আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: বাহরাইনের জনগণের সরকার বিরোধী আন্দোলনের ৬৬তম দিন ছিল গতকাল।
বাহরাইনের গণ আন্দোলনের বিভিন্ন ঘটনার উপর বিশেষ রিপোর্ট:
- বিভিন্ন অঞ্চলে রাতের আঁধারে তাকবির ধ্বনি প্রদান অব্যাহত
প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার রাতেও বাহরাইনের বিভিন্ন শহর ও গ্রাম হতে তাকবির ধ্বনি শোনা গেছে। তারা এ তাকবির ধ্বনির মাধ্যমে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবী’র আন্দোলন অব্যাহত থাকার বিষয়টি ঘোষণা করছে।
- স্কুল ছাত্রীদেরকে হিজাব ত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে
বাহরাইনী সৈন্যরা গত তিন দিন পূর্বে ‘ইয়াসরাব গার্লস স্কুলে’ হামলা চালিয়েছে। তারা এ সময় স্কুল ছাত্রীদের চোখ বাঁধার পর তাদেরকে হিজাব খুলে ফেলতে বাধ্য করে।
স্বৈরাচারী সরকারী সৈন্যরা প্রথমে ইয়াসরাব স্কুলটিকে ঘিরে ফেলে এবং বাইরে ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে এ স্কুলের আশেপাশে বসবাসকারীদের উক্ত এলাকায় প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে।
তারা এ স্কুলের ৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতর হলেন:
১। দাল্লাল আব্দুল আযিয।
২। নেদা আল হাদ্দাদ।
৩। মাজেদাহ আল মুসাভী।
৪। হামিদা আল উসফুর।
৫। আমাল আব্দুল হুসাইন।
৬। যাকিয়া (আরবী শিক্ষিকা)।
৭। যাহরা (ইংরেজী শিক্ষিকা)।
৮। মাহদিয়্যাহ।
৯। খাদিজা সাঈদ।
- বাহরাইনের বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের কুয়েতে প্রবেশের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ
বাহরাইনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক বাহরাইন ত্যাগ করে কুয়েত বিমানবন্দরে পৌঁছার পর তাদেরকে এদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয় নি। তাদেরকে বহনকারী বিমান কর্তৃপক্ষকে তাদেরকে পূনরায় বাহরাইনে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পার্ল স্কয়ারে সরকার বিরোধী অবস্থান ধর্মঘট পালন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণের অপরাধে তাদের সাথে এ ধরণের আচরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুয়েত কর্তৃপক্ষ।
এমতাবস্থায় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, যখন ইতিপূর্বে স্বৈরাচারী আলে খলিফা সরকারের বাহিনী ও সৌদি সেনাবাহিনী’র প্রচন্ড চাপের মুখে এবং হুমকির মুখে প্রায় ৪ হাজার বাহরাইনী এদেশ ত্যাগ করে বিভিন্ন পথে কুয়েতে অবস্থানরত তাদের আত্মীয়-স্বজনের নিকট যেয়ে উপস্থিত হয়। অথবা এদেশের বিভিন্ন মসজিদ ও দাতব্য প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় গ্রহণ করে।
এ অবস্থায় কুয়েতের আইন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা মুহাম্মাদ রাশেদ বু হামুদ ঘোষণা করেছেন যে, আমাদের নিকট কুয়েতে প্রবেশ নিষিদ্ধ এমন কোন ব্যক্তিদের তালিকা নেই। আর প্রকৃতপক্ষে কোন দেশও এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে না।
কিন্তু কুয়েত পার্লামেন্টের স্বতন্ত্র সদস্য সাইয়্যেদ জামিল কাযেম নিষিদ্ধ ব্যক্তিদের তালিকা থাকার কথা সত্যায়িত করে বলেন: দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্বীকৃতির বিষয়টিতে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
- বাহরাইনে আরো কয়েকটি মসজিদ ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে
বাহরাইনের স্বৈর শাসক এদেশের জনগণকে দমন করতে ব্যর্থ হয়ে এবার এদেশের জনগণের সমবেত হওয়ার সকল স্থান এবং শিয়াদের সকল নিদর্শনকে মুছে ফেলতে উঠে পড়ে লেগেছে।
প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে যে, বাহরাইন ও সৌদি সৈন্যরা গত মঙ্গলবার বিকেল হতে গতকাল অবধি আরো কয়েকটি মসজিদ ভেঙ্গে দিয়েছে।
যে সকল মসজিদ ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে তন্মধ্যে আল উস্তা প্রদেশের ‘আল আকার’ মসজিদটি অন্যতম।
সৌদি ও বাহরাইনী সৈন্যরা গত মঙ্গলবার ‘আদ দিয়া’ শহরে অবস্থিত ‘আল আনওয়ার’ মসজিদটি ভেঙ্গে দেয়ার পর জনগণ যাতে এর প্রতিবাদে সমবেত না হতে পারে সে লক্ষ্য ব্যাপক পরিমাণে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করে।
এদিকে ‘আন নুওয়াইদুরাত’ শহরে বাহরাইনের সর্ববৃহৎ ‘আল মু’মিন’ মসজিদটিকেও ভেঙ্গে দিয়েছে সৌদি সেনারা।
- বাহরাইনের গণ বিপ্লব দমন করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা হুমকির সম্মুখীন হবে
বাহরাইনের এক গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক বাহরাইনে আন্দোলনরত জনতার উপর দমনমূলক আক্রমনের কথা উল্লেখ করে বলেছেন যে, এ ধরণের পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দেবে।
জনাব কারিম আল মাহরুস বলেন: শাসক পরিবার, বাহরাইনের সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যাবলীর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত। আর আলে খালিফা পরিবারটি সর্বদাই জনগণ বিরোধী ছিল।
- বাহরাইনের সক্রিয় ব্যক্তিত্বদের হত্যার নিন্দায় ইউরোপীয় সংসদ
ইউরোপীয় সংসদের স্পিকার বাহরাইনে দু’জন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব নিহত হওয়ার ব্যাপারে এক বিবৃতি প্রদান পূর্বক এ হত্যাযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে।
স্পীকার জনাব বুজেক তার এ বিবৃতি উল্লেখ করেছেন যে, বাহরাইনের পুলিশ বাহিনী কর্তৃক আলী ঈসা সাকার ও যাকারিয়া রাশেদ হাসানের নিহত হওয়ার বিষয়টি কোনভাবে মেনে নেয়া যায় না।#