আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: তালেবান জঙ্গীরা ঈদুল আযহার দিনে ত্রাস সৃষ্টির লক্ষ্যে পাকিস্তানের পশ্চিমে অঞ্চলে অবস্থিত সীমান্তবর্তী এলাকা শালুযানে রকেট হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে হতাহত করেছে।
শালুজান; পারাচেনারের অন্তর্ভুক্ত একটি পাহাড়ী এলাকা। যা আফগানিস্তান সীমান্ত হতে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত। সম্প্রতি এ অঞ্চলে স্থানীয় তালেবান ও আফগান তালেবান জঙ্গীদের হামলা লক্ষণীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতিপূর্বে জালালুদ্দীন হাক্কানী’র ২ হাজার সৈন্য -(বলা হয়ে থাকে যে,) মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী’র সৈন্যরা তাদেরকে ধাওয়া করছে- ন্যাটো ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় আফগানিস্তান সীমান্ত পার হয়ে পাহাড়ী এলাকা শালুযানে প্রবেশ করে। যাতে শিয়া অধ্যুষিত এ অঞ্চলটি দখল করে পারাচেনার ও এর অন্তর্ভুক্ত অন্যান্য শিয়া এলাকার উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু শিয়া সংগ্রামীদের প্রচণ্ড প্রতিরোধের মুখে পড়ে তারা পরাজিত ও পিছু হটতে বাধ্য হয়। আর এ বিষয়টি পাকিস্তান সরকার এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের তালেবানদের জঙ্গীদের আদৌ কাম্য ছিল না।
তাই তারা পূনরায় আফগানিস্তান হতে এ অঞ্চলের শিয়াদেরকে উদ্দেশ্য করে রকেট হামলা শুরু করেছে। যে সকল দেশসমূহ ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয়, তাদের অনাবগতিতে সে সকল দেশ হতে এ ধরণের হামলা চালানো অসম্ভব।
উল্লেখ, গত ১৭ই নভেম্বর আফগানিস্তান হতে শিয়া অঞ্চলকে লক্ষ্য করে নিক্ষিপ্ত রকেটসমূহের অধিকাংশই গাছে আঘাত হানে। কিন্তু ৩টি রকেট শিয়াদের বাড়ীতে আঘাত হানলে একজন মহিলা শহীদ হয় এবং দুই শিশুসহ অপর ৮ জন আহত হয়।
উক্ত হামলার পর আহতদেরকে পারাচেনার শহরের হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ শহরের সাথে অন্যান্য শহরের যোগাযোগের সকল রাস্তা বন্ধ থাকায় প্রয়োজনীয় ঔষধ পত্র উক্ত হাসপাতালে বিদ্যমান ছিল না। তাই আহতদেরকে পূনরায় বাড়ীতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়। এ সময় উক্ত হামলায় আহত দুই শিশু বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
হামলার পর:
স্থানীয় শিয়ারা ঈদের অনুষ্ঠান পালনের পর সরকার সমর্থিত সন্ত্রাসবাদ ও শিয়াদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের আচরণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে। এছাড়া কুরুম এজেঞ্জি অঞ্চলের রাজনৈতিক মহল ও বিভিন্ন সম্প্রদায় এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
মজার বিষয় হল, আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থার পাঠকদের জানা উচিত যে, আমাদের হস্তগত কিছু কিছু প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাকিস্তানের সরকারী, সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন যে, যতদিন মার্কিনীরা আফগানিস্তানে অবস্থান করবে ততদিন তালেবনাদের অস্তিত্ব ও সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহে অস্থিতিশীলতা ও সহিংসতা অতীব জরুরী একটি বিষয়। কেননা যদি এ সকল অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে আসে তবে আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের উপর হামলার বিষয়টি চিন্তা করতে পারে!
বলাবাহুল্য, পাকিস্তানের শিয়া অধ্যুষিত পারাচেনার অঞ্চলটি প্রায় ৪ বছর যাবত সরকারী সৈন্য ও উগ্র তালেবান জঙ্গীদের দ্বারা পরিবেষ্ঠিত। ফলে এ অঞ্চলের সাথে অন্য অঞ্চলের যোগাযোগের সকল পথ বন্ধ রয়েছে।
এ অঞ্চলে বসবাসরত শিয়াদের নিকট নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসও বিদ্যমান না থাকায় তারা মানবেতর অবস্থায় জীবন যাপন করলেও মানবাধিকারের দাবীদার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন এ অঞ্চলের লোকদের উপর আরোপিত সহিংসতার বিপরীতে নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।#