আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): বিশ্বব্যাপী আরাবাইন তীর্থযাত্রার প্রেক্ষাপটে, বিশিষ্ট আইরিশ খ্রিস্টান ধর্মতাত্ত্বিক ও *‘হুসাইন অ্যান্ড দ্য স্ট্রাগল ফর জাস্টিস’* (Husayn and the Struggle for Justice) গ্রন্থের রচয়িতা অধ্যাপক ক্রিস হিউয়ার ‘আহলে বাইত বিশ্ব সংস্থার মহাসচিব আয়াতুল্লাহ রামেযানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এক আধ্যাত্মিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে আশুরা আন্দোলনের বৈশ্বিক মাত্রা এবং মানবজাতির কাছে ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সত্য বার্তা তুলে ধরার লক্ষ্য ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অধ্যাপক হিউয়ারের পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজের প্রতি সম্মাননা এবং ইরানে আমন্ত্রণ
বৈঠকের শুরুতে আয়াতুল্লাহ রামেযানি আরবাইন-এর পবিত্র পরিবেশে উক্ত পণ্ডিতের উপস্থিতিতে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং অধ্যাপক হিউয়ারের লেখনীর ভূয়সী প্রশংসা করার পাশাপাশি তাঁকে ইরানে গবেষণামূলক অবকাশ যাপনের আমন্ত্রণ জানান, যাতে ‘আহলে বাইত’ (আ.)-এর বিষয়বস্তু নিয়ে কাজ করা বিশিষ্ট আলেম ও বিশেষজ্ঞদের সাথে তাঁর আরও নিবিড় যোগাযোগ ও সম্পৃক্ততা গড়ে ওঠে।
আয়াতুল্লাহ রামেযানি বলেছেন: "আরবাঈন হলো এক অসীম মহাসাগর ও এক অলৌকিক ঘটনা। এটিকে কেবল একটি পদযাত্রা হিসেবে দেখা উচিত নয়; কারণ তা অত্যন্ত সংকীর্ণ ও সীমাবদ্ধ দৃষ্টিভঙ্গি।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সমগ্র বিশ্বে আশুরা ও আরবাঈনের অনন্য বৈশিষ্ট্যের সমতুল্য আর কিছুই নেই।
আরবাইনের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অধ্যাপক ক্রিস হিউয়ারের চার-ধাপের কৌশল
অধ্যাপক ক্রিস হিউয়ার বিভিন্ন শ্রোতার কাছে আরবাইনকে কীভাবে তুলে ধরা হয়, তার একটি বিস্তারিত বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন এবং চারটি লক্ষ্যগোষ্ঠী চিহ্নিত করেন:
পশ্চিমা মানুষজন অবহিত নয়
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, পাশ্চাত্যের যেসব মানুষ ‘আরবাঈন’ সম্পর্কে জানেন না, তাঁদের কোনো দোষ নেই; বরং তাঁদের কাছে এই আয়োজনটিকে যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তিনি সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানোর এবং সেই পরিবেশে প্রবেশের আগেই তাঁরা সেখানে যে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, তা স্পষ্টভাবে বুঝিয়ে বলার প্রস্তাব দেন।
আরবাইন পথের যাত্রী
হিউয়ার মনে করেন, তীর্থযাত্রীদের শেখানো উচিত কীভাবে এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়া যায়; তা না হলে তারা কেবল সময় কাটিয়েই চলে যান। তিনি নির্দেশিকা বা গাইডবুক তৈরির প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে তীর্থযাত্রীরা বুঝতে পারেন কারবালায় গিয়ে ঠিক কী ধরনের তাৎপর্য বা অর্থ খুঁজে নিতে হবে।
ধর্মপ্রাণ ঈমানদার মানুষ (বিভিন্ন ধর্মের অনুসারী)
এই গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে কারবালাকে অবশ্যই তাদের নিজস্ব ধর্মীয় অভিজ্ঞতার আলোকে ব্যাখ্যা করতে হবে; কারণ এই অভিজ্ঞতা সমগ্র মানবজাতির এবং এর মধ্যে গভীর নৈতিক ও আধ্যাত্মিক রূপান্তর ঘটানোর সক্ষমতা রয়েছে।
অ-ধর্মীয় ব্যক্তিরা
এই আইরিশ চিন্তাবিদ জোর দিয়ে বলেছেন যে, যারা কোনো ধর্ম অনুসরণ করেন না, তাদের কাছেও আরবাইন-এর বার্তা পৌঁছায়—কারণ তারা সহজাত মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন মানুষ। এই বার্তাটি তাদের কাছে এমনভাবে পৌঁছানো প্রয়োজন যাতে তাদের বিবেক জাগ্রত হয়, তারা আরও ভালো মানুষ হয়ে ওঠেন এবং পরিশেষে—ইমাম হোসাইন (আ.)-কে জানার মধ্য দিয়ে—তারা যেন আরও বেশি ‘হোসাইনি’ হয়ে উঠতে পারেন।
পরিশেষে, অধ্যাপক হিউয়ারের বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করে আয়াতুল্লাহ রামেযানি ইমাম হোসাইন (আ.)-এর সেই বিখ্যাত উক্তিটি উদ্ধৃত করেন:
"যদি তোমাদের কোনো ধর্ম না-ও থাকে, তবে অন্তত পার্থিব জীবনে মুক্তমনা ও স্বাধীনচেতা হও।" তিনি জোর দিয়ে বলেন: "এই উক্তিটি ঠিক সেই অভিন্ন মানবিক ভিত্তির দিকেই ইঙ্গিত করে। ইমাম হোসাইন (আ.) কেবল শিয়া ও মুসলমানদের জন্যই নন, বরং সকল একেশ্বরবাদী এবং সমগ্র মানবজাতির জন্যই এক আদর্শ ব্যক্তিত্ব।"
Your Comment