বার্তা সংস্থা আবনা : সাভারে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া ভবন রানা পাজা অপসারণে শুরু হয়েছে যন্ত্রপাতির ব্যবহার। তবে সীমিত আকারে। শনিবার দুপুর থেকে ধ্বংসস্তূপের একটি অংশে ভারি যন্ত্রপাতির ব্যবহার শুরু হয়। ঘটনার চারদিন পরও শনিবার ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও ২৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত লাশ উদ্ধার হয়েছে মোট ৩৫২টি। ধ্বংসস্তূপে মিলছে প্রাণের স্পন্দন। তাই পুরোপুরি ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহারে আরও কিছুটা সময় নিতে চান উদ্ধারকাজে নেতৃত্বদানকারী সেনা কর্মকর্তারা। ভবনে আটকে পড়াদের ভাগ্যে কি আছে তা কেউ বলতে পারছেন না। তারা কতক্ষণ টিকবেন? নাকি মৃত্যুকূপের দেওয়ালে ঘুরে ফিরবে তাদের শেষ নিঃশ্বাস? প্রশ্ন ঘুরে ফিরছে সাভারের রানা পাজার সামনে স্বজনদের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের মুখে মুখে। এ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করা সম্ভব না হলে শেষ পর্যন্ত যন্ত্রদানবের চাপায় তাদের প্রাণ যাবে। শনিবার ধসেপড়া ওই ভবনের আশপাশ থেকে সাধরণ মানুষকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এমনকি ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজে অংশ নেয়া অনেক সাধারণ মানুষকেও বের করে দেয়া হয়েছে। প্রায় এক বর্গ কিলোমিটার এলাকা এখন সেনাবাহিনী ও আইনশৃংখলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। শুক্রবার রাত ১টা পর্যন্ত উদ্ধার করা লাশের সংখ্যা ছিল ৩১৮টি। এসব লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ৩০৩টি লাশ। বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ৩৮টি লাশ পাঠানো হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে। বাকি ৬টি লাশ রয়েছে সাভার থানা পুলিশের হেফাজতে। উদ্ধারকর্মীরা বলছেন, রানা পাজার বিভিন্ন তলায় এখনও কয়েকশ’ মানুষ আটকে আছে। তাদের বিভিন্নভাবে খাবার পানি, অক্সিজেন ও খাবার স্যালাইন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন তলায় এখনও অনেক লোকের উপস্থিতি টের পাওয়া গেছে। কিন্তু কংক্রিটের প্রতিবন্ধকতার কারণে তাদের কাছে কোন ধরনের সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। সে সব কংক্রিট ভেঙে তাদের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে গেলে আরও অনেকের প্রাণহানির সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন, ঘটনার পর শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত তারা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় এখন পর্যন্ত উদ্ধার করেছেন ২ হাজার ৩৮০ জনকে। ধ্বংসস্তূপের বিভিন্ন তলায় প্রায় ২৫টি সুড়ঙ্গপথ তৈরি করে আহত ও নিহতদের নিয়ে আসা হচ্ছে। এর মধ্যে গুরুতর আহত অবস্থায় সহস্রাধিক নারী-পুরুষ রাজধানী এবং সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, শনিবার পর্যন্ত বিধ্বস্ত ওই ভবনের অন্তত ২৫টি স্থানে ড্রিল করে তারা উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। এসব সুড়ঙ্গপথ দিয়েই মূলত আহত ও নিহতদের উদ্ধার করা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ সাদেক জানান, তৃতীয় তলার একটি স্থানে ১৬ জন জীবিত রয়েছে। এছাড়াও ৪র্থ তলার একটি স্থানে আরও ২৪ জনের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের কাছে কোন ধরনের খাবার পানি পাঠানো যাচ্ছে না। তবে একটি দেওয়াল ছিদ্র করে তাদের কাছে খাবার পানি ও অক্সিজেন পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তাদের এখনই উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ একটি দেওয়াল তাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। ওই দেওয়াল ভেঙে গেলে তাদের ওপর ভবন ধসে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, আটকে পড়া লোকজনের সঙ্গে দেওয়ালের এক পাশ থেকে কথা বলে ধারণা করা হচ্ছে তারা খুব ক্লান্ত। তাদের মুখ থেকে খুব বেশি জোরে কথা বের হচ্ছিল না। অতি দ্রুত তাদের কাছে খাবার, পানি ও অক্সিজেন পাঠান সম্ভব না হলে যে কোন সময় তাদের মৃত্যু ঘটতে পারে।
চিকিত্সকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে খাবার-পানি ছাড়া একজন সুস্থ মানুষ ১২০ ঘণ্টা বাঁচতে পারেন। কিন্তু রানা পাজা ভেঙে পড়ার আজ পার হয়ে গেছে প্রায় চার দিন। প্রশ্ন উঠেছে ভবনের ভেতরের আলো-বাতাস ছাড়া পরিবেশে চতুর্থ দিন পার হওয়ার পরও মানুষ বেঁচে থাকবে? যারা বেঁচে থাকবে তারাও কতক্ষণ বেঁচে থাকবে তারাও কতক্ষণ থাকবে তাও সঠিকভাবে বলতে পারছে না সংশ্লিষ্টরা। চিকিসকরা জানান, একদিকে মৃত্যুভয় অন্যদিকে বেঁচে থাকার আশা। তারপরও রয়েছে শারীরিক ক্ষত। আবার পাশেই পড়ে আছে তিন-চারদিন আগের মরদেহ। শনিবার সকালে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া চারতলার মেশিন অপারেটর সোলায়মান জানান, বুধবার সকাল নয়টার দিকে হঠাত বিদ্যুত চলে যায়। এরপর জেনারেটর চালু হওয়ার পর হঠাত একটি শব্দ হয়। এরপর তিনি একটি পিলারের পাশে চলে যান। ওয়াল ভাঙার পর কিছুক্ষণ বাতাস পাওয়া যায়। এরপর বাতাসও বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ২ দিন ধরে উদ্ধারকর্মীরা তাকে খাবার পানি ও স্যালাইন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখে। সর্বশেষ সকালে তাকে উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, তাকে যে স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে তার পাশের আর একটি পিলার ও দেওয়ালের মধ্যে আরও সাতজন জীবিত অবস্থায় রয়ে গেছে। তারা শারীরিকভাবে খুব ক্লান্ত।
শ্রমিক বিক্ষোভ-সংঘর্ষ : এদিকে উদ্ধার অভিযানের মধ্যে শনিবার ভবন ধসের জন্য দায়ীদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভরত পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। রানা পাজার প্রায় এক কিলো