আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): মিনাব ১৬৮; এই বিশেষ বিমানে করে তেহরান থেকে যুদ্ববিরোতী চুক্তি সম্পর্কে আলোচনা করতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যান ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।
এই যাত্রার বিশেষত্ব ছিল উড়োজাহাজের ভেতরের দৃশ্য। বিমানের বেশ কিছু আসন ছিল ফাঁকা, যেখানে রাখা ছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাব শহরের একটি স্কুলে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত শিশুদের ছবি, স্কুলের ব্যাগ এবং গোলাপ ফুল।
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে অবতরণ করে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনেই দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের ‘শাজারেহ তাইয়েবেহ’ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ১৬৮ জন নিহত হয়, যাদের বেশিরভাগই ছিল কোমলমতি শিশু।
ইসলামাবাদে পৌঁছেই স্পিকার কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) বিমানের ভেতরের সেই আবেগঘন ছবি শেয়ার করে লিখেন, এই ফ্লাইটে আমার সঙ্গী মিনাব- ১৬৮। মূলত শহীদ শিশুদের স্মৃতি বহন করে বিশ্ববাসীর কাছে ইরানের ওপর চালানো হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরাই ছিল এই প্রতীকী যাত্রার উদ্দেশ্য।
কালিবাফ আরও জানান, ইরান ‘সদিচ্ছা কিন্তু কোনো বিশ্বাস ছাড়াই’ এই আলোচনায় অংশ নিচ্ছে। আমেরিকানদের সাথে আলোচনার তিক্ত অভিজ্ঞতা আমাদের আছে, যারা বারবার চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তবে মার্কিন পক্ষ যদি সত্যিকারের শান্তি এবং ইরানি জনগণের অধিকার আদায়ে সচেষ্ট হয়, তবে আমরাও ইতিবাচক সাড়া দিতে প্রস্তুত।
দীর্ঘ ৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই যুদ্ধবিরতিকে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ দিতেই ইসলামাবাদে এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে ইরান দুটি প্রধান শর্ত দিয়েছে- লেবাননে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং যুক্তরাষ্ট্রে আটকে থাকা ইরানের সম্পদ অবমুক্ত করা।
Your Comment