আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী বলেছেন, আমরা শত্রুর কাছে আত্মসমর্পণ করব না, আল্লাহর প্রতি আস্থা রেখে আল্লাহর সহযোগিতায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে শত্রুকে পরাজিত করব।
আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (আ.)-এর শুভ জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শহীদ কাসেম সোলাইমানি ও তাঁর সহযোদ্ধাদের পরিবারের পাশাপাশি আরও অনেক ইরানি শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাতে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আমিরুল মুমিনিন হজরত আলী (আ.)'র জন্মবার্ষিকীকে ইতিহাসের একটি বিশেষ দিন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন- হজরত আলী (আ.)'র অসীম গুণাবলীর মধ্যে দুটি গুণ অর্থাৎ ন্যায়পরায়ণতা ও তাকওয়ার প্রয়োজনীয়তা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি অনুভব করছি।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, প্রতিবাদ ঠিক আছে, কিন্তু প্রতিবাদ এবং বিশৃঙ্খলা এক নয়। তিনি বলেন, সরকারকে প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলতে হবে, কিন্তু বিশৃঙ্খলাকারীদের সঙ্গে কথা বলে কোনো লাভ হবে না, বরং তাদেরকে সঠিক জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে।
ইসলামী বিপ্লবের নেতা বলেন, এটি একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয় যে, কিছু লোক বিভিন্ন নামে ও শিরোনামে দেশে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ব্যবসায়ী, ঈমানদার ও বিপ্লবী জনগণের পেছনে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতিবাদকে অপব্যবহার করবে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে।
সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী শত্রুদের জোর-জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, যখন কেউ অনুভব করে শত্রু মিথ্যা দাবি উত্থাপন করে কিছু একটা রাষ্ট্র, সরকার এবং জনগণের ওপর চাপিয়ে দিতে চায়, তখন তাকে পূর্ণ শক্তি নিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে এবং বুক চিতিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা শত্রুর সামনে কখনো আত্মসমর্পণ করব না, আমরা আল্লাহর উপর আস্থা রেখে, জনগণের সমর্থনে এবং আল্লাহর সাহায্যে শত্রুকে পরাজিত করব।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, সব মানুষ বিশেষকরে সরকারের পক্ষ থেকে আমিরুল মুমিনিন আলী (আ.) এর আদর্শ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, আলী (আ.)-এর ন্যায়ের আদর্শ আমাদের দেশের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় এবং বর্তমানে ইতিহাসের অন্য সময়ের বিপরীতে আমাদের কাছে ন্যায় প্রতিষ্ঠা না করার বিষয়ে আর কোনো অজুহাত নেই, কারণ এখানে রয়েছে ইসলামী প্রজাতন্ত্রী এবং আলী (আ.)-এর ব্যবস্থা।
ইসলামী বিপ্লবের নেতা বলেন, ইমাম আলী (আ.) ছিলেন বিজয়ী, নিজের শাসনামল এমনকি গোটা মুসলিম শাসনামলে সব যুদ্ধে তিনি বিজয়ী হয়েছেন। তবে মানুষের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য শত্রুদের নানা প্রকার অপকৌশল অনেক ক্ষেত্রেই ইমাম আলী (আ.)-এর লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নকে ব্যাহত করেছিল।
তিনি আরও বলেন, মুত্তাকিদের নেতা আলী (আ.)'র শত্রুরা বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার, গুজব, প্রতারণার মাধ্যমে আধুনিক ভাষায় বললে "সফট ওয়ার" (নরম যুদ্ধ) চালিয়ে সমাজে হতাশা ও সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা করেছে। এরপর তিনি বলেন, যখন জনগণ দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব হয়ে যায়, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির আইন অনুযায়ী, যা করার তা জনগণের হাতেই রয়েছে এবং তা তাদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী বলেন, শত্রুদের নরম যুদ্ধের লক্ষ্য হলো জনগণকে হতাশ করা এবং জাতির মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি করা। তিনি বলেন, যেমনটি আমিরুল মুমিনিনের সময়ে গুজব এবং মিথ্যার মাধ্যমে জনগণের মাঝে নেতিবাচক ধারণা বা মনোভাব সৃষ্টি করা হয়েছিল, আজও ঠিক সে ধরণেরই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে; তবে ইরানিরা প্রমাণ করেছে যে, কঠিন পরিস্থিতিতেও যখন যেখানে প্রয়োজন তখন তারা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে শত্রুকে হতাশ করে দিতে সক্ষম।
ইসলামী বিপ্লবের নেতা এক দিনেই তিনটি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানো এবং মহাকাশ, জৈবপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, সেবা, ন্যানো প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা ও ক্ষেপণাস্ত্র শিল্পসহ দেশের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক খাতে অভূতপূর্ব অগ্রগতিকে ইরানের জনগণ এবং দক্ষ তরুণদের বড় সাফল্য ও অর্জনের দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
আয়াতুল্লাহ খামেনেয়ী ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের সময় শত্রুদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের অনুরোধের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, যে কারণে শত্রুরা যুদ্ধ বন্ধের অনুরোধ করতে বাধ্য করেছে এবং আর যুদ্ধ চায় না বলে বার্তা পাঠাতে বাধ্য হয়েছে, তা হলো- ইরানি জনগণের শক্তি এবং সক্ষমতা।
জেনারেল কাসেম সোলাইমানির শহীদ হওয়ার বার্ষিকী ১৩ রজব তথা হজরত আলী (আ.)'র জন্মবার্ষিকীর সাথে মিলে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন- ঈমান, একনিষ্ঠতা এবং কর্ম ছিলো শহীদ সোলাইমানির মূল বৈশিষ্ট্য, তিনি ছিলেন আমাদের যুগের এক পূর্ণাঙ্গ এবং আদর্শ মানুষ। কাসেম সোলাইমানি ছিলেন আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ মানুষ, যিনি নিজের সুখ্যাতি বা অন্যদের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য কিছু করতেন না।
যেখানে প্রয়োজন সেখানেই শহীদ সোলাইমানির সক্রিয় উপস্থিতির প্রশংসা করে সর্বোচ্চ নেতা বলেন- শহীদ সোলাইমানি তাদের মতো ছিলেন না, যারা ভালো বোঝে এবং ভালো কথা বলে কিন্তু কখনোই পদক্ষেপ নেয় না। তিনি সকল গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে উপস্থিত ছিলেন; যেমন বিপ্লবী আন্দোলন রক্ষা ও পরিচালনা, কেরমানে দুর্বৃত্তদের মোকাবেলা, কুদস বাহিনী, পবিত্র মাজার রক্ষা, দায়েশ বা আইএসের বিরুদ্ধে লড়াই এবং অন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করেছেন।
Your Comment