৮ অক্টোবর ২০১১ - ২০:৩০

মদিনার ওয়াহাবী খতিব শিয়াদের প্রতি এক অবমাননাকর মন্তব্যে শিয়াদেরকে ইসলাম বহির্ভূত বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সৌদি আরবের সরকার কর্তৃক এদেশের শিয়াদের উপর ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন, এমনকি জামাতের সাথে নামায আদায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা উল্লেখ না করে বলেন : শিয়ারা সৌদি আরবে পরিপূর্ণ অধিকার ভোগ করে, আর এ সরকারের পক্ষ হতে সীমাহীন সুবিধা তারা ভোগ করছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সৌদি আরবের শিয়া অধ্যুষিত অঞ্চলসমূহে জনগণের বিক্ষোভের ধারাবাহিকতায় সৌদি আরবের ওয়াহাবী আলেমগণ ‘আব্দুল আযিয আলুশ শেইখ’ ও ‘শেইখ আলী আল-হুযাইফী’ গত শুক্রবার রিয়াদ ও মদিনায় অনুষ্ঠিত জুমআর খোতবায় শিয়াদের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য এবং সকল মুসলমান ঐকমত্য পোষণ করে এম বিষয়ের প্রতি অবমাননা করেছে।

মসজিদুন নববীতে প্রদত্ত খোতবায় হুযাইফী শিয়াদেরকে রাফেজী আখ্যায়িত করে অবমাননাকর মন্তব্য করে বলেন : শিয়ারা হচ্ছে রাফেজী এবং তারা ইসলাম ধর্ম হতে বেরিয়ে গেছে, মহানবী (স.) এর আহলে বাইত তাদের হতে সম্পর্কোচ্ছেদ করেছেন।

তিনি ইমামে যামানা (আ. ফা.) এর অস্তিত্বকে এক রকম অস্বীকার করে –যাঁর সম্পর্কে সকল ইসলামি মাযহাবই ঐকমত্য পোষণ করে- উপহাস ব্যাঞ্জক সূরে বলেন : শিয়ারা যদি ‘ইবনুল হাসান আল-আসকারী’ তথা আবু সালেহে’র বেলায়েত (নেতৃত্ব) চায় তবে তার নিকটে যাওয়া তাদের জন্য উত্তম হবে।

তিনি বলেন : বেলায়েতে ফকীহ, ‘আবা সালেহ (ইমাম মাহদী আ.) এর প্রতি বিশ্বাস হতে গৃহীত একটি মন্দ বিষয় –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : ‘শিয়ারা তাদের পদক্ষেপসমূহ ও বিদ্রোহকে ‘আবা সালেহে’র নামে আঞ্জাম দেয়, কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে যে, সে এখনো পৃথিবীতে আসেনি!”

হুযাইফী পরোক্ষভাবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নাম উল্লেখ না করে ইরানের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অপবাদ দিয়ে বলেন : ‘একটি দেশ যুবকদেরকে বিশৃংখলা সৃষ্টির প্রতি আমন্ত্রণ জানায়। তাদের উচিত নিজেদের জাতি ও সমাজের সংশোধনের দিকে মনোযোগী হওয়া এবং মুসলিম বিশ্বের আলেমগণের উচিত সৌদি আরবে সংঘটিত বিশৃংখলার নিন্দা জানানো”।

সৌদি আরবে শিয়াদের সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণের কথা উল্লেখ না করেই তিনি বলেন : সৌদি আরবের শিয়ারা এদেশে তাদের পরিপূর্ণ অধিকার ভোগ করছে এবং এ সরকার হতে অসীম সুবিধা তারা লাভ করছে।

মসজিদুন নববী’র (স.) খতিব বাহরাইনের অভ্যন্তরিন বিষয়ে সৌদি আরবের হস্তক্ষেপের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে বলেন : বাহরাইনের সৃষ্ট টানাপোড়ন কিছু কিছু দেশের হস্তক্ষেপের কারণে দীর্ঘায়িত হচ্ছে। বাহরাইন সরকার এদেশকে বিপর্যয় হতে রক্ষা করার জন্য সৌদি সরকারের প্রতি সহযোগিতার আহবান জানিয়েছিল।

উল্লেখ্য, মসজিদুন নববী’র (স.) খতিব আল-হুযাইফী এহেন খোতবা এমতাবস্থায় প্রদান করলেন যখন বিশ্বের সকল মুসলমানের জন্য এ বিষয়টি স্পষ্ট যে, সৌদি আরবে শিয়া মুসলমানদের উপর এদেশের স্বৈরাচারী সরকার ও উগ্র ওয়াহাবীরা কিভাবে নির্যাতন চালাচ্ছে। যদিও তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সৌদি আরবের শিয়ারা এদেশের পরিপূর্ণ অধিকার ভোগ করে থাকে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় এদেশের শিয়া মুসলমানদেরকে তাদের সামান্যতম অধিকারটুকুও দেয়া হয় না। সারা বিশ্বে আজ ধর্ম ও বাক স্বাধীনতার শ্লোগান উঠলেও সৌদি আরবে এর ছিটেফোঁটাও নেই। শিয়াদেরকে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি স্বাধীনভাবে পালন করতে তো দেয়াই হয় না, এমনকি একটি মুসলিম দল হিসেবে জামাতের সাথে নামায আদায়ের যে ন্যূনতম অধিকার শিয়াদের প্রাপ্য তা হতেও তারা বঞ্চিত। বিগত কয়েক বছর ধরে উগ্র ওয়াহাবী গোষ্ঠী’র উস্কানীতে এদেশের স্বৈরাচারী সরকার এদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিয়া মসজিদে তালা ঝুলানোসহ বাড়ীতেও জামাতের নামায আদায়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

বলাবাহুল্য, এদেশের যে সকল অঞ্চলে বিক্ষোভ হয়েছে তা শুধুমাত্র শিয়াদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এদেশের অনেক সুন্নি ব্যক্তিত্বরাও সৌদি সরকারের ব্যাপারে বিরূপ মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন।#