১৩ ডিসেম্বর ২০১৩ - ২০:৩০
কারবালা একটি বিশ্ববিদ্যালয়

মুনিরা পাঁপড়ী

গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন সর্বযুগে মানুষের মনে উঁকি দিয়েছে; কেন সকল ইমামগণ (আলাইহিমুস সালাম) ইমাম হুসাইন (আ.) এর শাহাদতের বিষয়টিকে জিঁইয়ে রাখার জন্য এত বেশী চেষ্টা চালিয়েছেন? কেন আমরা মহররম ও সফর মাসকে এত গুরুত্বের সাথে স্বাগত জানাই?

নিশ্চয়ই শুধুমাত্র নবী পরিবারের মজলুমিয়্যাতকে তুলে ধরার জন্য নয়, বরং এ ঘটনার মাঝে এমন কিছু শিক্ষা নিহিত রয়েছে যা মানবজাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দিতে পারে। প্রতি বছর আযাদারীর মাধ্যমে আমরা সেই শিক্ষাগুলোকে খুঁজে নিতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন পবিত্র এ মাস দু’টিতে সংঘটিত ঘটনাবলীর প্রতি বিশেষ মনসংযোগ করে নিজ বুদ্ধিবৃত্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা।

ইমাম হুসাইন (আ.) তখন মানব জাতির জন্য মুক্তির পথের সন্ধান দিয়েছেন যখন বেদআত উজ্জীবিত হয়েছিল, সুন্নতে নববীকে সমাজ হতে মুছে ফেলার নোংরা চেষ্টা চালানো হচ্ছিল। তত্কালীন মুসলমানরা নিজেদের জীবন ধারণের জন্য শুধুমাত্র কিছু হাদীসকে আঁকড়ে ধরেছিল, যা হয়তবা আদৌ সহিহ ছিল না।

মসজিদগুলো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (স.) এর গুণগানের স্থলে বনি উমাইয়া, মুয়াবিয়া ও ইয়াজিদের গুণগানের স্থানে পরিণত হয়েছিল। আর সবচেয়ে জঘন্য যে কাজটি মসজিদে আঞ্জাম পেত তা হল নবী পরিবারের প্রতি গালী-গালাজ; সেই আহলে বাইতের বিরুদ্ধে কথা বলা হত, যাদের প্রতি ভালবাসা পোষণ পবিত্র কোরআনে ওয়াজিব করা হয়েছে।

নবী পরিবারের উপর অত্যাচার ও তাদের অধিকার হরণ মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর ইন্তেকাল এবং হযরত আলী (আ.) এর ন্যায্য অধিকার ‘খেলাফত’কে নিয়ে নেয়ার মাধ্যমে শুরু হয়। নবী পরিবারের বিরুদ্ধে এত তীব্রভাবে অপপ্রচার চালানো হত যে, শামের অধিবাসীরা এটাও জানতো না যে, হযরত আলী (আ.) নামায পড়তেন!

মূল প্রশ্নের দিকে ফিরে যাই; কেন ইমাম হুসাইন (আ.) এর কারবালা ট্রাজেডিকে শত শত বছর পরও মানুষ স্মরণ করে, কেন মানুষ তাঁর দুঃখের কথা স্মরণ করে অশ্রু ঝরায়? কেন সকল ইমামগণ (আলাইহিমুস সালাম) ইমাম হুসাইন (আ.) এর শাহাদতের বিষয়টিকে জিঁইয়ে রাখার জন্য এত বেশী চেষ্টা চালিয়েছেন? কেন আমরা মহররম ও সফর মাসকে এত গুরুত্বের সাথে স্বাগত জানাই?

কারবালার ঘটনায় ইমাম হুসাইন (আ.) মানবজাতির জন্য বিভিন্ন শিক্ষা রেখে গেছেন। আর এ শিক্ষাই তাঁকে (আ.) চির অমর করে রেখেছে। যে সকল শিক্ষা কারবালা হতে আমরা লাভ করেছি তার সবটা এ ক্ষুদ্র লেখনিতে স্থান দেয়া সম্ভব নয়। তবে ঐ শিক্ষাসমূহের মধ্যে থেকে কয়েকটি নিম্নে উল্লেখ করছি:

(১) ইমাম হুসাইন (আ.) কারবালার ময়দানে নিজেকে, নিজের পরিবার এবং সাথীদেরকে উত্সর্গ করার মাধ্যমে ঐ সকল ব্যক্তিদেরকে বিশেষ শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তওহিদ তথা একত্ববাদের প্রতি যাদের বিশ্বাস নড়বড়ে। তিনি আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানব জাতিকে অবগত করেছেন যে, মহান আল্লাহ এমন এক অস্তিত্ব যার জন্য সকল কিছুকে বিসর্জন দেয়া যায়। নিঃসন্দেহে তিনি (আল্লাহ্) অস্তিত্বমান, যদি তাঁর অস্তিত্ব না থাকত তবে কার জন্য তিনি এ মহান আত্মত্যাগ।

(২) কারবালার অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে যুগের ইমামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চলা। অর্থাত না ইমামের চেয়ে অগ্রগামী হওয়া, আর না ইমাম হতে পিছিয়ে পড়া। দৃষ্টান্ত স্বরূপ কারবালার সকল শহীদরা যেভাবে ইমাম (আ.) কে অনুসরণ করেছিলেন। বিশেষতঃ হযরত যায়নাব (সা. আ.), হযরত আব্বাস (আ.) ও হযরত আলী আকবার (আ.)সহ অন্যান্য সাহাবীরা ইমাম হুসাইন (আ.) কে নিজের ভাই