আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা (আবনা): উপমহাদেশের বিষয়াবলীতে বিশেষজ্ঞ লেখক ও বিশ্লেষক আদেল ফারাজের প্রকাশিত একটি নোটে বলা হয়েছে:
আদালতগুলো যদি নিরপেক্ষ হতো এবং দেশের প্রতি অনুগত থাকত, তবে পরিস্থিতি সাহারানপুরের মসজিদ ভাঙার মতো পর্যায়ে পৌঁছাত না। সাহারানপুরের মসজিদ ধ্বংস কেবল একটি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা নয়; এটি এমন এক ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে মুসলমানদের ধর্মীয় পরিচিতি, সামাজিক অবস্থান এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে ক্রমাগত লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মসজিদ ও ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্রের (মাদরাসা) বিরুদ্ধে এই অভিযান এখানেই থেমে থাকবে না। মুসলমানরা যদি প্রতিরোধ গড়ে না তোলে, তবে এই অবমাননার প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে।
প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে মুসলমানদের তাদের কৌশল পরিবর্তন করতে হবে এবং কেবল রক্ষণাত্মক অবস্থানে আটকে না থেকে তার বাইরে বেরিয়ে আসতে হবে। পুরোনো মসজিদ ও মাজার নিয়ে যখন আদালতে মামলা বা আবেদন করা হচ্ছে, তখন মুসলমানরা কেন এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকছে? সরকারি জমিতে শত শত মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে; এমনকি ওয়াকফ বোর্ডের কাছে নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তিতেও মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে।
অপরিহার্য নয় এমন ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের পরিবর্তে মুসলমানদের উচিত এ ধরনের কমিটি ও আইনি বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করা। আদালতের অন্যায্য আচরণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্চার হতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতীয় বিচারব্যবস্থার প্রকৃত রূপ উন্মোচিত হয়। আদালতের পক্ষপাতমূলক আচরণ ও অন্যায় পদক্ষেপগুলোকে চ্যালেঞ্জ না করা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে।
এটা স্পষ্ট যে এই পথটি সহজ নয়, তবুও এর কোনো বিকল্প নেই। মুসলমানরা যদি এই সময়ে প্রতিরোধ ও জাগরণের পথ বেছে না নেয়, তবে ভবিষ্যতেও তাদের সম্মান আর নিরাপদ থাকবে না।
Your Comment