আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামি নিয়া বলেন, ইরানের সেনাবাহিনী ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর সমন্বিত অভিযান—যার মধ্যে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও ড্রোন অভিযান ছিল—কুয়েত, কাতার এবং ইরাকের এরবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানগুলোকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে।
এসব অভিযানের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশল কার্যত থমকে গেছে এবং ওয়াশিংটনকে তার কৌশলগত অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে।
ইরানের সাম্প্রতিক পাল্টা সামরিক অভিযান সম্পর্কে আকরামিনিয়া বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা লঙ্ঘনের পর ইরান হামলা শুরু করে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, সমঝোতা স্মারক অমান্য করে যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে একটি অবৈধ নৌপথ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিল।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৫ দিনে ইরানের অভিযানগুলো জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়েছে। তিনি এসব স্থাপনাকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো হিসেবে উল্লেখ করেন।
আকরামি নিয়ার দাবি, ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে বিপুল বিনিয়োগ করেছে। ফলে এসব ঘাঁটি ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক সামরিক কৌশলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
তবে ইরানের পাল্টা হামলার ফলে অঞ্চলজুড়ে বেশ কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনা এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো আগের মতো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না—এমন দাবি করেন তিনি।
এর উদাহরণ হিসেবে বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহর-এর ঘাঁটির কথা উল্লেখ করেন ইরানের সেনা মুখপাত্র। তার দাবি, ইরানের অভিযানের পর ঘাঁটিটির কার্যকর সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করেছেন—এমন দাবি করে আকরামিনিয়া বলেন, ইরানের হামলায় ওই গোষ্ঠীগুলোর কার্যকর সক্ষমতা নষ্ট হয়েছে এবং এরবিলে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
Your Comment