১২ মার্চ ২০১২ - ২০:৩০

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইউরোপে বসবাসরত অন্যান্য জাতির ন্যায় মুসলমানদের জীবনের নিরাপত্তা দান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসমূহের কর্তব্য। এ বিবৃতিতে ইউরোপীয় সরকারসমূহের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয়েছে, যাতে ফেতনা সৃষ্টিকারীরা সাধারণের জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে না দিতে পারে এবং এহেন অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের নাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়। এ বিবৃতিতে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদেরকে ধৈর্য ধারণের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অবস্থিত ইমাম রেজা (আ.) মসজিদে উগ্র সন্ত্রাসী ওয়াহাবীদের নৃশংস হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। উক্ত হামলায় ঐ মসজিদের পেশ ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ‘শেইখ আব্দুল্লাহ দাহদুহ’ শাহাদাত বরণ করেছেন এবং অপর কয়েকজন মুসল্লি আহত হয়েছেন।

ইউরোপে বসবাসরত অন্যান্য জাতির ন্যায় মুসলমানদের জীবনের নিরাপত্তা দান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসমূহের কর্তব্য। এ বিবৃতিতে ইউরোপীয় সরকারসমূহের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয়েছে, যাতে ফেতনা সৃষ্টিকারীরা সাধারণের জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে না দিতে পারে এবং এহেন অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের নাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়। এ বিবৃতিতে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদেরকে ধৈর্য ধারণের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত বিবৃতি নিম্নে উল্লেখ করা হল :

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

من المؤمنین رجال صدقوا ما عاهدو الله علیه فمنهم من قضی نحبه ومنهم من ینتظر وما بدلو تبدیلا. (سوره الاحزاب : 23)

“মু’মিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদা পূর্ণ করেছে। তাদের কেউ কেউ মৃত্যুবরণ করেছে এবং কেউ কেউ প্রতীক্ষা করছে। তারা তাদের সংকল্প মোটেই পরিবর্তন করেনি”। [সূরা আল আহযাব : ২৩]

পূনরায় আল্লাহর গৃহ ও মহান প্রভুর ইবাদতের স্থান মসজিদের অবমাননা করা হয়েছে এবং অন্যায়ভাবে এক ধর্মীয় আলেমের রক্ত মসজিদের মেহরাবে ঝরানো হয়েছে। ওয়াহাবীদের ভাড়াটে একটি দলের হামলায় ব্রাসেলসের ইমাম রেজা (আ.) মসজিদ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে এবং ঐ মসজিদের পেশ ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ‘শেইখ আব্দুল্লাহ দাহদুহ’ নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেছেন।

নৃশংস এ ঘটনা, যে কোন স্বাধিন ব্যক্তি এবং মুসলমানদের অন্তরকে মর্মাহত করেছে। স্পষ্ট যে, এ ধরনের বর্বর ও হিংস্র হামলার সাথে উগ্র ওয়াহাবীরা এবং সন্ত্রাসী চক্র আলকায়েদা জড়িত। যারা বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ এবং সৌদি আরব, জায়নবাদী ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের মত দেশের সহযোগিতায় এ ধরনের কাপুরুষোচিত অপরাধকর্মে লিপ্ত হয়।

পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরাক, বেলজিয়ামসহ অন্যান্য দেশে এ ধরণের অপরাধের সহযোগিতাকারীরা মানবতার শত্রু। যারা বিভিন্ন বানোয়াট ফতওয়া প্রদানের মাধ্যমে, নিজেকে বিক্রয়কারী ও মূর্খ লোকদেরকে নিরাপরাধ জনগণ হত্যা এবং মসজিদ ও ইবাদতের স্থানসমূহে অগ্নিসংযোগ করার জন্য উস্কে দেয়।

(মনগড়া ও জাল ফতওয়া দানকারী) ঐ সকল আলেমরূপী ব্যক্তিরা হিংস্র রক্তপিপাসু খেয়ানতকারীদের কর্মে অংশীদার। গতকাল এশিয়াতে এবং আজ ইউরোপে এ ধরণের মানবতা বিরোধী ও ঘৃন্য কাজে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে এ সকল অন্ধ হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্য হচ্ছে বিশ্বের বুকে ইসলামের ভাবমূর্তিকে নষ্ট করা এবং ইউরোপের মুসলমানদের মাঝে ফেতনা ও বিভেদ সৃষ্টি করা। তারা ইউরোপের মুসলমানদের অন্যান্য ধর্মের অনুসারীদের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বিষয়টিকে সহ্য করতে পারে নি, এমন পরিস্থিতিতে যখন ঐক্যের প্রয়োজন তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে, তখন তারা মুসলমান ও অন্যান্য আসমানী ধর্মের অনুসারীদের মাঝে ঘৃনা, বিভেদ শত্রুতা সৃষ্টির জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থার সাধারণ পরিষদের সদস্য ও ব্রাসেলসের ইমাম রেজা (আ.) মসজিদের পেশ ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন জনাব শেইখ আব্দুল্লাহ দাহদুহ-এর মর্মান্তিক শাহাদাতে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীরা অত্যন্ত মর্মাহত। এ মর্মান্তিক ঘটনাকে আমরা, যুগের ইমাম হযরত ইমাম মাহদী (আ. ফা.), বেলজিয়ামের মুসলিম সমাজসহ সকল মুসলিম সমাজ, ইমাম রেজা (আ.) মসজিদ কমিটি এবং শহীদ পরিবারের প্রতি শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

শহীদ শেইখ আব্দুল্লাহ দাহদুহ, অন্ধ হৃদয়ের অধিকারী সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত হামলায় শাহাদাত বরণ করেছেন। গোঁড়ামী, মূর্খতা তাদেরকে অন্ধ করে ফেলেছে, আর তাই তো আল্লাহ হতে বিমূখ এ সকল অপরাধীরা নিরাপরাধের রক্ত ঝরানোকেও মুবাহ বলে জ্ঞান করে। হুজ্জাতুল ইসলাম আব্দুল্লাহ দাহদুহ ইসলাম ও মুসলমানদের সেবাকে নিজের জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আর এ কারণেই তিনি ওয়াহাবী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে শাহাদাত বরণ করলেন।

ইউরোপে বসবাসরত অন্যান্য জাতির ন্যায় মুসলমানদের জীবনের নিরাপত্তা দান ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশসমূহের কর্তব্য। এ বিবৃতিতে ইউরোপীয় সরকারসমূহের প্রতি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয়েছে, যাতে ফেতনা সৃষ্টিকারীরা সাধারণের জনগণের নিরাপত্তা ও জীবনকে হুমকির মুখে ঠেলে না দিতে পারে এবং এহেন অমানবিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশের নাম ও ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়।

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থা, নৃশংস ও মর্মান্তিক এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পষ্ট ভাষায় আহলে বাইত (আ.) এর সকল অনুসারীকে ধৈর্য ধারণের প্রতি আহবান জানাচ্ছে। সবাইকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে যেন নিরাপরাধ এ শহীদের রক্তের প্রতিশোধ নিতে কেউ যেন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করে অন্যের অসন্তুষ্টির কারণ না হয়। হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনার তদন্ত আইন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে।

পরিশেষ ঐ শহীদের জন্য মহান আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি এবং তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের ধৈর্য প্রার্থনা করছি। এ আলেমের শাহাদাত বেলজিয়ামসহ ইউরোপের মুসলিম সমাজে ঐক্য আরো দৃঢ় হওয়ার কারণ হবে বলে আমরা আশাবাদী।

ওয়াস সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

আহলে বাইত (আ.) বিশ্ব সংস্থা,

১৩/০৩/২০১২