আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): হযরত আয়াতুল্লাহ জাওয়াদী আমুলি বলেন, ধর্মের মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে মালাকুতি মর্যাদায় পৌঁছে দেওয়া।
তিনি আমিরুল মুমিনিন (আ.)-এর বাণী উল্লেখ করেন, ইমাম বলেছেন—আল্লাহ ফেরেশতাদের জন্য যে ধর্ম নির্ধারণ করেছেন, মানুষের জন্যও সেই একই ধর্ম নির্ধারণ করেছেন, যেন মানুষ ফেরেশতার মর্যাদায় উন্নীত হতে পারে।
ফেরেশতারা যেমন আল্লাহর একত্ববাদের বিশ্বাসী, ওহি ও আখিরাতে দৃঢ় বিশ্বাসী, বিনয়ী, খোদাভীরু ও ইবাদতকারী, মানুষের জন্যও ঠিক একই আকিদা ও নৈতিক কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে। পার্থক্য কেবল ইবাদতের পদ্ধতিতে; মূল ধর্মে নয়।
এই অর্থেই ফার্সী সাহিত্যে বলা হয়েছে—
تو فرشته شوی ار جهد کنیاز پی آنکبرگ توت است که گشتست به تدریج اطلس
অর্থাৎ, সাধনা ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে মানুষ ফেরেশতাসদৃশ মর্যাদায় পৌঁছাতে পারে।
মালাকুত ও মানুষের চূড়ান্ত গন্তব্য: ফেরেশতারা মালাকুতের অধিবাসী। নবী ও আওলিয়ারাগণও মালাকুত জগতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রাখেন। কুরআনে বলা হয়েছে:
وَكَذَٰلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ.(সূরা আন‘আম: ৭৫)
অর্থাৎ, আল্লাহ তায়ালা হযরত ইবরাহিম (আ.)-কে সরাসরি মালাকুত প্রদর্শন করিয়েছেন।
কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য এরুপ বলা হয়েছে:
أَوَلَمْ يَنظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ.
অর্থাৎ, আমাদের দায়িত্ব হলো গভীরভাবে চিন্তা ও পর্যবেক্ষণ করা, যাতে সেই দৃষ্টি একসময় উপলব্ধিতে রূপ নেয়।
মালাকুতি মর্যাদা: আল্লাহ তায়ালা বলেন:
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ.
এবং মুমিনদের সম্পর্কে বলেন:
هُوَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْكُمْ وَمَلَائِكَتُهُ لِيُخْرِجَكُمْ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ.
যে ব্যক্তি এমন স্তরে পৌঁছে যায়, যেখানে সয়ং আল্লাহ তায়ালা তাঁর ওপর দরুদ প্রেরণ করেন, সে ব্যক্তি মালাকুতি মর্যাদায় উন্নীত হয়।
মানবতা বিস্মরণের ভয়াবহ পরিণতি: কুরআন এমন মানুষের সম্পর্কে সতর্ক করেছে:
إِنْ هُمْ إِلَّا كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ.
এবং আরও বলা হয়েছে:
وَلَا تَكُونُوا كَالَّذِينَ نَسُوا اللَّهَ فَأَنسَاهُمْ أَنفُسَهُمْ.
আল্লাহকে ভুলে যাওয়ার পরিণতিই হলো আত্মবিস্মৃতি—আর তারই ভয়াবহ প্রতিফলন আমরা আজ গাজ্জা ও অনুরূপ মানবিক বিপর্যয়ে প্রত্যক্ষ করছি।
আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি— তিনি যেন আমাদের শহীদগণ, তাঁদের পরিবারবর্গ এবং সমগ্র উম্মাহকে বিশেষ অনুগ্রহে রাখেন।
Your Comment