আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : অস্ট্রিয়ান শিয়া সমাজের নেতা ও পেশ ইমাম হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন জনাব মাহমুদ মুন্তাযারী হযরত মুহাম্মদ মুস্তাফা (স.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী তথা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) এর লঘ্নে বলেছেন : ইসলামভীতি প্রসারের প্রকল্প এবং সম্প্রতি বছরগুলোতে মহানবী (স.) এর প্রতি অবমাননার উল্টো প্রতিফলন ঘটেছে এবং এর কারণে ইউরোপীয়রা বর্তমানে ইসলামের প্রতি পূর্বের তুলনায় অধিক আকৃষ্ট হচ্ছে।
তিনি বলেন : মহানবী (স.) ও ইসলাম ধর্মের উপর এ সকল অবমাননা মুসলমান এবং মুসলিম বিশ্বের ঐকবদ্ধ হওয়ার কারণ হয়েছে।
সমগ্র ইউরোপ ব্যাপী মহানবী (স.) এর পরিচয় তুলে ধরার লক্ষ্যে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা’তে অবস্থিত ইমাম আলী (আ.) ইসলামি কেন্দ্রের কার্যক্রমের বিষয়ে হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমীন মুন্তাযারী বলেন : এ কেন্দ্রের আওতায় শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক একটি বিভাগ তত্পর রয়েছে। এতে প্রতিবছর মহানবী (স.) এর ব্যক্তিত্বের পরিচিতি তুলে ধরা এবং অন্যান্য ইসলামি বিষয়ে দুই সেমিষ্টারে বিভিন্ন ক্লাসের ব্যবস্থা করা হয়।
তিনি বলেন : এছাড়া জ্ঞানের নগরী কোমের বিশিষ্ট উস্তাদের তত্ত্বাবধানে শিশু-কিশোরদের জন্য বিভিন্ন শর্ট কোর্সেরও ব্যবস্থা করা হয়। এ পর্যন্ত ৬টি কোর্সের আয়োজন করা হয়েছে এবং এ সকল কোর্স মুসলমানদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগাতে সক্ষম হয়েছে। এ সকল ক্লাসে বিভিন্ন জাতীয়তার ছাত্ররা অংশগ্রহণ করছে।
তিনি শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগ কর্তৃক জার্মান ভাষায় পবিত্র কুরআন অনুবাদের বিষয়ে গৃহীত পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে বলেন : আমাদের দৃষ্টিতে মহানবী (স.) এর প্রকৃত পরিচয় তুলে ধরার সর্বোত্তম পথ হচ্ছে তার উপর লেখা গ্রন্থসমূহ উপস্থাপন করা।
তিনি বলেন : জার্মান ভাষায় পবিত্র কুরআন অনূদিত ও প্রকাশিত হয়েছে, কিন্তু পবিত্র কুরআনের কোন তাফসীর এখনো জার্মান ভাষায় প্রকাশিত হয়নি; এ কারণে প্রাথম পদক্ষেপ হিসেবে ৩০তম পারা, সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারাহ’র কিছু অংশ জার্মান ভাষায় তাফসীর এবং বর্তমানে তা প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে।
ভিয়েনাতে অবস্থিত ইমাম আলী (আ.) ইসলামি কেন্দ্রের অন্যান্য কর্মসূচীর কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন : এ কেন্দ্র অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তত্পরতার মধ্যে রয়েছে এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। বিদ্যমান পরিসংখ্যান হতে বলে দেয় যে, সম্প্রতি মহানবী (স.) এর প্রতি অবমাননা ইসলামের শত্রুদের জন্য হিতেবিপরীত হয়েছে এবং অমুসলিমদের ইসলাম ধর্ম গ্রহনের প্রতি আকর্ষণ পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি বলেন : ২০০৯ সালে ১৯ জন, ২০১০ সালে ২৯ জন এবং ২০১১ সালে ৩৫ জন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সর্বশেষ পরিসংখ্যানের দিকে দৃষ্টি দিলে স্পষ্ট হয় যে, অস্ট্রিয়ার বিগত ৪০ বছরে অস্ট্রিয়ার মুসলমানদের সংখ্যা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
১৯৭১ সালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এ দেশের মুসলমানদের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ২৬৭ জন। বর্তমানে এদেশে ৫ লক্ষাধিক মুসলমান বসবাস করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৮১ সালে ৭৬ হাজার ৯৩৯ জন, ১৯৯১ সালে ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৭৭৬ জন, ২০০১ সালে ২ লক্ষ ৩৮ হাজার ৯৮৮ জন মুসলমান অস্ট্রিয়ায় জীবন যাপন করতো এবং ২০১১ সালের পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এদেশের মুসলমানদের মোট সংখ্যা ৫ লক্ষ অতিক্রম করেছে।
বলাবাহুল্য, দীর্ঘ ১০০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্মকে এদেশের স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং বর্তমানে কোন ধর্মের অনুসারী’র সংখ্যার দিক থেকে এদেশের দ্বিতীয় ধর্ম হিসেবে বিবেচিত। অস্ট্রিয়ায় ২৫০টি মসজিদ, নামাযখানা এবং ইসলামি সংস্থা রয়েছে। এদেশের শতকরা ৪৯ ভাগ মুসলমান অস্ট্রিয়ার নাগরিক। বর্তমানে প্রায় ৫০ থেকে ৭০ হাজার শিয়া অস্ট্রিয়ায় শিয়া মাযহাবের অনুসারী।#