেককে হঠাৎ করেই আদালতের কাঠগড়ায় দেখা যায়।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ছাত্রকেও অপহরণ করা হচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায়, সিসি সরকার অত্যন্ত কঠোর হাতে বিরোধীদের দমন করার চেষ্টা চালাচ্ছে।#